Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১শুক্রবার , ১ জুলাই ২০২২
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন

শিক্ষক হত্যাকারী ছাত্রের কঠোর শাস্তি হোক

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম।। 
জুলাই ১, ২০২২ ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মানুষ গড়ার নিপুণ কারিগর শিক্ষক। মা-বাবা জন্ম দেওয়ার পর মূলত শিক্ষকের হাতেই গড়ে উঠে সন্তান। ছাত্রকে মানুষ করার জন্য শিক্ষকের চেষ্টার অন্ত থাকে না। মহামারি করোনাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়ে শত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শিক্ষকরা অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠ পৌঁছে দিয়েছেন। একজন শিক্ষক কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে তার দায়িত্বে অবহেলা করেন না। কিন্তু নানা সময়ে ছাত্রকে শাসন করতে গিয়ে কিংবা সামান্য বকাঝকার কারণেও বহু শিক্ষককে লাঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমনকি নিজের ছাত্রের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে শিক্ষককে। গত কয়েকদিন আগে সাভারের আশুলিয়ায় নিজ স্কুলের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করতো দশম শ্রেণির এক ছাত্র। একইসঙ্গে তার চলাফেরা ছিল উচ্ছৃঙ্খল। এসব কারণে ওই স্কুলের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার ছাত্রকে শাসন করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষককে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে ওই ছাত্র। আইসিইউতে থাকা অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহত উৎপল আশুলিয়ার চিত্রশাইলে হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। এভাবে বিভিন্নসময় শিক্ষকদের অত্যাচার, নিপীড়ণের শিকার হতে হচ্ছে। অনেকসময় অভিভাবকদের কাছেও শিক্ষকদের লাঞ্চনা ভোগ করতে হয়। কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো? ছাত্ররা এরকম উশৃংখল এবং অসহিঞ্চু হয়ে উঠছে কেন তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। সমালোচকরা বলে থাকেন, যখন থেকে শিক্ষকদের হাত থেকে বেত দিয়ে শাসন করার ক্ষমতা চলে গেছে কিংবা শাসন-বারণকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে তখন থেকেই শিক্ষার্থীরা শিক্ষককে অসম্মান ও বেয়াদবি করতে শুরু করেছে। আজকাল তো পথে শিক্ষকদের সাথে দেখা হলে ছাত্ররা সালাম, কালাম দুরে থাক পারলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে চায়! তবে কিছু ছাত্র এখনো শিক্ষকদের দেখলে সম্মান করে। যদিও তা সংখ্যায় অনেক কম।
ইতিমধ্যে শিক্ষক হত্যাকারী জিতু নামের সেই ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রের বাবাকেও কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আটক করেছে পুলিশ। আমরা দ্রুত খুনী সেই ছাত্রের কঠোর শাস্তির দাবি করছি।
বিভিন্ন সময় আমরা অনেকে সেমিনার, সেম্পুজিয়াম কিংবা আলোচনায় শিক্ষকদের অবদানের কথা তুলে ধরি। কিন্তু তাদের সম্মান ও অধিকারের বিষয়ে তেমন কোন কথা বলিনা। এই যে শিক্ষককে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে এই লেখা যখন লিখছি তখন পর্যন্ত জোরালো কোন প্রতিবাদ দেখছিনা। এমনকি শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকেও সেধরণের কর্মসূচি লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। আমরা সবাই কেন জানি দিনদিন সবকিছু সয়ে যাচ্ছি। তবে মনে রাখতে হবে এই শিক্ষকের সাথে যা হয়েছে তা অন্য কোন শিক্ষকের সাথেও হতে পারে। লাঞ্চনা, গঞ্জনার সম্মূখীনও হওয়া লাগতে পারে। আমাদের দেশে সুবিধা বাড়লেও এখনো পর্যন্ত শিক্ষকগণ সেভাবে কাঙ্ক্ষিত সম্মান, সম্মানী ও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সুবিধাদি পান না। উপযুক্ত সম্মান, সম্মানী ও নিরাপত্তা পাওয়া শিক্ষকদের অধিকার। এক্ষেত্রে বৈষম্য থেকে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় এই বৈষম্যসহ নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে শিক্ষকগণ রাস্তায়ও নামেন। সরব থাকেন প্রতিবাদ, বিক্ষোভ করেন। সরকারকে শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে ভাবার অনুরোধ জানাই। শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ কখনো অস্বীকার করেন না ঠিকই কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপও তেমন নিতে দেখা যায়না।
শ্রদ্ধাবোধ কমে আসলেও সমাজে শিক্ষকদের একটি সম্মানজনক স্থান রয়েছে। আগের দিনে মানুষ শিক্ষকদের যথোপযুক্ত সম্মান করতেন। নিজের সন্তানকে মানুষ করতে শিক্ষকের হাতে তাকে তুলে দিতেন। এখনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষ শিক্ষকদের সম্মানের আসনে বসান, ছুটে যান তাদের যেকোনো সমস্যায়।
সমাজে আলো ছড়াচ্ছেন  শিক্ষকরাই। পর্যাপ্ত সুবিধাদি না পেলেও তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। থেমে নেই তাদের কর্মতৎপরতা। দেশে প্রতিবছর পাবলিক পরীক্ষাসমূহের যে আশা জাগানিয়া ফলাফল তার কারিগর কিন্তু এই শিক্ষক সমাজ। তাদের প্রচেষ্টায়ই এই সফলতা।
দেশের সকল স্তরে যারা দায়িত্ব পালন করে চলেছেন তারা সবাই কোনো না কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের ছাত্র। সে হিসেবে দেশের উন্নয়নের পেছনেও রয়েছে শিক্ষকদের অবদান।
এজন্য শিক্ষক নির্যাতনকারী কেউ যেনে ছাড় না পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সাভারের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনভাবেই যেন সে আইনের হাত থেকে বাঁচতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে অভিযুক্তের। কর্তৃপক্ষকে শিক্ষকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও শতভাগ খেয়াল রাখতে হবে।
★ লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।