Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১বৃহস্পতিবার , ২৪ মার্চ ২০২২
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন

পুনাকের সহযোগিতায় সেই প্রতিবন্ধী শাহিদা পেলেন চাকরি

প্রতিনিধি, যশোর
মার্চ ২৪, ২০২২ ২:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মীর্জার সহযোগিতায় অবশেষে চাকরি পেয়েছেন যশোরের ঝিকরগাছার মাস্টার্স পাস করা শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহিদা খাতুন।  দেশের শীর্ষ আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান যশোরের নওয়াপাড়াস্থ আকিজ জুট মিলে এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে চাকরি হয়েছে তার।

প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে অনন্য নজির স্থাপন শাহিদার কর্মসংস্থান উপলক্ষে বুধবার (২৩ মার্চ) তার বাড়ি ঝিকরগাছার শিমুলিয়া গ্রামে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) যশোর জেলার এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে শাহিদার হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা।

এর আগে, শাহিদার পরিচালিত প্রতিবন্ধী শিশু ও নারীদের নিয়ে ‘সৃষ্টিশীল নারী প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার’ শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় অনেক প্রতিবন্ধী শিশুদের বুকে জড়িয়ে ধরে আদর আর কপালে চুম এঁকে দেন।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের খোঁজখবর নেওয়ার সঙ্গে তাদের চকলেট, নতুন পোশাক ও বিভিন্ন উপহার তুলে দেন।

দুটি পা ও একটি হাত না থাকা শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহিদা খাতুনের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে। মুদি দোকানি রফিউদ্দিনের ছয় সন্তানের মধ্যে শাহিদা চতুর্থ। দুটি পা আর একটি হাত না থাকলেও সচল বাকি হাত দিয়েই বাঁচার স্বপ্ন দেখেন শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহিদা খাতুন। প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন এলাকায়। জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী তরুণী প্রবল ইচ্ছাশক্তির ওপর ভর করে ২০১৫ সালে যশোর সরকারি এম এম কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেছেন মাস্টার্স। লেখাপড়ার পাশাপাশি শাহিদা হ্যান্ডিক্রাফট, সেলাইসহ বিভিন্ন হাতের কাজও করতে পারেন। নিজে প্রতিবন্ধী হয়েও অন্য প্রতিবন্ধীদের জন্য এগিয়ে আসেন তিনি। বাড়ির পাশে গড়ে তোলেন সৃষ্টিশীল নারী প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থা। ওখানেই প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা আর নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তুলছেন আত্মকর্মজীবী। একসময় প্রতিবেশীরা শাহিদার জন্মকে ‘পাপের ফল’ বলতেও কার্পণ্য করেনি। আজ তারা শাহিদাকে মেনে নিয়েছেন বিপদের বন্ধু হিসেবে। যেকোনো দরকারে ছুটে আসেন তারা শাহিদার কাছে। তার পরেও ইচ্ছাশক্তি বলে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়ায় হতাশ ছিলেন প্রতিবন্ধিতকা জয় করা শাহিদা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে শাহিদাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরে পুনাকের সভানেত্রী জীশান মীর্জার নজরে এলে তার আন্তরিক উদ্যোগে জেলা পুলিশ শাহিদার বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করে। ২২ মার্চ ও ২৩ মার্চ যশোর জেলা পুলিশ সমাবেশ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় যশোর আসলে বুধবার জেলা পুনাক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শাহিদার সঙ্গে দেখা করে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।

নিয়োগপত্র পেয়ে খুশিতে আত্মহারা শাহিদা খাতুন। তিনি বলেন, অবশেষে আমার একটা কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। পড়াশুনা শেষ হয়েও চাকরি না হওয়ায় আমি খুব দুঃচিন্তায় ছিলাম। প্রতিবন্ধী হিসেবে বাড়িতে পরিবারের কাছে বোঝা হিসাবে ছিলাম। তার পরে লেখাপড়া শেষ করেই আরো বোঝাটা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পুনাকের সভানেত্রীর কল্যাণে আমার একটা চাকরি হলো। এখন আমার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে পারবো। তারা যে আমাকে সীমাহীন শ্রম দিয়েছে। চাকরি হওয়ার ফলে এখন আমি তাদের দু’মুঠো ভাত খাওয়াতে পারবো; সেটা আমার জীবনে বড় পাওয়া। আমি চাকরিতে যোগদান করলেও আমার হাতে গড়া সৃষ্টিশীল নারী প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থা চলবে তার নিজস্ব গতিতে। কেননা আমি প্রতিবন্ধী এই বোনদের মধ্য দিয়ে সামনে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অনেকেই গড়ে তুলেছি।

পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মীর্জা বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে শাহিদাকে নিয়ে সংবাদ পড়েছি। তার অদম্য প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে অনন্য নজির স্থাপন করা আমাদের কাছে খুব ভালো লেগেছে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি অসহায় ও দুস্থদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। সেই ধারাবাহিকতায় শাহিদার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে পুনাক। উচ্চ শিক্ষিত হয়েও সে চাকুরি পাচ্ছে না; পুনাক শাহিদার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হওয়ায় পরিবারটি এখন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। উচ্চ শিক্ষিত আর প্রতিবন্ধীকতা জয় করে চাকরি না পাওয়ায় হতাশ ছিলেন শাহিদার বাবা মুদিদোকানি রফিউদ্দিন। অবশেষে পুনাকের সভানেত্রী জীশান মীর্জার সহায়তায় শাহিদার চাকরি হওয়ায় খুশি তিনি।

প্রথমেই পুনাকের সভানেত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, শাহিদার জন্মের পর অনেকে অনেক কটু কথা বলেছে। অনেকে মেরে ফেলতেও বলেছে। তারপরও অনেক কষ্ট করে বড় করেছি। তার কত রোদ, বৃষ্টি, ঝড় পার করে আজ সে উচ্চ শিক্ষিত। দীর্ঘদিন পরেও হলেও শাহেদা চাকরি পেয়েছে এটা সমাজের অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। শাহিদাকে সমাজের আর ১০টা প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়েও তাকে অনুসরণ করতে পারবে। তারাও লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে, সমাজের বোঝা হবে না।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।