সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে আমনের বাম্পার ফলন, ভালো দামে খুশি কৃষক

প্রতিকূল আবহাওয়া ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি থাকা সত্ত্বেও ঠাকুরগাঁও জেলার চাষিরা সম্পূরক সেচ ও বাড়তি শ্রমের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে আমনের ভালো ফলন পেয়েছে।
চলতি মৌসুমে ভালো উৎপাদনের পাশাপাশি ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় জেলার চাষিরা বেশ খুশি।
বৃষ্টি-নির্ভর আমন চাষের রোপণ ও বেড়ে ওঠার সময় অল্প বৃষ্টিপাতের কারণে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনে আশঙ্কা ও সেচের বাড়তি খরচের কারণে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এ এলাকার কৃষকরা।
তাদের হাড়ভাঙ্গা শ্রমে ধান কাটা ও মাড়াই এই সময়ে শেষ পর্যন্ত আশানুরূপ ফলন ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিগত বছরের তুলনায় বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় আমন চাষিদের মুখে হাসি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁওয়ে চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করে। এতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৭১৬ মেট্রিক টন।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আব্দুল আজিজ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক বিঘা জমিতে আমন চাষ করতে সাধারণত ৬-৭ হাজার টাকা খরচ হয়। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় বাড়তি সেচের কারণে চাষিদের উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে।
পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকা সত্ত্বেও চারা রোপণ ও ফসল বৃদ্ধির সময় সরকারি সহায়তা ও কৃষকদের অতিরিক্ত শ্রমের প্রচেষ্টার কারণে ভালো ফলন ফলানো সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর  গ্রামের কৃষক একরামুল হক (৪৭)জানান, তিনি ৫ বিঘা (৫০শতক) জমিতে আমন চাষ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক বিঘা জমিতে আমন চাষে সাধারণত ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়। এই মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে সেচ দেওয়ায় বিঘা প্রতি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ৫ বিঘা জমি চাষে তার খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা এবং ধান পেয়েছেন ১১৫ মণ। প্রতি মণ ধান ১১০০ -১২০০ টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা পেয়েছেন। এতে তার লাভ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।এসময় তিনি আরো বলেন,এখন গম ও আলু চাষের জন্য খেত প্রস্তুত ‘আমনের ভালো দাম পাওয়ায় গম ও আলু চাষে বেগ পেতে হবে না।
জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের গরকতগাঁও গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম রুবেল (৩৮)জানান, তিনি ১০ বিঘা (৫০শতক) জমিতে আমন চাষ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক বিঘা জমিতে আমন চাষে সাধারণত ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়। এই মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে, মজুরি মুল্য বৃদ্ধি এবং ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে সেচ দেওয়ায় বিঘা প্রতি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ১০ বিঘা জমি চাষে তার খরচ হয়েছে এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা এবং ধান পেয়েছেন তিন শো মণ। প্রতি মণ ধান ১১০০ -১২০০ টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় তিন লক্ষ বিশ হাজার টাকা পেয়েছেন। এতে তার লাভ হয়েছে প্রায় এক লক্ষ ৭০ হাজার টাকা।
এসময় তিনি আরো বলেন,এখন আলু, গম ও ভুট্টা চাষের জন্য খেত প্রস্তুত ‘আমনের ভালো দাম পাওয়ায় আলু, গম ও ভুট্টা চাষে বেগ পেতে হবে না।
উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের কৃষক সফিউর রহমান বলেন, আমনের ফলন আল্লাহর রহমতে ভালো হয়েছে,দামও ভালো থাকায় পরবর্তী কৃষি কাজে অনেক সহায়ক হবে।

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

বিয়ে নিয়ে কোনো অস্বস্তি-আফসোস নেই স্বস্তিকার

ঠাকুরগাঁওয়ে আমনের বাম্পার ফলন, ভালো দামে খুশি কৃষক

প্রকাশের সময় : ০৯:২৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২
প্রতিকূল আবহাওয়া ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি থাকা সত্ত্বেও ঠাকুরগাঁও জেলার চাষিরা সম্পূরক সেচ ও বাড়তি শ্রমের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে আমনের ভালো ফলন পেয়েছে।
চলতি মৌসুমে ভালো উৎপাদনের পাশাপাশি ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় জেলার চাষিরা বেশ খুশি।
বৃষ্টি-নির্ভর আমন চাষের রোপণ ও বেড়ে ওঠার সময় অল্প বৃষ্টিপাতের কারণে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনে আশঙ্কা ও সেচের বাড়তি খরচের কারণে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এ এলাকার কৃষকরা।
তাদের হাড়ভাঙ্গা শ্রমে ধান কাটা ও মাড়াই এই সময়ে শেষ পর্যন্ত আশানুরূপ ফলন ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিগত বছরের তুলনায় বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় আমন চাষিদের মুখে হাসি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁওয়ে চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করে। এতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৭১৬ মেট্রিক টন।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আব্দুল আজিজ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক বিঘা জমিতে আমন চাষ করতে সাধারণত ৬-৭ হাজার টাকা খরচ হয়। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় বাড়তি সেচের কারণে চাষিদের উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে।
পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকা সত্ত্বেও চারা রোপণ ও ফসল বৃদ্ধির সময় সরকারি সহায়তা ও কৃষকদের অতিরিক্ত শ্রমের প্রচেষ্টার কারণে ভালো ফলন ফলানো সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর  গ্রামের কৃষক একরামুল হক (৪৭)জানান, তিনি ৫ বিঘা (৫০শতক) জমিতে আমন চাষ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক বিঘা জমিতে আমন চাষে সাধারণত ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়। এই মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে সেচ দেওয়ায় বিঘা প্রতি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ৫ বিঘা জমি চাষে তার খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা এবং ধান পেয়েছেন ১১৫ মণ। প্রতি মণ ধান ১১০০ -১২০০ টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা পেয়েছেন। এতে তার লাভ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।এসময় তিনি আরো বলেন,এখন গম ও আলু চাষের জন্য খেত প্রস্তুত ‘আমনের ভালো দাম পাওয়ায় গম ও আলু চাষে বেগ পেতে হবে না।
জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের গরকতগাঁও গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম রুবেল (৩৮)জানান, তিনি ১০ বিঘা (৫০শতক) জমিতে আমন চাষ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক বিঘা জমিতে আমন চাষে সাধারণত ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়। এই মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে, মজুরি মুল্য বৃদ্ধি এবং ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে সেচ দেওয়ায় বিঘা প্রতি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ১০ বিঘা জমি চাষে তার খরচ হয়েছে এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা এবং ধান পেয়েছেন তিন শো মণ। প্রতি মণ ধান ১১০০ -১২০০ টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় তিন লক্ষ বিশ হাজার টাকা পেয়েছেন। এতে তার লাভ হয়েছে প্রায় এক লক্ষ ৭০ হাজার টাকা।
এসময় তিনি আরো বলেন,এখন আলু, গম ও ভুট্টা চাষের জন্য খেত প্রস্তুত ‘আমনের ভালো দাম পাওয়ায় আলু, গম ও ভুট্টা চাষে বেগ পেতে হবে না।
উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের কৃষক সফিউর রহমান বলেন, আমনের ফলন আল্লাহর রহমতে ভালো হয়েছে,দামও ভালো থাকায় পরবর্তী কৃষি কাজে অনেক সহায়ক হবে।