Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১সোমবার , ১৫ আগস্ট ২০২২
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন

প্রেম করে বিয়ে: অতঃপর…

Link Copied!

প্রেম করে বিয়ে। তারপর ভারতে গিয়ে সুখের সংসার করবে তারা। একই এলাকার প্রেমিকের এমন প্রলোভনে ফাঁদে পা দিয়ে বিপাকে পড়েছে এক কলেজ ছাত্রী প্রেমিকা। তাদের এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইতিমধ্যে প্রেমিকার আর্তনাতের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যা সাধারণ মানুষের কাছে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। বিয়ের প্রলোভনে অপহরণ করে তাকে ভারতে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালায় এমন অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকের বিরুদ্ধে।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার এক প্রেমিক-প্রেমিকার। প্রেমিকা কুলছুম আক্তার মনি হাতীবান্ধা মহিলা কলেজের এইচ এস সি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। আর প্রেমিক তিলক বর্মন একই উপজেলার টংভাঙ্গা এলাকার ধনঞ্জয় বর্মনের ছেলে। সে স্থানীয় আদর্শ স্কুলের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ই ডিসেম্বর সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় প্রেমিক তিলক বর্মন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফিরে না সে। তাদের আত্মীয় স্বজন, বন্ধুসহ বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকে তার পরিবারের লোকজন। একমাত্র ছেলেকে খুঁজে  না পেয়ে নিরুপায় হয়ে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় স্থানীয় থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন বাবা ধনঞ্জয়।
ছেলেকে উদ্ধার করতে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর হাতীবান্ধা থানায় ছেলে নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন তিলকের বাবা। থানায় জিডির পর থেকে সেই জিডি তদন্ত করার দায়িত্ব পান হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক বাবুল ইসলাম।
এরই মধ্যে প্রেমিক তিলকের বাবার কাছে যান প্রেমিকা কুলছুম আক্তার মনির বড়ভাই লুলু। তিনি সেখানে তিলকের একটি ছবি দেখিয়ে জানতে চান, এ ছবির ছেলেটির সাথে তাদের সম্পর্কের কথা। তখনি তিলকের বাবা জানতে পারে, তিলক এক মুসলিম মেয়েকে নিয়ে অজানা উদ্দেশ্যে চলে গেছে। এর কিছু দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারে তার ছেলে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম ধর্মগ্রহন করে ওই মেয়েকে বিয়ে করেছে।
এরপর এ ঘটনায় বাদী হয়ে ওই তরুণীর ভাই কামরুজ্জামান চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি হাতীবান্ধা থানায় বোনকে অপহরণের মামলা দায়ের করেন। এজাহারে প্রেমিক তিলকসহ আরও চারজনের নাম উল্লেখ করে আসামী করা হয়। সেই মামলার তদন্তকারী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পান উপ-পরিদর্শক মৃগেন্দ্র নাথ। এই অপহরণ মামলার তদন্তকালীন সময়ে বিশেষ কারনে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত হন এসআই মৃগেন্দ্র নাথ। এরপর ঘটনার দীর্ঘ দেড়মাস পর সেই মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয় হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক সুকুমার রায়কে। ততদিনে সেই ছেলে-মেয়ের অবস্থান ভারতে।
জানা যায়, হাতীবান্ধা থানা পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে ওই মামলাটি তদন্ত করে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিকটিম কুলছুমকে উদ্ধার ও প্রধান আসামী তিলক বর্মনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যান। মামলার আরেক আসামী তিলকের সহযোগী বন্ধু হামিদুল হক রিদয়কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তাকে পাশ্ববর্তী কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জেলা বিজ্ঞ-আদালতের মাধ্যমে হামিদুলকে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে অন্যান্য আসামীরা আদালতে সেচ্ছায় হাজির হয়ে জামিন নেয়।
আরও জানা যায়, নারী ও শিশু মামলার নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যাওয়ায় এবং গ্রেফতারকৃত আসামী হামিদুল হক রিদয় পুলিশকে জবানবন্দি দেয়, সে ওই ছেলে ও মেয়েকে স্থানীয় তিস্তা ব্যারাজ পার করে দিয়ে আসে। পরে ভিকটিম কুলছুম আক্তার মনিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কোনো এক অজানা পথে নিয়ে যায় প্রধান আসামী তিলক।
এরমধ্যে হাতীবান্ধা থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমানের জানতে পারেন যে, এটি একটি প্রেম সংক্রান্ত কাহিনী। এখানে ছেলের বাবা-মামা বা অন্য কেউ জড়িত হওয়ার সুযোগ নেই। কারন প্রেম ভালোবাসায় বাবা, মামা এবং ছেলে একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমে জড়িত হতে পারেন না। এমন তথ্য পাওয়ার পর ছেলের বাবা এবং মামাসহ আরেক বন্ধু কামরুজ্জামান তান্নাকে ওই মামলা হতে অব্যহতি প্রদান করে পুলিশ। সেই সাথে এই মামলার প্রধান আসামী তিলক বর্মন এবং তার সহযোগী হামিদুল হকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ-আদালতে বিচারের জন্য অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়।
এমতাবস্থায় প্রেমিকা কুলছুম আক্তার মনি বাঁচতে চায়, ফিরে আসতে চায় বাংলাদেশে এমনি একটি তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা ঝড় ওঠে।সেই ভিডিওতে সে বলেন, হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম ধর্মগ্রহন করে তাকে বিয়ে করে প্রেমিক তিলক বর্মন। কিন্তু স্ত্রী কুলছুম আক্তার মনিকে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে নিয়ে যান স্বামী (পূর্বের নাম) তিলক৷ সেখানে নিয়ে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন চালান স্বামী তিলক। অভিযোগ করা হয় তাকে বিয়ে করে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যান তিলক।
ছেলের পরিবারের দাবী, আমরা জানতে পেয়েছি তিলক হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম ধর্মগ্রহন করে একটি মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করেছে তাই তার সঙ্গে আমাদের আর কোনো সম্পর্ক নেই। বিয়ের পর তারা এখন স্বামী-স্ত্রী। তাই তাদের যে কোনো বিষয়ে আমরা কেন দায়ী হবো? পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিতেছেন বলেন তিলকের পরিবার।
শুধু তা-ই নয় অভিযোগ উঠেছে, হাতীবান্ধা থানা পুলিশের এক এসআই ও তার সঙ্গী সদস্যদের নিয়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র ৪ আগষ্ট মধ্যরাতে তিলক বর্মনের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকে খুঁজতে  থাকেন। তবে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহা আলম বলেন, তিলকের নামে ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে খুঁজতে সেখানে পুলিশ যান।
অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছেলের পরিবার কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা না পেয়ে ছেলের পরিবারকে হয়রানি করতে বিভিন্ন ভাবে মরিয়া হয়ে উঠেছে মেয়ের বড়ভাই কামরুজ্জামান লুলু। ইতিমধ্যে ছেলের পরিবার কাছ থেকে বিভিন্ন জনের মধ্যমে আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। মোটা অংকের অর্থ দিলেই করা হবে মিমাংসা এমন বিভিন্ন প্রস্তাব দিচ্ছেন মেয়ের লোকজন বলে জানান ছেলের পরিবার।
গোপন সূত্রে জানা যায়, প্রেমিক তিলক বর্মন ও প্রেমিকা কুলছুম আক্তার মনি বিয়ে পর ভারতে যান। একটি ভাড়া বাসায় থাকতো তারা। সেখানে হিন্দু ধর্মের হোলি পূজায় হাতে শাখা, মাথার সিঁথিতে সিঁদুর পড়ে নৃত্য করে স্ত্রী কুলছুম আক্তার মনি। ইতিমধ্যে দেখা গেছে তার হাতে শাখা আর সিঁথিতে সিঁদুর দেওয়া ফটোসেশানের ছবিও।  শুধু তা-ই নয় স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তার জন্মদিন পালন করে সে। ভালোই কাটছিলো তাদের সংসার। অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে কুলছুম আক্তার মনি দাবী করে, তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালায় তার স্বামী তিলক। তাকে জোর করে হিন্দু ধর্মগ্রহনের চেষ্টা চালানো হয়।  হঠাৎই কেন এমন অভিযোগ? স্বামী-স্ত্রী মাঝে কি এমন ঘটলো? নাকি ছেলের পরিবারকে হয়রানি করতে এমন সাজানো অভিযোগ করছে তিলকের স্ত্রী কুলছুম? যা আজও অজানা।
মেয়ের পরিবার জানান, কুলছুম আক্তার নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। পরে তার বিভিন্ন বন্ধু-বান্ধবীদের মাধ্যমে জানতে পান সে একটি হিন্দু ছেলের সঙ্গে পালিয়েছে৷ এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মেয়ের বড় ভাই নুলু ছেলে বাড়িতে যান। সেখানে তারা জানতে পায় ছেলের পরিবার এ বিষয়ে কিছু জানে না।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহা আলম বলেন, মেয়ে অপহরণের মামলাটি তদন্ত করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভারতে ছেলে-মেয়ের  আটকের বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যাবতীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে। এখন পুলিশ হেডকোয়ার্টার যাবতীয় কার্যক্রম তারাই পরিচালনা করবে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।