Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১মঙ্গলবার , ১৬ আগস্ট ২০২২
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চীনে দুই ভাই, ভ্যানচালক বাবার স্বপ্নপূরণ

জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
আগস্ট ১৬, ২০২২ ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দস্তখত ছাড়া আর কিছু করতে পারে না, তবে পড়াশোনা করতে না পারার প্রবল আক্ষেপ তাকে তাড়া করে বেড়ায়।পেশায় ভ্যানচালক হলেও দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বদ্ধ ছিল সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন ৷ স্বপ্ন যেন এখন বাস্তবতার মুখ দেখছে। ভ্যান চালিয়ে দুই ছেলেকে তো ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াচ্ছেন সূদুর চীন দেশে।
বলছিলাম ঠাকুরগাঁওয়ের বালীয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের জোতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মকিমউদ্দীনের কথা। পেশায় তিনি একজন ভ্যানচালক।কর্মজীবনের শুরু থেকে দীর্ঘ ২৮ বছর পা চালিত ভ্যান চালিয়েছেন তিনি। এখন ব্যাটারিচালিত ভ্যানের আয় দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ ও সংসারের ভরণপোষণ করছেন তিনি ৷ মাসে যা আয় হয় তা অল্প একটু নিজের জন্য রেখে বাকী সব সন্তানদের পিছনে ব্যয় করেন।
মকিম উদ্দীনের চার সন্তানদের মধ্যে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন অনেক বছর আগে। আর ছোট দুই ছেলে পড়াশোনা করছেন ৷ বড় ছেলে হবিবুর রহমান চীনের জিয়াংসু ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ডিজাইন এন্ড ম্যানুফ্যাকচার অটোমেশন বিভাগে পড়াশোনা করছেন ৷ আর ছোট ছেলে আবুল হাসিম একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করছেন। হাজারো কষ্টে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ায় সমাজে এক আলাদা সম্মানের জায়গা তৈরী হয়েছে মকিম উদ্দীনের পরিবারের ৷
প্রতিবেশী নুরুজ্জামান বাবলু বলেন, প্রকৃত অর্থে উনারা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার। দিন আনে দিন খায়। তারা অনেক কষ্ট করে তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক অভাবেও তারা সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ রাখেননি। বিষয়টি আসলে অনুপ্রাণিত হওয়ার মত। আমরা আশা করছি তারা দক্ষ প্রকৌশলী হয়ে এলাকা ও দেশ সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।
মকিম উদ্দীনের স্ত্রী হুসনে আরা বেগম বলেন, আমার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। মেয়ে দুটাকে অনেক কষ্ট করে বিয়ে দিছি ৷ আর ছেলে দু’টাকে পড়াচ্ছি। এক বিঘা আবাদি জমি ছিল। ছেলে দুটোর জন্য তা বিক্রি করতে হয়েছে৷ একমাত্র ভ্যানটি আমাদের সম্বল। প্রতি মাসে টাকা দেওয়ার লাগে ৷ ছেলে দুটাও অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে। আমাদের যত কষ্টই হোক আমরা তাদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করাতে চায় ৷
মকিম উদ্দীন বলেন, আমি ২৮ বছর ধরে রিক্সা চালিয়েছি ৷ এখন ব্যাটারি চালিত রিক্সা চালাচ্ছি পাঁচ বছর ধরে। অভাব থাকায় পড়াশোনা করতে পারিনি। তবে আমার ইচ্ছা ছিল আমার সন্তানদের পড়াশোনা করাব। বড় ছেলে বললো সে চীনে ইঞ্জিনিয়ারিং লাইনে পড়াশোনা করবে ৷ সেজন্য সে জমি বিক্রি করে ছেলেকে চীনে পাঠিয়েছি৷ পরে আবার ছোট ছেলেও গেছে। এখন প্রতিমাসে তাদের টাকা পাঠাতে হয়। আমার একমাত্র আয়ের পথ ভ্যান ৷ যা হয় তার সবটুকু জমা করে পাঠাই দেয় ৷ আমরা স্বামী-স্ত্রী কখনো খায় কখনো না খেয়ে থাকি।কাউকে বলা হয়না এ কষ্টের কথা। আমার কষ্ট হোক তবুও তারা ভালো ইঞ্জিনিয়ার হোক এটাই চাওয়া আমার৷
বালীয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোবায়ের হোসেন বলেন, বিষয়টি আসলেই অনুপ্রাণিত হওয়ার মত ৷ ভ্যান চালিয়ে তিনি দুই ছেলেকে চীনে পড়াশোনা করাচ্ছেন। এখান থেকে বুঝা যায় যদি মানুষের ইচ্ছা শক্তি ও পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকে তবে সফলতার দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়৷ যদি কখনো তার প্রয়োজন হয় সহযোগিতার তবে উপজেলা প্রশাসন তাদের পাশে দাড়াবে ৷

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।