Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১শনিবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন

কিশোরগঞ্জে সর্বত্রই ‘অদ্ভুত’ মাদ্রাসা নিয়ে আলোচনা 

সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় - কিশোরগঞ্জ
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২ ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার মাদ্রাসা সুপারের অদ্ভুত কর্মকান্ড ঘিরে জনসাধারণের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে কৌতুহল। নিজস্ব জমি থাকা সত্ত্বেও পাঁচবার মাদ্রাসাটি স্থানান্তর করা হয়েছে। মাদ্রাসা সুপার নিজের ইচ্ছামতই যখন যেখানে সুবিধা হচ্ছে, সেখানেই তুলছেন মাদ্রাসার ঘর। শ্যামপুর দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মাঝেমধ্যে আসলেও নিয়মিত বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ঠিকই আছে।

জানা গেছে, জেলার মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘি ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে মাদ্রাসার নামে নিজস্ব জমি রয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে মাদ্রাসা নিজস্ব জমিতে স্থায়ীভাবে পাঠদান কার্যক্রম না চালিয়ে মাদ্রাসা সুপার তার ইচ্ছেমত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করেন বিভিন্ন স্থানে। ১৯৯৯ সালে শ্যামপুর দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসাটি স্থাপিত হলেও পাঠদানে একাডেমিক স্বীকৃতি পায় ২০০৫ সালে এবং এমপিওভুক্ত হয় ২০১০ সালে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত মাদ্রাসাটির নিজস্ব জায়গা না থাকায় শ্যামপুর বড়হাটি মসজিদের পিছনে অস্থায়ীভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি মরহুম জজ মিয়া মাদ্রাসার নামে এক একর জায়গা দান করেন। এর কিছুদিন পরেই মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে জমি দাতা সভাপতির সাথে মাদ্রাসা সুপারের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এ দ্বন্দ্বের জেরেই সভাপতির দানকৃত জায়গায় মাদ্রাসা স্থাপনে অস্বীকৃতি জানান মাদ্রাসা সুপার। এক পর্যায়ে রাতের আঁধারে মাদ্রাসার সকল নথিপত্র নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় সুপার। ফলে মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ থাকে দীর্ঘদিন। এরপর ২০১২ সালের জানুয়ারির দিকে সুপারের নিজের বাড়ির কাছে ধলাই বগাদিয়া বাজারে অস্থায়ীভাবে ঘর নির্মাণ করে কার্যক্রম শুরু করেন। পরে শ্যামপুর থেকে পর্যায়ক্রমে মাদ্রাসার ঘরগুলোও সেখানে নিয়ে যান। বাজারে নামেমাত্র দুটো টিনের ঘর তৈরি করে মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৭ জন শিক্ষকের বেতন-ভাতা তুলে আসছেন তিনি।
স্থানীয়রা আরোও জানান, ২০২২ সালে জানুয়ারি প্রথম তারিখে ঝড়ের কবলে বাজারের দুটো ঘরই লন্ডভন্ড হলে প্রায় ৬ মাস বন্ধ থাকে পাঠদান। এরপর বগাদিয়া গ্রামের হারিছ মিয়ার বাড়িতে একটা ঘর নির্মাণ করে আবারোও মাদ্রাসার পাঠদান শুরু করেন সুপার। পরবর্তী তিনমাস ধলাই উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত একটি টিনশেড ঘরে পাঠদান দেখানো হয়। এখানে তিনমাস কার্যক্রম চালিয়ে আবারও নিজের ফসলে জমিতে মাদ্রাসার ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এরপর শ্যামপুরবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ওই নির্মাণাধীন ঘর ভেঙে মাদ্রাসার নিজস্ব জায়গায় নিয়ে যায়। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ওই মাদ্রাসা সুপার বাদী হয়ে ৮২ জনের নাম উল্লেখসহ শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন মিঠামইন থানায়।
ইতোমধ্যে এই মাদ্রাসা সুপারের এমন অদ্ভুত কর্মকান্ডটি মিঠামইনসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাবাসীর মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাদ্রাসার ঘরটি এখন পরিত্যক্ত। ঘরটির ভিতরে একটি টেবিল, একটি ভাঙ্গা চেয়ার এবং পাঁচটি বেঞ্চ ছাড়া আর কিছুই নেই। এমনকি বেশ ক’দিন ধরে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের দেখাও নেই বলেও জানান এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা।
মাদ্রাসা সুপার আমিনুল হক এ ব্যাপারে জানান, তার এ প্রতিষ্ঠানে ২৭৪ জন শিক্ষার্থীসহ ১৭ শিক্ষক রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীর দেওয়া মাদ্রাসার সবশেষ চিত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটিতে ৫০ শতাংশ উপস্থিতির হার দাবি করে তিনি জানান, দাখিল পরীক্ষা চলছে আর মাদ্রাসা নিয়ে ঝামেলা চলমান বলে শিক্ষার্থীরা আসেছে না।
মাদ্রাসায় নিয়মিত পাঠদান না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছেন। কেউ কেউ আবার পড়াশুনা ছেড়ে দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। অনিয়মিত পাঠদান ও জমি দাতা মরহুম জজ মিয়ার সাথে ঝামেলার বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আমিনুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসা কমিটির তৎকালীন সভাপতি বিভিন্ন বিষয়ে অনৈতিক প্রস্তাবে তিনি রাজি না হওয়ায় প্রকাশ্য তাকে হেয় প্রতিপন্ন করেন। বাধ্য হয়েই মাদ্রাসার স্থান পরিবর্তন করেন তিনি। সম্প্রতি করোনা মহামারি ও বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম হয়েছে এবং পাঠদান কার্যক্রমেও কিছুটা ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।