Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১বুধবার , ২ মার্চ ২০২২
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন

ঠাকুরগাঁওয়ে বিলুপ্তির পথে শকুন 

আব্দুল আউয়াল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
মার্চ ২, ২০২২ ২:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অন্যান্য পাখিদের তুলনায় শকুন খুব ভালো শিকারি পাখি। শকুন তার দৃষ্টি দিয়ে খুব সহজেই পরিবেশ দূষণকারী জঞ্জালগুলো শিকার করে নেয়। শকুন মূলত মৃত প্রাণীর ওপরই নির্ভরশীল। তাই শকুন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, প্রকৃতির ঝাড়ুদার, পরিবেশ রক্ষাকারী পাখি নামে পরিচিতি পায়।
এরা মৃত প্রাণীর মাংস খেয়ে বেঁচে থাকে। সাধারণত এরা অসুস্থ ও মৃতপ্রায় প্রাণীর চারদিকে উড়তে থাকে এবং প্রাণীটির মরার জন্য অপেক্ষা করে। এই পাখিগুলো সাধারণত তীক্ষ্ম দৃষ্টির অধিকারী। শকুনের গলা, ঘাড় ও মাথায় কোনো পালক থাকে না। প্রশস্ত ডানায় ভর করে আকাশে উড়ে। লোকচক্ষুর আড়ালে বড় বড় প্রাচীন বৃক্ষরাজিতে সাধারণত শকুন বাসা বাঁধে। গুহায়, গাছের কোটরে বা পর্বতের চূড়ায় ১-৩টি সাদা বা ফ্যাকাসে ডিম পাড়ে।
শ,শ,বছর ধরে শকুন প্রকৃতি থেকে মৃতদেহ সরানোর কাজ করে রোগব্যাধী থেকে মুক্ত পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। গবাধি পশুর মৃতদেহের রোগ-জীবাণু মরে না। এগুলো সংক্রমিত হয়। শকুন এগুলো খেয়ে ফেললে রোগ বিস্তার রোধ হয়। সারা বিশ্বে মোট ১৮ প্রজাতির শকুনের মধ্যে ৭ প্রজাতিই বাংলাদেশে পাওয়া যেত। তার মধ্যে বাংলা শকুন সবচেয়ে বেশি পরিচিত। কিন্তু হতাশার কথা, বিগত ৩ দশকে বাংলাদেশে প্রায় ৯৯ ভাগ শকুন মারা গেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের আগেও বাংলাদেশে প্রায় ৫০,০০০ এর চেয়ে বেশি শকুন ছিল। এখন হাতে গোনা ৫০০ শকুনও নেই।
গবাদিপশুর ব্যথানাশক চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক’ ও কিটোপ্রোফেনের’ এর ব্যবহার শকুন বিলুপ্তের প্রধান কারণ। এসব গরু, মহিষ, ছাগলের মৃতদেহ খেয়ে কিডনি নষ্ট হয়ে অল্প সময়ের মধ্যে শকুন মারা যায়। ডাইক্লোফেনাফ’ ও কিটোপ্রোফেন’ ওষুধ এতই মারাত্মক যে এর মাত্র ৩০ মিলিলিটার দিয়ে ৫০০ শকুন মারা সম্ভব। এছাড়া নগরায়নের ফলে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে প্রাচীন বনাঞ্চল। ফলে শকুনের আবাসস্থল হয়ে উঠছে হুমকিস্বরূপ।
বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, শকুন না থাকার কারণে বাংলাদেশে অ্যানথ্রাক্স, যক্ষ্মা, ক্ষুরা রোগ ইত্যাদি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার এবং জলাতঙ্ক রোগ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। শকুন না থাকায় গবাধিপশুর মৃতদেহ এখন শিয়াল, কুকুর, ইঁদুর, কাক, চিলসহ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী খাচ্ছে। এদের পেটে রোগ জীবাণু নষ্ট না হওয়ায় জঙ্গল ও জনপদে ছড়িয়ে পড়ছে এসব মারাত্মক ব্যাধি।
বার্তা/এন

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।