শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আমাদের কন্যাশিশুরা নিরাপদে এবং অধিকার নিয়ে বেড়ে উঠুক

প্রতিবছর ৩০ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আমাদের দেশে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত হয়। ২০০৩ সালে কন্যাশিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ৩০ সেপ্টেম্বরকে জাতীয় ‘কন্যাশিশু দিবস’ ঘোষণা করা হয়।
কন্যাশিশুরা স্বর্গের ফুল। তাদের বেড়ে উঠা, গড়ে উঠার প্রতিটি ক্ষণ আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। কিন্তু বর্তমান পরিবেশটা যেন তাদের জন্য বড় অস্বস্তি ও আতংকের!
আমি আমার মেয়েদের জন্মের সময় ভেবেছি কীভাবে তাদের একটি সুরক্ষিত আবাসভূমি দেবো, নিরাপদ পরিবেশ দেবো। আমার মতো প্রত্যেক বাবা-মাই হয়তো ভেবেছেন কীভাবে তাকে একটি বাসযোগ্য নিরাপদ পৃথিবী দেবেন।
অথচ একটি কন্যাশিশু জন্মের সময় আমরা কী সেই বাসযোগ্য ও নিরাপদ পৃথিবীর নিশ্চয়তা দিতে পারছি? খবরের কাগজে প্রায় সময় কন্যাশিশু হত্যা ও নির্যাতনের সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে। পৃথিবীর নানা জায়গায়ও কন্যাশিশুদের উপর অমানবিক আচরণ করা হয়। মাতা-পিতা, অভিভাবক তাদের শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় দিন কাটান। নিষ্পাপ এসব শিশুর উপর নির্যাতন ও হত্যায় আঁৎকে উঠেন সচেতন সব মানুষ। বিভিন্নভাবে শিশুরা নির্যাতনের শিকার হয় । তাতে জড়িত থাকে পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের ভয়াবহতা। মানুষ কীভাবে যে এত নির্দয় ও পাষণ্ড হতে পারে তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। এসব নির্যাতনের পাশাপাশি তারা বঞ্চিত হয় শিক্ষাসহ সব মৌলিক অধিকার থেকে। ঠিকমত খাবার, পোশাকও পায়না। অনেক পরিবারে কন্যাশিশুরা অবহেলার শিকার হয়। অনেক পরিবার আছে যেখানে কন্যাশিশু জন্ম নেওয়ার অপরাধে মায়েরা নানাভাবে নির্যাতিত হয়। এমন অনেক অমানবিক আচরণ করা হয় যা আইয়ামে জাহেলিয়ায়ও সংঘটিত হয়েছে কিনা বলা মুশকিল! এখনো আমাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আসেনি। যা একটি সমাজ ও দেশের জন্য চিন্তার বিষয়।
বিশ্বসংস্থাসহ দেশ-বিদেশের নানা সংগঠন, সরকার ও ব্যক্তি কন্যাশিশুদের নিয়ে কাজ করে চলেছেন। তাদের জন্য একটি নিরাপদ আবাস গড়তে চলছে নিরন্তর প্রচেষ্টা। অথচ এসব কিছুর মাঝেও কন্যাশিশুদের উপর অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। যে অবস্থা চলছে তাতে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ কীভাবে তৈরি হবে তা বলাই মুশকিল। যেখানে মা-বাবার কোলও শিশুর জন্য নিরাপদ হচ্ছেনা! মানুষ ব্যক্তিস্বার্থে শিশুদের উপর কেমন করে এত বর্বর নির্যাতন চালাতে পারে?
প্রতিটি কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সকলের। এই দায়িত্ব এড়ানোর কোন সুযোগ নেই। নিজের পায়ে না দাঁড়ানো পর্যন্ত তাদের গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে মা, বাবা, অভিভাবক, রাষ্ট্রসহ সর্বোপরি সমাজের সকল মানুষকে। সব ধরনের ভীতিকর পরিবেশ থেকে তাদের মুক্ত রাখতে হবে। শিশুর মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার জন্য যা যা করণীয় তার সবটুকু করতে হবে। যে শিশুরা আগামীদিনের ভবিষ্যৎ, তাদের অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবার কোন সুযোগ নেই। দিতে হবে তাকে সব মৌলিক অধিকার।  কন্যাশিশু হত্যা ও নির্যাতনের সাথে জড়িত অপরাধীদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে। ভবিষ্যতে যেন কেউ নিষ্পাপ এসব কন্যাশিশুর উপর কোন ধরনের অত্যাচার করতে না পারে সে ধরনের আইন প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের প্রতি ভালোবাসা আমাদের দিন দিন কমে যাচ্ছে। তাদের প্রতি হিংস্রতা ও নিষ্ঠুরতার মাত্রা বাড়ছে। এ অবস্থার অবসান না হলে বিপন্ন হবে তাদের ভবিষ্যৎ জীবন। গোটা মানবসমাজকেই যা গ্রাস করতে পারে।
কন্যাশিশুসহ সব শিশুই নিষ্পাপ, সুবাসিত ফুলের মতো। আবার তারা অসহায়ও। অন্যের সাহায্য ও ভালোবাসা ছাড়া তারা বেড়ে উঠতে পারে না। তাদের জীবনের গাঁথুনি নির্ভর করে অভিভাবক, নিকটাত্মীয় ও সচেতন মানুষের ভূমিকার উপর।
শিশুর অধিকার, তার গড়ে ওঠা, নিরাপত্তা ইত্যাদি নিয়ে সরব দেখা যায় অনেক সংগঠনকে। সরকারের সহযোগিতা না পেলে তারা কার্যকর তেমন কোনকিছুই করতে পারে না। সমাজের প্রভাবশালী ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে কন্যাশিশুদের অধিকার এবং তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবেও শিশুদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে নানামুখী উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়। বিশেষ করে যুদ্ধের সময় শিশুরা সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝঁকিতে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হতে গিয়ে কত শিশুর সাগরে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তার কোন হিসাব নেই।
শিশুদের নিয়োগ করা হচ্ছে নানা ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও। আমাদের দেশে এ ধরনের কাজে নিয়োজিত শিশুদের প্রতি নির্দয় ব্যবহার করা হয়, তাদের মজুরিও অনেক কম, বিশ্রাম বিনোদনের কোন সুযোগ নেই।
আর একটি কন্যাশিশুও যেন হত্যা ও নির্যাতনের শিকার না হয় সে ব্যাপারে সচেতন মানুষ ও রাষ্ট্রের ভূমিকাই প্রধান। রাষ্ট্র যদি শিশুদের অধিকার ও নিরাপত্তার ব্যাপারে আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালায় তাহলে কারো কোন সাধ্য নেই শিশুদের উপর অমানবিক আচরণ করার।
সব মা ও অভিভাবকের কোল হোক শিশুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল। আমাদের কন্যাশিশুরা বেড়ে উঠুক নিরাপদে এবং পরিপূর্ণ অধিকার নিয়ে।
★লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

‘পাঠান’ দিয়ে ৩২ বছর পর কাশ্মীরের সিনেমা হল হাউসফুল

আমাদের কন্যাশিশুরা নিরাপদে এবং অধিকার নিয়ে বেড়ে উঠুক

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২
প্রতিবছর ৩০ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আমাদের দেশে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত হয়। ২০০৩ সালে কন্যাশিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ৩০ সেপ্টেম্বরকে জাতীয় ‘কন্যাশিশু দিবস’ ঘোষণা করা হয়।
কন্যাশিশুরা স্বর্গের ফুল। তাদের বেড়ে উঠা, গড়ে উঠার প্রতিটি ক্ষণ আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। কিন্তু বর্তমান পরিবেশটা যেন তাদের জন্য বড় অস্বস্তি ও আতংকের!
আমি আমার মেয়েদের জন্মের সময় ভেবেছি কীভাবে তাদের একটি সুরক্ষিত আবাসভূমি দেবো, নিরাপদ পরিবেশ দেবো। আমার মতো প্রত্যেক বাবা-মাই হয়তো ভেবেছেন কীভাবে তাকে একটি বাসযোগ্য নিরাপদ পৃথিবী দেবেন।
অথচ একটি কন্যাশিশু জন্মের সময় আমরা কী সেই বাসযোগ্য ও নিরাপদ পৃথিবীর নিশ্চয়তা দিতে পারছি? খবরের কাগজে প্রায় সময় কন্যাশিশু হত্যা ও নির্যাতনের সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে। পৃথিবীর নানা জায়গায়ও কন্যাশিশুদের উপর অমানবিক আচরণ করা হয়। মাতা-পিতা, অভিভাবক তাদের শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় দিন কাটান। নিষ্পাপ এসব শিশুর উপর নির্যাতন ও হত্যায় আঁৎকে উঠেন সচেতন সব মানুষ। বিভিন্নভাবে শিশুরা নির্যাতনের শিকার হয় । তাতে জড়িত থাকে পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের ভয়াবহতা। মানুষ কীভাবে যে এত নির্দয় ও পাষণ্ড হতে পারে তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। এসব নির্যাতনের পাশাপাশি তারা বঞ্চিত হয় শিক্ষাসহ সব মৌলিক অধিকার থেকে। ঠিকমত খাবার, পোশাকও পায়না। অনেক পরিবারে কন্যাশিশুরা অবহেলার শিকার হয়। অনেক পরিবার আছে যেখানে কন্যাশিশু জন্ম নেওয়ার অপরাধে মায়েরা নানাভাবে নির্যাতিত হয়। এমন অনেক অমানবিক আচরণ করা হয় যা আইয়ামে জাহেলিয়ায়ও সংঘটিত হয়েছে কিনা বলা মুশকিল! এখনো আমাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আসেনি। যা একটি সমাজ ও দেশের জন্য চিন্তার বিষয়।
বিশ্বসংস্থাসহ দেশ-বিদেশের নানা সংগঠন, সরকার ও ব্যক্তি কন্যাশিশুদের নিয়ে কাজ করে চলেছেন। তাদের জন্য একটি নিরাপদ আবাস গড়তে চলছে নিরন্তর প্রচেষ্টা। অথচ এসব কিছুর মাঝেও কন্যাশিশুদের উপর অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। যে অবস্থা চলছে তাতে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ কীভাবে তৈরি হবে তা বলাই মুশকিল। যেখানে মা-বাবার কোলও শিশুর জন্য নিরাপদ হচ্ছেনা! মানুষ ব্যক্তিস্বার্থে শিশুদের উপর কেমন করে এত বর্বর নির্যাতন চালাতে পারে?
প্রতিটি কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সকলের। এই দায়িত্ব এড়ানোর কোন সুযোগ নেই। নিজের পায়ে না দাঁড়ানো পর্যন্ত তাদের গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে মা, বাবা, অভিভাবক, রাষ্ট্রসহ সর্বোপরি সমাজের সকল মানুষকে। সব ধরনের ভীতিকর পরিবেশ থেকে তাদের মুক্ত রাখতে হবে। শিশুর মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার জন্য যা যা করণীয় তার সবটুকু করতে হবে। যে শিশুরা আগামীদিনের ভবিষ্যৎ, তাদের অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবার কোন সুযোগ নেই। দিতে হবে তাকে সব মৌলিক অধিকার।  কন্যাশিশু হত্যা ও নির্যাতনের সাথে জড়িত অপরাধীদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে। ভবিষ্যতে যেন কেউ নিষ্পাপ এসব কন্যাশিশুর উপর কোন ধরনের অত্যাচার করতে না পারে সে ধরনের আইন প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের প্রতি ভালোবাসা আমাদের দিন দিন কমে যাচ্ছে। তাদের প্রতি হিংস্রতা ও নিষ্ঠুরতার মাত্রা বাড়ছে। এ অবস্থার অবসান না হলে বিপন্ন হবে তাদের ভবিষ্যৎ জীবন। গোটা মানবসমাজকেই যা গ্রাস করতে পারে।
কন্যাশিশুসহ সব শিশুই নিষ্পাপ, সুবাসিত ফুলের মতো। আবার তারা অসহায়ও। অন্যের সাহায্য ও ভালোবাসা ছাড়া তারা বেড়ে উঠতে পারে না। তাদের জীবনের গাঁথুনি নির্ভর করে অভিভাবক, নিকটাত্মীয় ও সচেতন মানুষের ভূমিকার উপর।
শিশুর অধিকার, তার গড়ে ওঠা, নিরাপত্তা ইত্যাদি নিয়ে সরব দেখা যায় অনেক সংগঠনকে। সরকারের সহযোগিতা না পেলে তারা কার্যকর তেমন কোনকিছুই করতে পারে না। সমাজের প্রভাবশালী ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে কন্যাশিশুদের অধিকার এবং তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবেও শিশুদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে নানামুখী উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়। বিশেষ করে যুদ্ধের সময় শিশুরা সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝঁকিতে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হতে গিয়ে কত শিশুর সাগরে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তার কোন হিসাব নেই।
শিশুদের নিয়োগ করা হচ্ছে নানা ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও। আমাদের দেশে এ ধরনের কাজে নিয়োজিত শিশুদের প্রতি নির্দয় ব্যবহার করা হয়, তাদের মজুরিও অনেক কম, বিশ্রাম বিনোদনের কোন সুযোগ নেই।
আর একটি কন্যাশিশুও যেন হত্যা ও নির্যাতনের শিকার না হয় সে ব্যাপারে সচেতন মানুষ ও রাষ্ট্রের ভূমিকাই প্রধান। রাষ্ট্র যদি শিশুদের অধিকার ও নিরাপত্তার ব্যাপারে আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালায় তাহলে কারো কোন সাধ্য নেই শিশুদের উপর অমানবিক আচরণ করার।
সব মা ও অভিভাবকের কোল হোক শিশুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল। আমাদের কন্যাশিশুরা বেড়ে উঠুক নিরাপদে এবং পরিপূর্ণ অধিকার নিয়ে।
★লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট