শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সড়কে মৃত্যুর মিছিল

সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা মহামারী রূপ ধারণ করেছে। সড়ক দুর্ঘটনা একটি জাতীয় মহাদুর্যোগে পরিণত হয়েছে। মানুষ মারা যাচ্ছে কেবল তা নয় দুর্ঘটনাগ্রস্ত পরিবারগুলোতেও চলে শোকের মাতম। স্বজন হারিয়ে বাকরুদ্ধ হন তারা। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে বহু মানুষ। আহত হাজারে হাজার। প্রতি মাসেই রেকর্ড সংখ্যক দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। তার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে আশংকাজনক হারে।
করোনাকালে সড়ক দুর্ঘটনার হার কম ছিল। এখন আবার সড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। অবস্থা এমন, সড়ক-মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়াও নিরাপদ নয়। কখন চাকার নিচে চাপা পড়ে সে শংকায় থাকতে হয়। নিজের সচেতনতা নিজেরই হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই! মৃত্যুফাঁদে পরিণত দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো। বাস, ট্রাক দুর্ঘটনার পাশাপাশি বাইক দুর্ঘটনাও ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সের তরুণ, যুবকদের অনেকে শখের বশে বেপরোয়া হয়ে স্কুটার চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়।
প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে চাকরি, ব্যবসাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাইরে যেতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। পথে সড়ক দুর্ঘটনার সমূহ আশংকা থাকলেও একপ্রকার জানবাজি রেখেই চলতে হয়। কোন উপায় নেই।
গাড়িচালকদের কথা কী বলব! ‘যেভাবেই হোক অপর গাড়িকে ওভারটেক করে এগুতে হবে’-এমন মানসিকতা নিয়েই তারা গাড়ি চালান অনেক চালক।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনা, দায়সারা গোছের কিছু ব্যবস্থা নিয়েই শেষ! বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও সামাজিক সংগঠন এ ‘দুর্যোগ’ থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করে থাকে। কিন্তু তা তেমন কার্যকরী নয়। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। চালকদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। নিষিদ্ধ করতে হবে গাড়ি চালানোর সময় চালকদের মোবাইলে কথাবার্তা বলা। মানুষ মারার পরও যখন দেখা যায় গাড়ি চালক সদর্পে ঘুরে বেড়ায় তখন ভয়টা বেড়ে যায়। সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’র বিধান কার্যকর করতে হবে। কোন ধরনের লক্কর-ঝক্কর মার্কা কিংবা দুর্বল ইঞ্জিনের যান যেন রাস্তায় চলাচল করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। রাস্তার মাঝে গাড়ি ঘোরানো, বেপরোয়া গতি, নেশা করে গাড়ি চালানো ইত্যাদি নিয়ন্ত্রনে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
পাল্লা দিয়ে ‘ওভারটেকিং’ করা বন্ধ করতে হবে। চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে ড্রাইভারদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার সময় চালকদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকেই আমলে নিতে হবে। কোন অযোগ্য ও অদক্ষ চালক যেন লাইসেন্স না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গাড়ি চালকদের জন্য নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা গেলে ভালো হয়। যদিও এটি বাস্তবায়নের কথা শোনা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়কের পাশাপাশি স্টেশনগুলোকেও প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, মহাসড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।
একজন চালক কত মানুষের প্রাণ হাতে নিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালান। সেই মানুষগুলোর প্রতি চালকদের দরদ থাকা উচিত। যেভাবেই হোক একজন চালককে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সম্ভব সবকিছুই করতে হবে। ‘সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি’- একথা চালকদের মাথায় রাখতে হবে। সবচেয়ে জরুরি হলো কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি ও চালকদের সচেতনতা তৈরি।
মানুষের প্রয়োজনে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। প্রতিদিনই বহুসংখ্যক নতুন গাড়ি রাস্তায় নামছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনাও। এসব দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করছে। এই মানুষগুলোর সাথে জড়িত পরিবার ও তাদের আত্মীয়-স্বজন অবর্ণনীয় কষ্টে পড়ে। বিষয়গুলো আমাদের ভাবা উচিত বলে আমি মনে করি। সরকারি, বেসরকারি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন কর্তৃপক্ষকে নিহত ও আহত হওয়া পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। করতে হবে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা। আমরা সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি। সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল কবে থামবে? আর কত প্রাণ ঝরবে? মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া সড়কগুলোকে যেভাবেই হোক নিরাপদ করতে হবে সকলের জন্য- আজ নিরাপদ সড়ক দিবসে এই কামনা।
★লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনীতে সেনাপ্রধান

সড়কে মৃত্যুর মিছিল

প্রকাশের সময় : ০৩:২৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অক্টোবর ২০২২
সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা মহামারী রূপ ধারণ করেছে। সড়ক দুর্ঘটনা একটি জাতীয় মহাদুর্যোগে পরিণত হয়েছে। মানুষ মারা যাচ্ছে কেবল তা নয় দুর্ঘটনাগ্রস্ত পরিবারগুলোতেও চলে শোকের মাতম। স্বজন হারিয়ে বাকরুদ্ধ হন তারা। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে বহু মানুষ। আহত হাজারে হাজার। প্রতি মাসেই রেকর্ড সংখ্যক দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। তার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে আশংকাজনক হারে।
করোনাকালে সড়ক দুর্ঘটনার হার কম ছিল। এখন আবার সড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। অবস্থা এমন, সড়ক-মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়াও নিরাপদ নয়। কখন চাকার নিচে চাপা পড়ে সে শংকায় থাকতে হয়। নিজের সচেতনতা নিজেরই হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই! মৃত্যুফাঁদে পরিণত দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো। বাস, ট্রাক দুর্ঘটনার পাশাপাশি বাইক দুর্ঘটনাও ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সের তরুণ, যুবকদের অনেকে শখের বশে বেপরোয়া হয়ে স্কুটার চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়।
প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে চাকরি, ব্যবসাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাইরে যেতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। পথে সড়ক দুর্ঘটনার সমূহ আশংকা থাকলেও একপ্রকার জানবাজি রেখেই চলতে হয়। কোন উপায় নেই।
গাড়িচালকদের কথা কী বলব! ‘যেভাবেই হোক অপর গাড়িকে ওভারটেক করে এগুতে হবে’-এমন মানসিকতা নিয়েই তারা গাড়ি চালান অনেক চালক।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনা, দায়সারা গোছের কিছু ব্যবস্থা নিয়েই শেষ! বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও সামাজিক সংগঠন এ ‘দুর্যোগ’ থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করে থাকে। কিন্তু তা তেমন কার্যকরী নয়। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। চালকদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। নিষিদ্ধ করতে হবে গাড়ি চালানোর সময় চালকদের মোবাইলে কথাবার্তা বলা। মানুষ মারার পরও যখন দেখা যায় গাড়ি চালক সদর্পে ঘুরে বেড়ায় তখন ভয়টা বেড়ে যায়। সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’র বিধান কার্যকর করতে হবে। কোন ধরনের লক্কর-ঝক্কর মার্কা কিংবা দুর্বল ইঞ্জিনের যান যেন রাস্তায় চলাচল করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। রাস্তার মাঝে গাড়ি ঘোরানো, বেপরোয়া গতি, নেশা করে গাড়ি চালানো ইত্যাদি নিয়ন্ত্রনে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
পাল্লা দিয়ে ‘ওভারটেকিং’ করা বন্ধ করতে হবে। চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে ড্রাইভারদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার সময় চালকদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকেই আমলে নিতে হবে। কোন অযোগ্য ও অদক্ষ চালক যেন লাইসেন্স না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গাড়ি চালকদের জন্য নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা গেলে ভালো হয়। যদিও এটি বাস্তবায়নের কথা শোনা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়কের পাশাপাশি স্টেশনগুলোকেও প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, মহাসড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।
একজন চালক কত মানুষের প্রাণ হাতে নিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালান। সেই মানুষগুলোর প্রতি চালকদের দরদ থাকা উচিত। যেভাবেই হোক একজন চালককে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সম্ভব সবকিছুই করতে হবে। ‘সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি’- একথা চালকদের মাথায় রাখতে হবে। সবচেয়ে জরুরি হলো কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি ও চালকদের সচেতনতা তৈরি।
মানুষের প্রয়োজনে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। প্রতিদিনই বহুসংখ্যক নতুন গাড়ি রাস্তায় নামছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনাও। এসব দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করছে। এই মানুষগুলোর সাথে জড়িত পরিবার ও তাদের আত্মীয়-স্বজন অবর্ণনীয় কষ্টে পড়ে। বিষয়গুলো আমাদের ভাবা উচিত বলে আমি মনে করি। সরকারি, বেসরকারি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন কর্তৃপক্ষকে নিহত ও আহত হওয়া পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। করতে হবে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা। আমরা সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি। সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল কবে থামবে? আর কত প্রাণ ঝরবে? মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া সড়কগুলোকে যেভাবেই হোক নিরাপদ করতে হবে সকলের জন্য- আজ নিরাপদ সড়ক দিবসে এই কামনা।
★লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট