Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১সোমবার , ১৬ মে ২০২২
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন

কিশোরগঞ্জ সদর আ’লীগের সম্মেলনকে ঘিরে উৎসাহ উদ্দীপনার বিপরীতে হতাশা ও ক্ষোভ

সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় - কিশোরগঞ্জ
মে ১৬, ২০২২ ৯:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মধ্যে একসময় সবচেয়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক ইউনিট হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পরিচিতি থাকলেও বর্তমান সময়ে গ্রুপিং ও কোন্দলে জর্জরিত হয়ে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। দেশের অন্যতম এই জেলা ইউনিটিতে সৃষ্টি হয়েছে যোগ্য নেতৃত্বের সংকট। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ার ফলে জেলার উপজেলা ইউনিটে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়নি। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জেলার ১৩টি উপজেলায় সম্মেলন না হওয়াতে প্রতিটি ইউপিতে দলীয় কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

এই পরিস্থিতি থেকে অতীতের সাংগঠনিক গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে কেন্দ্রীয়ভাবে নেয়া হচ্ছে না কার্যকর কোনো উদ্যোগ। সাংগঠনিক অচলাবস্থা নিরসনে গত মার্চ মাসে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) মির্জা আজম, কেন্দ্রের অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে জেলা কমিটির বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্টিত হয়। এতে চলমান গ্রুপিং ও কোন্দল নিরসনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কোন কার্যকর সিদ্ধান্ত আসেনি। উপজেলা ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত ইউপি সমূহের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বহাল রেখেই সদর এবং হোসেনপুর উপজেলা ইউনিটের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হয়। যা ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে গুরুতর প্রশ্নবিদ্ধ। কিশোরগঞ্জ সদর এবং হোসেনপুর উপজেলা আ’লীগের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি ইউনিয়নেই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে চলছে দলীয় কার্যক্রম। এসব কমিটির গ্রুপিং কোন্দলের কারনে গত ইউপি নির্বাচনে দুই উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে পরাজিত হয়েছে নৌকা মার্কার দলীয় প্রার্থী। এই দুইটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই সম্মেলনের দাবি জানিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে এ দুই উপজেলার সম্মেলন করলে চলমান গ্রুপিং কোন্দল নিরসনের বিপরীতে আরোও বৃদ্ধি পাবে বলেই আশঙ্কা করছেন অনেকেই। ফলে দুই উপজেলার নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অন্তর্ভুক্ত ইউনিট সমূহ মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদর উপজেলা ইউনিট। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন ৯৭ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সদর উপজেলা আ’লীগের অন্তর্ভুক্ত ১১টি ইউনিয়ন কমিটিতে নিয়মিত সম্মেলন হলেও বর্তমানে প্রতিটি কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। জেলার সবচেয়ে সুশৃংখল ও শক্তিশালী এ সাংগঠনিক ইউনিটের সুনাম ছিল দেশব্যাপী। সদর-হোসেনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ -১ আসনে প্রয়াত সংসদ সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যু হলে সদর আ’লীগের কোন্দল ভয়াবহ আকার ধারণ করে। উপজেলা কমিটি থেকে শুরু করে ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যন্ত নেতাকর্মীরা একাধিক ধারায় বিভক্ত হয়ে দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গত মার্চে জেলা আ’লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় একটি কার্যকর সিদ্ধান্ত আসবে বলেই ধারণা করেছিল নেতাকর্মীরা। কিন্তু দলীয় গ্রুপিং নিরসন না করে মেয়াদোত্তীর্ণ ইউপি কমিটি বহাল রেখে চলতি মাসের ২৫ তারিখ সদর উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন ঘোষণা করা হয়।
এদিকে সদর উপজেলা আ’লীগের আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে যে উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি কথা ছিল সেটিও লক্ষ্য করা যায়নি ১১টি ইউপির কোন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের মাঝে। অনেকেই বিশ্বাস করতে নারাজ যে, নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে সম্মেলন। বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সুশৃংখল সাংগঠনিক গতিশীলতা নিয়ে গর্ববোধ করতেন প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ওনার মৃত্যুর পরে উপজেলা কমিটির গ্রুপিং এভাবে ছড়িয়ে পড়বে ও কোন্দলে একাধিক ধারায় বিভক্ত হবে একটা কখনো ধারণাই করিনি। দীর্ঘদিন পরে সম্মেলনের তারিখ হয়েছে কিন্তু নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার বিপরীতে রয়েছে সংশয়।
বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের একাধিক সভাপতি-সম্পাদক জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ১১টি ইউপির কমিটি দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হলে গঠিত হবে একটি পকেট কমিটি। এমনিতেই সাধারণ মানুষ ইউপি আ’লীগকে টিআর-কাবিখার টনলীগ বলে সম্বোধন করে যা অত্যন্ত লজ্জার। আদর্শিক রাজনৈতিক আলোকিত বাতিঘর প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আদর্শিকতার অনুসরণের সদর উপজেলা আ’লীগ গড়ে তোলার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন সম্পন্ন করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন করার দাবি জানান বিভিন্ন ওয়ার্ড আ’লীগের নেতাকর্মীরা।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, তৃণমূলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন না করেই উপজেলা কমিটির সম্মেলন কোন গঠনতন্ত্রের আলোকে ঘোষণা করা হয়েছে তা বোধগম্য নয়। তৃণমূলের সম্মেলন সম্পন্ন করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন করার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। এদিকে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সদর আ’লীগকে ঐক্যবদ্ধ এবং গতিশীল করার জন্য ইউনিয়নের সম্মেলন করার পরেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন করার পক্ষেই মত প্রকাশ করেন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।