Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১বুধবার , ২২ জুন ২০২২
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন

আমি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, যেটা পারবো সেটাই বলবো: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
জুন ২২, ২০২২ ২:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করার পরে যারা সমালোচনা করেছিলেন তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে। আমি যেটা পারবো সেটাই বলবো, যেটা বলবো ইনশাল্লাহ আমি সেটা করবো এবং করে দেখাতে পারি।’

আজ বুধবার (২২ জুন) সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হবে- এ কথা নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার, আমাদের গর্ব। প্রমত্তা পদ্মা নদী দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে রাজধানী ঢাকা এবং অন্যান্য জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। আমরা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ কাজে সে কষ্টটা আমরা ভালো করে জানি। দক্ষিণাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষেরাই জানে, কি ঝুঁকি নিয়ে এবং কত কষ্ট ও সময় ব্যয় করে আমাদের রাজধানীতে পৌঁছাতে হয়।’

‘১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের এক বছর পর আমি জাপান সফরে যাই। সেখানে জাপানের প্রাইম মিনিস্টারের কাছে আমি পদ্মা নদীতে আর খুলনা ভৈরব নদীর উপর রূপসা সেতু করে দেওয়ার প্রস্তাব দেই এবং জাপান সরকার তাতে রাজি হয়। যেহেতু পৃথিবীর সব থেকে খরস্রোতা নদীর মধ্যে পদ্মা একটি আমাজনের পরেই পদ্মা। সেখানে পদ্মা নদীর ওপর ব্রিজটা কথা সময় সাপেক্ষ জাপান পদ্মা সেতু করার জন্য সমীক্ষা শুরু করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন ১৯৭৩ সালে জাপান সফরে গিয়েছিলেন, তখন যমুনা নদীর উপর সেতু এবং পদ্মা সেতুর কথাও বলেছিলেন তবে যমুনা সেতুর উপরই তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।’

‘তখন জাপান সরকার যমুনা নদীর সমীক্ষা করে। জাপানের সহযোগিতায় আমাদের যমুনা নদীর উপর সেতু নির্মাণ হয়। যদিও সেতুটা পরবর্তীতে আমার হাতেই নির্মিত হয়েছে। ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরে আমি সেতু নির্মাণ করি রেল সংযোগসহ। সেটা উল্লেখ করে তাদের যখন প্রস্তাব দেই তখন তারা রাজি হয়। সমীক্ষা রিপোর্টটাও তারা আমাদের কাছে ২০০১ সালে হস্তান্তর করে। তার ওপর ভিত্তি করেই আমরা ২০০১ এর ৪ জুলাই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি এবং জাপান সমীক্ষা করে মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় পয়েন্ট থেকে এই সেতুটা নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।’

‘আমাদের দুর্ভাগ্য ২০০১-এ আমি সরকারে আসতে পারিনি। তখন বিএনপি সরকারে এসে সেটা বন্ধ করে দেয়। বিএনপির নেত্রী বলেছিল এখান থেকে হবে না, এটা দৌলতদিয়া থেকে আরিচার ঘাট থেকে এই সেতুটা হবে। জাপানকে পুনরায় সমীক্ষা করতে বলে। দ্বিতীয়বার সমীক্ষায় মাওয়া থেকেই যেন সেতু হয় সেটাই তারা মতামত দেয়। তখন আমরা শুনেছিলাম ২টা পদ্মা সেতু হবে তবে বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে কিছুই করতে পারেনি। বরং পদ্মা সেতুটা বন্ধ করে দিলো এটাই হচ্ছে বড় কথা।’

‘আমি যখন ঘোষণা দিলাম পদ্ম সেতু নিজের অর্থায়নে করবো তখন কে কি বলেছিলেন পত্রিকায় এসেছে। ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের এক আলোচনা সভায় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে সরকার। কিন্তু পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে হবে না।’ ২০১২ সালের ১ জুলাই ড. আকবর আলি খান বলেন, ‘বিশ্ব ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের পক্ষে পরবর্তীতে ঋণ সহায়তা পাওয়া খুব দুষ্কর হয়ে পড়বে। যখনই কোনো দাতা সংস্থা কোনো নতুন প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহী হবে, তারা দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশকে ভিন্ন চোখে দেখবে। সরকার যদি বিকল্প অর্থায়নে পদ্মা সেতু কাজ শুরু করে, তাহলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে, কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাবে।’ আশা করি পদ্মা সেতুর কাজে মান নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি না কেন এদের ভেতরে আত্ম বিশ্বাসের অভাব। তারা ভুলে যান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে এ দেশের মানুষ অস্ত্র তুলে নিয়ে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছে। আমরা বিজয়ী জাতি। আমরা যখন একটা কথা বলি ভেবে চিন্তেই বলি। কারণ বিজয়ী জাতি হিসেবে সেই মানসিক শক্তি নিয়েই কথা বলি। কিন্তু ইনাদের ভেতরে একটা যেন পরাজিত মনোভাব। মনে হয় যেন পাকিস্তানি আমলে এই প্রদেশে একটা যে পরাধীনতার গ্লানি, তারা সব সময় সেই আত্মগ্লানিতে ভোগেন, তাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব। কিন্তু আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে। আমি যেটা পারবো সেটাই বলবো, যেটা বলবো ইনশাল্লাহ আমি সেটা করবো এবং করে দেখাতে পারি। করেছি সে জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকরা অনেক তদন্ত করেন। আপনারা তার বিষয়ে একটু তদন্ত করেন না। আপনার এত কিছু লেখেন…আপনার একটু করেন। একটা ব্যাংকের এমডি, আমাদের তো প্রায় ৫৪টা প্রাইভেট ব্যাংকের এমডি আছে। কার এতো আর্থিক সংগতি আছে যে একজন এমডি একটা ফাউন্ডেশনে এতো ডলার দিল, একটা অনুদান দিল বা এতো টাকা খরচ করল কীভাবে? তো সেটা আপনারা তদন্ত করলে ভালো না? আমি করতে গেলে বলবেন প্রতিহিংসা শিকার করার জন্য করছি, ইত্যাদি।

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকরা যদি খুঁজে বের করেন, সেটা ভালো হয়। আরও তথ্য আছে, কোন ব্যাংকে কত টাকা আছে, কোন চেকে কত টাকা সরাল, সব তথ্য আছে। বের করেন…সব আমরা বলব কেন? আপনারা খুঁজে বের করেন। তারপর কিছু লাগলে জোগাল দেব।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আগে নিজেরা বের করেন বাংলাদেশের কোন ব্যাংকে তার কত আছে। বিশাল বিশাল চেক, একটা ফাউন্ডেশন বা ট্রাস্ট করে ট্রাস্টের টাকা একটা প্রাইভেট ব্যাংকে চলে যায় কীভাবে? এক চেকে ছয় কোটি টাকা তুলে নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে… আমরাও একটা ট্রাস্ট চালাই, কিন্তু সেখান থেকে ব্যক্তিগতভাবে টাকা তোলার রাইট আমার নেই। আমি ট্রাস্টের চেয়ারপারসন, কিন্তু আমি তুলতে পারব? কিন্তু আমার কাছে এ তথ্যও আছে, ট্রাস্ট থেকে ছয় কোটি টাকা নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নিয়ে, তারপর সেই টাকা ভ্যানিশ।

তিনি আরো বলেন,‘বেশিদিন আগের কথা না। ২০২০ সালের কথা। চান তো তারিখ, অ্যাকাউন্ট নম্বর সব আছে। সে কথা বলতে চাই না। আপনারা বের করেন। এত স্বনামধন্য বিখ্যাত ব্যক্তি, আমরা তো লেখাও জানি না, পড়াও জানি না, কিছুই জানি না। আমাদের তো এত বলা শোভা পায় না, তাই না? এত জ্ঞানী তো না। সাধারণ একটা মানুষ। নিরেট বাঙালি একটা মেয়ে। তাও আবার বাংলায় পড়ছি; বাংলায় পাস করছি।’

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।