সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ইবিতে পিলারের আঘাতে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু, ছাত্রলীগের ভাঙচুর

ইসলামী বিশ্বিবিদ্যালয়ের (ইবি) মেগা প্রজেক্টের অন্তর্ভুক্ত নির্মাণাধীন দ্বিতীয় প্রশাসন ভবনের পাইলিংয়ের সময় পিলারের আঘাতে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া নেয়ার পথে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ^বিদ্যালয়ের সিকিউরিটি অফিসার আব্দুস সালাম সেলিম। নিহত নির্মাণ শ্রমিকের নাম ওবাইদুর রহমান (৪০)। তিনি পাবনা জেলার ঈশ^রদী উপজেলার রূপপুরের আব্দুল লতিফের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে, পাইলিংয়ের পর পিলারের অতিরিক্ত অংশ কর্তন করা হচ্ছিল। এসময় পাইলিং মেশিনের নিচে কর্মরত ছিলেন ওবাইদুর ও তার অপর এক সহকর্মী। হঠাৎ যন্ত্রাংশের আঘাত লেগে ওয়্যার ছিঁড়ে পিলারের কর্তিত অংশ ওবাইদুরের গায়ের উপর পড়ে। এতে মাথার একপাশে গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে সেখান থেকে তাকে দ্রুত বিশ^বিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়ায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন দায়িত্বরত চিকিৎসক। পরে বিশ^বিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে কুষ্টিয়া নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পরে বিশ^বিদ্যালয়ের দায়িত্বরত প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে নিহত ওবাইদুরের মৃতদেহ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী সহিদ উদ্দীন মো. তারেক।

এদিকে ঘটনার প্রেক্ষিতে সন্ধ্যার পর শ্রমিকদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় শ্রমিকদের থাকার কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং পাশের টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন তারা। এতে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন শোকাহত নির্মাণ শ্রমিকরা।

এসময় ঘর থেকে বের করে দেয়া এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের শ্রমিকই মারা গেল আবার আমাদের উপরই অত্যাচার করা হচ্ছে। একবার এসে বলতেছে বাসা চলে যান, একবার এসে রুম থেকে বের করে দিচ্ছেন। আমরা এই রাতে কোথায় যাব? আসলে গরীব মানুষের কোন দাম নেই।

আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নির্মাণ শ্রমিকদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই কাজ করানোর জন্য প্রশাসন ও বিশ^বিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগকে দায়ী করেন। পরে প্রক্টোরিয়াল বডির আশ^াসে ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত তাদের চলে যেতে বললে আন্দোলন স্থগিত করেন তারা।

এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশল মুন্সী সহিদ উদ্দীন মো. তারেক বলেন, ওই শ্রমিকের মৃত্যুর জন্য অব্যবস্থাপনা দায়ী নয়। শ্রমিকদের যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিলো। সম্পূর্ণ অনাকাক্সিক্ষতভাবে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন দায়ী নয়। সংশ্লিষ্ট কনস্ট্রাকশন কোম্পানী এর সমস্ত দায়ভার বহন করবে। আমরা যতটুকু সম্ভব ট্রিটমেন্ট দিয়েছি।

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে চিলি , নিহত -২৪

ইবিতে পিলারের আঘাতে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু, ছাত্রলীগের ভাঙচুর

প্রকাশের সময় : ০৩:২২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২

ইসলামী বিশ্বিবিদ্যালয়ের (ইবি) মেগা প্রজেক্টের অন্তর্ভুক্ত নির্মাণাধীন দ্বিতীয় প্রশাসন ভবনের পাইলিংয়ের সময় পিলারের আঘাতে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া নেয়ার পথে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ^বিদ্যালয়ের সিকিউরিটি অফিসার আব্দুস সালাম সেলিম। নিহত নির্মাণ শ্রমিকের নাম ওবাইদুর রহমান (৪০)। তিনি পাবনা জেলার ঈশ^রদী উপজেলার রূপপুরের আব্দুল লতিফের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে, পাইলিংয়ের পর পিলারের অতিরিক্ত অংশ কর্তন করা হচ্ছিল। এসময় পাইলিং মেশিনের নিচে কর্মরত ছিলেন ওবাইদুর ও তার অপর এক সহকর্মী। হঠাৎ যন্ত্রাংশের আঘাত লেগে ওয়্যার ছিঁড়ে পিলারের কর্তিত অংশ ওবাইদুরের গায়ের উপর পড়ে। এতে মাথার একপাশে গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে সেখান থেকে তাকে দ্রুত বিশ^বিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়ায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন দায়িত্বরত চিকিৎসক। পরে বিশ^বিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে কুষ্টিয়া নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পরে বিশ^বিদ্যালয়ের দায়িত্বরত প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে নিহত ওবাইদুরের মৃতদেহ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী সহিদ উদ্দীন মো. তারেক।

এদিকে ঘটনার প্রেক্ষিতে সন্ধ্যার পর শ্রমিকদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় শ্রমিকদের থাকার কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং পাশের টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন তারা। এতে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন শোকাহত নির্মাণ শ্রমিকরা।

এসময় ঘর থেকে বের করে দেয়া এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের শ্রমিকই মারা গেল আবার আমাদের উপরই অত্যাচার করা হচ্ছে। একবার এসে বলতেছে বাসা চলে যান, একবার এসে রুম থেকে বের করে দিচ্ছেন। আমরা এই রাতে কোথায় যাব? আসলে গরীব মানুষের কোন দাম নেই।

আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নির্মাণ শ্রমিকদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই কাজ করানোর জন্য প্রশাসন ও বিশ^বিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগকে দায়ী করেন। পরে প্রক্টোরিয়াল বডির আশ^াসে ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত তাদের চলে যেতে বললে আন্দোলন স্থগিত করেন তারা।

এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশল মুন্সী সহিদ উদ্দীন মো. তারেক বলেন, ওই শ্রমিকের মৃত্যুর জন্য অব্যবস্থাপনা দায়ী নয়। শ্রমিকদের যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিলো। সম্পূর্ণ অনাকাক্সিক্ষতভাবে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন দায়ী নয়। সংশ্লিষ্ট কনস্ট্রাকশন কোম্পানী এর সমস্ত দায়ভার বহন করবে। আমরা যতটুকু সম্ভব ট্রিটমেন্ট দিয়েছি।