শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নোটিশ ছাড়াই অর্ধ শত বছরের ১৪৭ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দিলো প্রশাসন

নোটিশ ছাড়াই অর্ধ শত বছরের ১৪৭ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। এতে দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ছোটবগী বাজারের ১৪৭ জন ব্যবসায়ী পথে বসেছেন। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার তালতলী উপজেলার ছোটবগী বাজারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা পুর্নবাসনের দাবী জানিয়েছেন।
জানাগেছে, দক্ষিণাঞ্চলের তালতলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ছোটবগী বাজার। শত বছর পূর্বে এ বাজারটি স্থাপন করা হয়। প্রতি শুক্রবার এখানে হাট বসে। দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম গরু ও ধানের বাজার বসে এখানে। ৫০ বছর পূর্বে বাজার সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের উপরে ব্যবসায়ীরা ঘর নিমার্ণ করে ব্যবসা করে আসছেন। বৃহস্পতিবার সকালে নোটিশ ছাড়াই বরগুনা ভূমি অধিগ্রহন শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসন ভেকু মেশিন দিয়ে ১৪৭ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দিয়েছেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দেয়ায় ওই বাজারের ১৪৭ ব্যবসায়ী মালামাল নিয়ে বিপাকে পরেছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ নোটিশ না দিয়ে প্রশাসন ১৪৭ ঘর ভেঙ্গে ফেলেছে। প্রতিষ্ঠানের মালামাল সরাতে দেয়নি। অনেক প্রতিষ্ঠানের মালামাল নষ্ট হয়েছে। তারা আরো অভিযোগ করেন, আগে নোটিশ দিলে আমরা নিজেরা মালামাল সরিয়ে নিজেদের মত করে ঘর ভেঙ্গে নিতাম কিন্তু প্রশাসন আমাদের সেই সুযোগ দেয়নি। দ্রুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা পুর্নবাসনের দাবী জানিয়েছেন।
চায়ের দোকানদার শ্যামল, অরুন, বাবুল সিকদার ও শাখাওয়াত আলী গোলোন্দাজ কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, চায়ের দোহান দিয়া গুড়াগাড়া লইয়্যা খাইতাম। হেই পোতও রাহে নাই। মোগো দোহানগুলো ভাঙ্গা দিয়া গ্যাছে। মোরা এ্যাহন গুড়াগাড়া লইয়্যা কি খামু? তারা আরো বলেন, আগে মোগো দোহান ভাঙ্গতে কেউ কয় নাই। মোগো এ্যাহন পোতে বইতে অইবে।
বাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, বিশ বছর ধরে ব্যবসা করছি। কোন দিন ঘর ভাঙ্গার নোটিশ দেয়নি। হঠাৎ এসে বাজারের সকল ঘর ভেঙ্গে দিয়েছে। দোকানের মালামাল সরানোর সুযোগ দেয়নি। আমি এখন মালামাল নিয়ে কোথায় যাব?
ছোটবগী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ইজারাদার মোঃ মজিবুর রহমান বিশ্বাস বলেন, এক নিমিশে সব শেষ করে দিয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে আওয়ামীলীগ এর রাজনীতি করি। আমার ঘরেই ছিল আওয়ামীলীগ অফিস। যেই অফিসে ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বসে নিবার্চনী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। সেই অফিস নোটিশ ছাড়াই প্রশাসন ভেঙ্গে দিয়েছে। কি অপরাধ ছিল ছোটবগী বাজারের শত শত ব্যবসায়ীদের? তিনি আরো বলেন. আগামী শুক্রবার থেকে এখানে আর হাট বসবে না এবং রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দ্রুত ছোটবগী বাজারের ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের পুর্নবাসনের দাবী জানিয়েছেন তিনি।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মোঃ হিমেল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহনকৃত জমিতে অবৈধ ঘর উচ্ছেদে মাইকিং করা হয়েছে। তারপরও ঘর ভেঙ্গে নেয়নি। তাই প্রশাসন অবৈধঘর ভেঙ্গে দিয়েছেন।
বরগুনা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি অধিগ্রহন শাখা) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহনকৃত জমির অবৈধঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে।

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

বাংলাদেশ ও ভারত হচ্ছে অকৃত্রিম বন্ধু: ভারতীয় হাই কমিশনার

নোটিশ ছাড়াই অর্ধ শত বছরের ১৪৭ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দিলো প্রশাসন

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২
নোটিশ ছাড়াই অর্ধ শত বছরের ১৪৭ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। এতে দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ছোটবগী বাজারের ১৪৭ জন ব্যবসায়ী পথে বসেছেন। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার তালতলী উপজেলার ছোটবগী বাজারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা পুর্নবাসনের দাবী জানিয়েছেন।
জানাগেছে, দক্ষিণাঞ্চলের তালতলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ছোটবগী বাজার। শত বছর পূর্বে এ বাজারটি স্থাপন করা হয়। প্রতি শুক্রবার এখানে হাট বসে। দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম গরু ও ধানের বাজার বসে এখানে। ৫০ বছর পূর্বে বাজার সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের উপরে ব্যবসায়ীরা ঘর নিমার্ণ করে ব্যবসা করে আসছেন। বৃহস্পতিবার সকালে নোটিশ ছাড়াই বরগুনা ভূমি অধিগ্রহন শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসন ভেকু মেশিন দিয়ে ১৪৭ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দিয়েছেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দেয়ায় ওই বাজারের ১৪৭ ব্যবসায়ী মালামাল নিয়ে বিপাকে পরেছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ নোটিশ না দিয়ে প্রশাসন ১৪৭ ঘর ভেঙ্গে ফেলেছে। প্রতিষ্ঠানের মালামাল সরাতে দেয়নি। অনেক প্রতিষ্ঠানের মালামাল নষ্ট হয়েছে। তারা আরো অভিযোগ করেন, আগে নোটিশ দিলে আমরা নিজেরা মালামাল সরিয়ে নিজেদের মত করে ঘর ভেঙ্গে নিতাম কিন্তু প্রশাসন আমাদের সেই সুযোগ দেয়নি। দ্রুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা পুর্নবাসনের দাবী জানিয়েছেন।
চায়ের দোকানদার শ্যামল, অরুন, বাবুল সিকদার ও শাখাওয়াত আলী গোলোন্দাজ কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, চায়ের দোহান দিয়া গুড়াগাড়া লইয়্যা খাইতাম। হেই পোতও রাহে নাই। মোগো দোহানগুলো ভাঙ্গা দিয়া গ্যাছে। মোরা এ্যাহন গুড়াগাড়া লইয়্যা কি খামু? তারা আরো বলেন, আগে মোগো দোহান ভাঙ্গতে কেউ কয় নাই। মোগো এ্যাহন পোতে বইতে অইবে।
বাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, বিশ বছর ধরে ব্যবসা করছি। কোন দিন ঘর ভাঙ্গার নোটিশ দেয়নি। হঠাৎ এসে বাজারের সকল ঘর ভেঙ্গে দিয়েছে। দোকানের মালামাল সরানোর সুযোগ দেয়নি। আমি এখন মালামাল নিয়ে কোথায় যাব?
ছোটবগী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ইজারাদার মোঃ মজিবুর রহমান বিশ্বাস বলেন, এক নিমিশে সব শেষ করে দিয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে আওয়ামীলীগ এর রাজনীতি করি। আমার ঘরেই ছিল আওয়ামীলীগ অফিস। যেই অফিসে ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বসে নিবার্চনী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। সেই অফিস নোটিশ ছাড়াই প্রশাসন ভেঙ্গে দিয়েছে। কি অপরাধ ছিল ছোটবগী বাজারের শত শত ব্যবসায়ীদের? তিনি আরো বলেন. আগামী শুক্রবার থেকে এখানে আর হাট বসবে না এবং রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দ্রুত ছোটবগী বাজারের ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের পুর্নবাসনের দাবী জানিয়েছেন তিনি।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মোঃ হিমেল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহনকৃত জমিতে অবৈধ ঘর উচ্ছেদে মাইকিং করা হয়েছে। তারপরও ঘর ভেঙ্গে নেয়নি। তাই প্রশাসন অবৈধঘর ভেঙ্গে দিয়েছেন।
বরগুনা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি অধিগ্রহন শাখা) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহনকৃত জমির অবৈধঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে।