সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে দু’বাংলার মানুষের মিলন মেলা

ওপারে মেয়ে লিপি রানী, এপারে বাবা গণেশ রায়। দুজনের মাঝখানে কাঁটাতারের বেড়া। এর দুপাশে দাঁড়িয়ে থেকে তাঁরা কথোপকথন চালিয়ে যাচ্ছেন। দুজনেরই অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। মেয়ে ও মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে এই প্রথম নাতিকে দেখলেন গণেশ। কিন্তু তাকে ছুঁয়ে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তবু দেখা ও কথা বলতে পেরে যেন সন্তুষ্ট তাঁরা। গতকাল শুক্রবার এমন দৃশ্য দেখা গেছে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে। গণেশের বাড়ি জেলার সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চৌডাঙ্গা গ্রামে।

গতকাল হরিপুর উপজেলার চাপসার ও কোচল সীমান্তের তিন কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার পাশে এসে সমবেত হন দুই বাংলার হাজারো মানুষ। এ সময় তাঁরা স্বজনদের সঙ্গে ক্ষণিকের জন্য সাক্ষাৎ করেন।

জানা গেছে, প্রতিবছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি শুক্রবার পাথরকালী পূজা উপলক্ষে সীমান্তে দুই বাংলায় আলাদা হয়ে থাকা আত্মীয়স্বজনের মধ্যে কথা বলার সুযোগ করে দিতে এই ব্যতিক্রমী মেলা উদ্‌যাপন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের কয়েক হাজার মানুষ তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করেন। অনেকে হাস্যোজ্জ্বল চোখে-মুখে প্রিয় স্বজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এরপর তাঁরা নিজেদের নানান গল্প সেরে নিজ নিজ বাড়ি ফিরে যান।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার গাঙ্গর গ্রাম থেকে আসা বিনতী মালা বলেন, ‘অনেক বছর পর পিসি ও জেঠুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। এটা মায়ার টান। হাতে হাত ছুঁয়ে দিতে না পারলেও একটু চোখজুড়ে দেখতে পেলাম। এটাই অনেক কিছু।’

সদর উপজেলার সৈয়দ পাঠান গেছেন ছিটমহল বিনিময়ের সময় ছেড়ে যাওয়া বোনের সঙ্গে দেখা করতে। অনেক দিন পর সাক্ষাতে তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সৈয়দ পাঠান বলেন, ‘আমার যদি পাসপোর্ট করার সামর্থ্য থাকত, তাহলে আমি পাসপোর্ট করে ভারতে যেতাম। বোনের সঙ্গে অনেক দিন পর দেখা করে আমার প্রাণটা জুড়িয়ে গেল।’

পাকিস্তান শাসনামল থেকে মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বলে জানান স্থানীয়রা। তবে করোনার কারণে দুই বছর মেলা হয়নি।

মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নগেন কুমার পাল বলেন, সীমান্তের মিলনমেলাটি জমজমাট হয়ে উঠেছিল। ঠাকুরগাঁওসহ পাশের জেলা দিনাজপুর, নীলফামারী ও পঞ্চগড় থেকে কয়েক হাজার লোক এসেছেন এই মেলায়।

হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম শরীফুল হক বলেন, মেলা চলাকালীন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সীমান্তে ভিড় ছিল। মেলা শেষে দুই দেশের নাগরিকেরা তাঁদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে চিলি , নিহত -২৪

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে দু’বাংলার মানুষের মিলন মেলা

প্রকাশের সময় : ০১:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২

ওপারে মেয়ে লিপি রানী, এপারে বাবা গণেশ রায়। দুজনের মাঝখানে কাঁটাতারের বেড়া। এর দুপাশে দাঁড়িয়ে থেকে তাঁরা কথোপকথন চালিয়ে যাচ্ছেন। দুজনেরই অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। মেয়ে ও মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে এই প্রথম নাতিকে দেখলেন গণেশ। কিন্তু তাকে ছুঁয়ে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তবু দেখা ও কথা বলতে পেরে যেন সন্তুষ্ট তাঁরা। গতকাল শুক্রবার এমন দৃশ্য দেখা গেছে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে। গণেশের বাড়ি জেলার সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চৌডাঙ্গা গ্রামে।

গতকাল হরিপুর উপজেলার চাপসার ও কোচল সীমান্তের তিন কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার পাশে এসে সমবেত হন দুই বাংলার হাজারো মানুষ। এ সময় তাঁরা স্বজনদের সঙ্গে ক্ষণিকের জন্য সাক্ষাৎ করেন।

জানা গেছে, প্রতিবছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি শুক্রবার পাথরকালী পূজা উপলক্ষে সীমান্তে দুই বাংলায় আলাদা হয়ে থাকা আত্মীয়স্বজনের মধ্যে কথা বলার সুযোগ করে দিতে এই ব্যতিক্রমী মেলা উদ্‌যাপন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের কয়েক হাজার মানুষ তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করেন। অনেকে হাস্যোজ্জ্বল চোখে-মুখে প্রিয় স্বজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এরপর তাঁরা নিজেদের নানান গল্প সেরে নিজ নিজ বাড়ি ফিরে যান।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার গাঙ্গর গ্রাম থেকে আসা বিনতী মালা বলেন, ‘অনেক বছর পর পিসি ও জেঠুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। এটা মায়ার টান। হাতে হাত ছুঁয়ে দিতে না পারলেও একটু চোখজুড়ে দেখতে পেলাম। এটাই অনেক কিছু।’

সদর উপজেলার সৈয়দ পাঠান গেছেন ছিটমহল বিনিময়ের সময় ছেড়ে যাওয়া বোনের সঙ্গে দেখা করতে। অনেক দিন পর সাক্ষাতে তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সৈয়দ পাঠান বলেন, ‘আমার যদি পাসপোর্ট করার সামর্থ্য থাকত, তাহলে আমি পাসপোর্ট করে ভারতে যেতাম। বোনের সঙ্গে অনেক দিন পর দেখা করে আমার প্রাণটা জুড়িয়ে গেল।’

পাকিস্তান শাসনামল থেকে মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বলে জানান স্থানীয়রা। তবে করোনার কারণে দুই বছর মেলা হয়নি।

মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নগেন কুমার পাল বলেন, সীমান্তের মিলনমেলাটি জমজমাট হয়ে উঠেছিল। ঠাকুরগাঁওসহ পাশের জেলা দিনাজপুর, নীলফামারী ও পঞ্চগড় থেকে কয়েক হাজার লোক এসেছেন এই মেলায়।

হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম শরীফুল হক বলেন, মেলা চলাকালীন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সীমান্তে ভিড় ছিল। মেলা শেষে দুই দেশের নাগরিকেরা তাঁদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।