শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

খুলনায় নারীকে জবাই করে হত্যা, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি

খুলনা নগরীর গোবরচাকা ক্রস রোডস্থ তেতুলতলার একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া বাসা থেকে কবিতা রানী দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধারের মামলার আসামি আবু বক্কর মোল্লা আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার এস আই রহিত কুমার বিশ্বাস আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এসময় আবু বক্করের দেয়া ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত- ১ এর বিচারক তরিকুল ইসলাম রেকর্ড করেছেন। এর আগে ৬ নভেম্বর রাতে র‌্যাবের হাতে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার হয় আবু বক্কর ও তার কথিত স্ত্রী স্বপ্না বেগম। আবু বক্কর রামপাল উপজেলার ভাগা গ্রামের জনৈক জাকির মোল্লার ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার এস আই রহিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ৫ নভেম্বর রাতে আবু বক্কর হাঁটতে বের হন। ওই রাতে কবিতার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে অনৈতিক সম্পর্কে রাজি হয়। পরে গোবরচাকা আবু বক্করের বাড়িতে নেওয়া হয় কবিতা রানিকে। সেখানে শারীরিক সম্পর্ক সম্পন্ন হওয়ার পর কবিতা আবু বক্করের কাছে চুক্তির চেয়ে আরও বেশী টাকা দাবি করেন। কিন্তু আবু বক্কর ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর উচু গলায় কথা বলতে থাকেন কবিতা। তাকে নিচু গলায় কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন আসামি। পরবর্তীতে তাকে হুমকি দিতে থাকেন কবিতা। দাবিকৃত টাকা না দিলে হয় পুলিশ না হয় এ বাড়ির লোকজনকে ঘুম থেকে ডেকে তোলা হবে। এরমধ্যে বাড়ির মালিক রাজুর খালা ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে যান। তাকে চুপ করতে বলেন আসামি আবু বক্কর। কিন্তু কিছুতেই ওই নারী থামতে চান না। কবিতার মুখ বন্ধ করার জন্য মুখ ও নাক চেপে ধরেন আবু বক্কর। মুখ চেপে তিনি দরজার দিকে লক্ষ্য রাখেন। এসময়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে কবিতা মারা যান। পরবর্তীতে লাশ কী করবেন তা তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না। আবু বক্কর সাহায্যের জন্য বন্ধুদের ফোন দেয় কিন্তু কোন স্থান থেকে সাহায্যে পাননি তিনি। লাশটি গুম করার জন্য প্রথমে তিনি ধারলো বটি দিয়ে কবিতার দু’হাতের কবজি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। পরে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। মাথাটি পলিথিনে ও দেহটি একটি বাক্সে ভেতর ভরে রাখেন তিনি। হাতের কবজি দু’টি বাজারের ব্যাগে করে বাড়ির পাশে সরু স্থানের একটি ড্রেনে ফেলে দিয়ে কথিত স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে নিয়ে ঢাকায় পালিয়ে যান।
এস আই রহিত কুমার বিশ্বাস আরও বলেন, লাশ উদ্ধার হওয়ার দিনে সোনাডাঙ্গা থানার এস আই শান্তুনু রহমান বাদী হয়ে আবু বক্কর ও তার কথিত স্ত্রী স্বপ্না বেগমের নামসহ অজ্ঞাতনাম আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন যার নং- ২। আদালতে স্বীকার দেওয়ার পূর্বে থানায় পুলিশের কাছে হত্যাকান্ডের বর্ণনা দেয়। সকালে জবানবন্দি দিতে চাইলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে আদালতে উপস্থিত করা হয়।
উল্লেখ্য, নগরীর ৬ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে নগরীর ১, গোবরচাকা ক্রস রোডস্থ তেতুলতলা জনৈক রাজুর বাড়ির ভাড়াটিয়া বাসা থেকে কবিতা রানী দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা হত্যার পর শরীর থেকে মাথাটি বিচ্ছিন্ন করে ওই বাসার বাড়াটিয়া স্বামী আবু বক্কার ও স্ত্রী সপ্না খাতুন পালিয়ে যায়।
বার্তাকণ্ঠ /এন

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

আশুলিয়ায় হেযবুত তওহীদ কর্মীদের উপর হামলা, নারীসহ আহত ১৩

খুলনায় নারীকে জবাই করে হত্যা, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ নভেম্বর ২০২২
খুলনা নগরীর গোবরচাকা ক্রস রোডস্থ তেতুলতলার একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া বাসা থেকে কবিতা রানী দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধারের মামলার আসামি আবু বক্কর মোল্লা আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার এস আই রহিত কুমার বিশ্বাস আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এসময় আবু বক্করের দেয়া ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত- ১ এর বিচারক তরিকুল ইসলাম রেকর্ড করেছেন। এর আগে ৬ নভেম্বর রাতে র‌্যাবের হাতে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার হয় আবু বক্কর ও তার কথিত স্ত্রী স্বপ্না বেগম। আবু বক্কর রামপাল উপজেলার ভাগা গ্রামের জনৈক জাকির মোল্লার ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার এস আই রহিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ৫ নভেম্বর রাতে আবু বক্কর হাঁটতে বের হন। ওই রাতে কবিতার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে অনৈতিক সম্পর্কে রাজি হয়। পরে গোবরচাকা আবু বক্করের বাড়িতে নেওয়া হয় কবিতা রানিকে। সেখানে শারীরিক সম্পর্ক সম্পন্ন হওয়ার পর কবিতা আবু বক্করের কাছে চুক্তির চেয়ে আরও বেশী টাকা দাবি করেন। কিন্তু আবু বক্কর ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর উচু গলায় কথা বলতে থাকেন কবিতা। তাকে নিচু গলায় কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন আসামি। পরবর্তীতে তাকে হুমকি দিতে থাকেন কবিতা। দাবিকৃত টাকা না দিলে হয় পুলিশ না হয় এ বাড়ির লোকজনকে ঘুম থেকে ডেকে তোলা হবে। এরমধ্যে বাড়ির মালিক রাজুর খালা ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে যান। তাকে চুপ করতে বলেন আসামি আবু বক্কর। কিন্তু কিছুতেই ওই নারী থামতে চান না। কবিতার মুখ বন্ধ করার জন্য মুখ ও নাক চেপে ধরেন আবু বক্কর। মুখ চেপে তিনি দরজার দিকে লক্ষ্য রাখেন। এসময়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে কবিতা মারা যান। পরবর্তীতে লাশ কী করবেন তা তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না। আবু বক্কর সাহায্যের জন্য বন্ধুদের ফোন দেয় কিন্তু কোন স্থান থেকে সাহায্যে পাননি তিনি। লাশটি গুম করার জন্য প্রথমে তিনি ধারলো বটি দিয়ে কবিতার দু’হাতের কবজি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। পরে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। মাথাটি পলিথিনে ও দেহটি একটি বাক্সে ভেতর ভরে রাখেন তিনি। হাতের কবজি দু’টি বাজারের ব্যাগে করে বাড়ির পাশে সরু স্থানের একটি ড্রেনে ফেলে দিয়ে কথিত স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে নিয়ে ঢাকায় পালিয়ে যান।
এস আই রহিত কুমার বিশ্বাস আরও বলেন, লাশ উদ্ধার হওয়ার দিনে সোনাডাঙ্গা থানার এস আই শান্তুনু রহমান বাদী হয়ে আবু বক্কর ও তার কথিত স্ত্রী স্বপ্না বেগমের নামসহ অজ্ঞাতনাম আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন যার নং- ২। আদালতে স্বীকার দেওয়ার পূর্বে থানায় পুলিশের কাছে হত্যাকান্ডের বর্ণনা দেয়। সকালে জবানবন্দি দিতে চাইলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে আদালতে উপস্থিত করা হয়।
উল্লেখ্য, নগরীর ৬ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে নগরীর ১, গোবরচাকা ক্রস রোডস্থ তেতুলতলা জনৈক রাজুর বাড়ির ভাড়াটিয়া বাসা থেকে কবিতা রানী দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা হত্যার পর শরীর থেকে মাথাটি বিচ্ছিন্ন করে ওই বাসার বাড়াটিয়া স্বামী আবু বক্কার ও স্ত্রী সপ্না খাতুন পালিয়ে যায়।
বার্তাকণ্ঠ /এন