শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শীতের পিঠা খেতে দোকানে দোকানে ভিড়

smart

শীতের পিঠাপুলি বাঙালির আদি খাদ্য সংস্কৃতির একটি অংশ। বাংলার চিরায়ত লোকজ সংস্কৃতিতে পিঠা পায়েস বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
প্রতিবছরই শীতকালে দেশজুড়ে পিঠা তৈরির ব্যস্ততা চোখে পড়ে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে ধুম পড়ে যায় হরেক রকমের পিঠা বানানোর। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর বা সন্ধ্যায় গাঁয়ের বধূরা চুলোর পাশে বসে পিঠা তৈরিতে কাটান ব্যস্ত সময়।
শতাধিক ধরনের পিঠার প্রচলন রয়েছে বাংলাদেশে। তবে রাস্তার পাশের পিঠার দোকানগুলোতে কয়েক ধরনের পিঠা পাওয়া যায়। এরমধ্যে রয়েছে ভাপা পিঠা, নকশি পিঠা, চিতই পিঠা, রস পিঠা, ডিম-চিতই পিঠা, দোল পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা ইত্যাদি।
ঠাকুরগাঁও শহর রাস্তায় রাস্তায় পিঠা বানিয়ে বিক্রি করেন বিক্রেতারা। পিঠা তৈরি করে সংসার চালাতে হয় অনেকেরই।
একেক ধরনের পিঠার দাম হয় একেক রকম। সাধারণত চিতই পিঠা পাঁচটাকা, নকশি পিঠা ১০ টাকা, ডিম-চিতই পিঠা ১৫ টাকা ও ভাপা পিঠা ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দেখা যায়, চালের গুঁড়া, নারকেল, খেজুরের গুড় দিয়ে বানানো হয় ভাপা পিঠা। গোল আকারের এ পিঠা পাতলা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে ঢাকনা দেয়া হাঁড়ির ফুটন্ত পানির ভাপ দিয়ে তৈরি করা হয়। এ কারণেই এর নাম ভাপা পিঠা।
এদিকে চালের গুঁড়া পানিতে গুলিয়ে মাটির হাঁড়িতে বিশেষ উপায়ে তৈরি করা হয় চিতই পিঠা। অতি সাধারণ এই পিঠাটি গুড় বা ঝাল শুঁটকি ভর্তা দিয়ে খেতে খুবই মজা।
তাই চিতই পিঠা বিক্রি হয় শুটকি, মরিচ, ধনে পাতাসহ হরেক রকমের ভর্তা দিয়ে।
গ্রামাঞ্চলে শীতের পিঠা তৈরি করতে যে উৎসবের সৃষ্টি হয় সে তুলনায় শহরে খুব কমই চোখে পড়ে পিঠা-পুলির বাহার। তবে ইদানীং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত শীতের পিঠা উৎসব সাড়া ফেলে দেয় শহুরে জীবন।
এছাড়া শহরের পথে-ঘাটে বা ফুটপাতে পিঠা কেনাবেচা হয় পুরো শীতকালজুড়েই।
ঠাকুরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে, পুরান বাসিস্টন, আর্টগ্যালারি, প্রায় প্রতিটি রাস্তার পাশেই চোখে পড়ে অস্থায়ী পিঠার দোকান। প্রায় প্রতি শীতেই এসব দোকান বসে থাকে।
শিবগঞ্জ বাজারে পিঠা ব্যবসায়ী জামাল মিয়া জানান, আমি প্রতিদিন বিকাল বেলায় দোকান নিয়ে বসি। বেচাকেনা ভাল হলে দিন ছয় থেকে সাত হাজার টাকার পিঠা বেচতে পারি, এতে করে এক থেকে দেড় হাজার টাকা লাভ হয়। আবার কোনো কোনো দিন ব্যবসা খারাপও হয়ে থাকে।
ঠাকুরগাঁও রেললাইন বাজারে ভাপা পিঠা খেতে আসা ফারুক আলী জানান, চাকরির কারণে বাড়িতে যাওয়া হয় খুব কম। তবে এই শীতের মৌসুমে সস্তায় পিঠা খেতে ভালোই লাগে, অনেকটা মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ পাওয়া যায় এতে।
পিঠা খেতে আসা মো. আফজাল হোসেন বলেন, বিকালের নাস্তা পিঠা দিয়েই করে ফেলি, এই শীত মৌসুমে এটি বেশ ভাল লাগে।

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

বাংলাদেশ ও ভারত হচ্ছে অকৃত্রিম বন্ধু: ভারতীয় হাই কমিশনার

শীতের পিঠা খেতে দোকানে দোকানে ভিড়

প্রকাশের সময় : ০৫:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২২
শীতের পিঠাপুলি বাঙালির আদি খাদ্য সংস্কৃতির একটি অংশ। বাংলার চিরায়ত লোকজ সংস্কৃতিতে পিঠা পায়েস বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
প্রতিবছরই শীতকালে দেশজুড়ে পিঠা তৈরির ব্যস্ততা চোখে পড়ে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে ধুম পড়ে যায় হরেক রকমের পিঠা বানানোর। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর বা সন্ধ্যায় গাঁয়ের বধূরা চুলোর পাশে বসে পিঠা তৈরিতে কাটান ব্যস্ত সময়।
শতাধিক ধরনের পিঠার প্রচলন রয়েছে বাংলাদেশে। তবে রাস্তার পাশের পিঠার দোকানগুলোতে কয়েক ধরনের পিঠা পাওয়া যায়। এরমধ্যে রয়েছে ভাপা পিঠা, নকশি পিঠা, চিতই পিঠা, রস পিঠা, ডিম-চিতই পিঠা, দোল পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা ইত্যাদি।
ঠাকুরগাঁও শহর রাস্তায় রাস্তায় পিঠা বানিয়ে বিক্রি করেন বিক্রেতারা। পিঠা তৈরি করে সংসার চালাতে হয় অনেকেরই।
একেক ধরনের পিঠার দাম হয় একেক রকম। সাধারণত চিতই পিঠা পাঁচটাকা, নকশি পিঠা ১০ টাকা, ডিম-চিতই পিঠা ১৫ টাকা ও ভাপা পিঠা ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দেখা যায়, চালের গুঁড়া, নারকেল, খেজুরের গুড় দিয়ে বানানো হয় ভাপা পিঠা। গোল আকারের এ পিঠা পাতলা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে ঢাকনা দেয়া হাঁড়ির ফুটন্ত পানির ভাপ দিয়ে তৈরি করা হয়। এ কারণেই এর নাম ভাপা পিঠা।
এদিকে চালের গুঁড়া পানিতে গুলিয়ে মাটির হাঁড়িতে বিশেষ উপায়ে তৈরি করা হয় চিতই পিঠা। অতি সাধারণ এই পিঠাটি গুড় বা ঝাল শুঁটকি ভর্তা দিয়ে খেতে খুবই মজা।
তাই চিতই পিঠা বিক্রি হয় শুটকি, মরিচ, ধনে পাতাসহ হরেক রকমের ভর্তা দিয়ে।
গ্রামাঞ্চলে শীতের পিঠা তৈরি করতে যে উৎসবের সৃষ্টি হয় সে তুলনায় শহরে খুব কমই চোখে পড়ে পিঠা-পুলির বাহার। তবে ইদানীং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত শীতের পিঠা উৎসব সাড়া ফেলে দেয় শহুরে জীবন।
এছাড়া শহরের পথে-ঘাটে বা ফুটপাতে পিঠা কেনাবেচা হয় পুরো শীতকালজুড়েই।
ঠাকুরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে, পুরান বাসিস্টন, আর্টগ্যালারি, প্রায় প্রতিটি রাস্তার পাশেই চোখে পড়ে অস্থায়ী পিঠার দোকান। প্রায় প্রতি শীতেই এসব দোকান বসে থাকে।
শিবগঞ্জ বাজারে পিঠা ব্যবসায়ী জামাল মিয়া জানান, আমি প্রতিদিন বিকাল বেলায় দোকান নিয়ে বসি। বেচাকেনা ভাল হলে দিন ছয় থেকে সাত হাজার টাকার পিঠা বেচতে পারি, এতে করে এক থেকে দেড় হাজার টাকা লাভ হয়। আবার কোনো কোনো দিন ব্যবসা খারাপও হয়ে থাকে।
ঠাকুরগাঁও রেললাইন বাজারে ভাপা পিঠা খেতে আসা ফারুক আলী জানান, চাকরির কারণে বাড়িতে যাওয়া হয় খুব কম। তবে এই শীতের মৌসুমে সস্তায় পিঠা খেতে ভালোই লাগে, অনেকটা মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ পাওয়া যায় এতে।
পিঠা খেতে আসা মো. আফজাল হোসেন বলেন, বিকালের নাস্তা পিঠা দিয়েই করে ফেলি, এই শীত মৌসুমে এটি বেশ ভাল লাগে।