
এই শীতকালের জন্য হলেও একটা তুমি দরকার।’ জয় চক্রবর্তী নামে এক ছোট ভাইয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস আমার নজরে পড়ল।
সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘তোমার ফেসবুকের স্ট্যাটাস পড়েছি। বড় ভাই হিসাবে কিছু করার থাকলে বলতে পারো।’
জয় কিছুটা সংকোচ নিয়ে বলল, ‘ভাই, আমার এলাকায় শীত বেশি পড়ে। লেপ-কম্বলে কাজ হয় না। তাই আরেকজন সঙ্গে থাকলে ভালো হতো।’
‘কোনো বন্ধু বা ছোট ভাইকে শীতকালের জন্য বাসায় রেখে দাও।’
‘ভাই, আপনি বুঝেও না বোঝার ভান করছেন। প্রেমিকা বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। তাই একটা অজুহাত দাঁড় করিয়েছি।’
আমি হাসি দিয়ে বললাম, ‘তোমার মা-বাবাকে বলো।’
‘বলার সাহস পাচ্ছি না। কাউকে দিয়ে বলাবো, নির্ভরযোগ্য তেমন কেউ নেই। আপনি যদি বড় ভাইয়ের ভূমিকা পালন করতেন, অনেক উপকার হতো।’
‘উপকার, না অপকার, সেটা বিয়ের পর বুঝতে পারবে। আমি এ সপ্তাহেই তোমাদের বাসায় আসব।’
জয় খুশি হয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে ফোন রেখে দিল।
শৈতপ্রবাহ শুরুর আগেই জয়ের জন্য একটা ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এই ভেবে ছুটির দিনে আমি ওদের বাসায় গিয়ে উপস্থিত হলাম।
জয়ের বাবা বাসাতেই ছিলেন। আমার আগমনে বিস্মিত ও খুশি হলেন। জয় তার মাকে বলে আমার জন্য চা-নাস্তার ব্যবস্থা করল।
আমি নাস্তা সেরে চা নিয়ে আঙ্কেলের মুখোমুখি বসলাম। চায়ে চুমুক দিতে দিতে বললাম, ‘আঙ্কেল, এবার মনে হয় বেশি শীত পড়বে।’
উনি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে বললেন, ‘পরিবেশ বিপর্যয় হয়েছে। ঠান্ডা তো বাড়বেই।’
‘আঙ্কেল, শীতে অনেকের মানসিক বিপর্যয়ও হয়। আপনি সহযোগিতা করলে একজনকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা সম্ভব।’ আঙ্কেল আগ্রহ নিয়ে ঘটনা জানতে চাইলেন।
বললাম, ‘এই শীতে জয়ের বিয়েটা করিয়ে দিলে ভালো হতো। সে ভয়ে বলার সাহস পাচ্ছে না। আপনাকে রাজি করাতেই মূলত আমি এসেছি।’
‘বাবা, আমি বিয়ে করেছি ত্রিশ বছর আগে। প্রতিদিন বিপর্যয়ের মধ্যে সময় পার করছি। জেনেশুনে ছেলেটাকে এত দ্রুত বিপদের মুখে ছেড়ে দিতে চাচ্ছি না।’
আমি আঙ্কেলকে বুঝিয়ে বললাম। উনি অবশেষে রাজি হলেন।
দুই.
বিয়ের মাসখানেক পর জয়ের ফোন, ‘ভাই, আমাকে বাঁচান!’
আতঙ্কিত হয়ে বললাম, ‘কী হয়েছে আবার?’
‘ভাই, আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যে কোনো রাতে মারা যাবো!’
‘তোমার তো এখন আনন্দের সময়। শৈতপ্রবাহ শুরুর আগে একটা তুমি পেয়ে গেলা।’
‘এই তুমিটাই আমার জীবন শেষ করে দিচ্ছে ভাই।’
‘সমস্যার কথা বলো।’
‘ভাই, বিয়ের পর টানা কয়েক সপ্তাহ পাহাড়, সমুদ্র ঘুরতে হলো বউকে নিয়ে।’
‘ভ্রমণে আয়ু বাড়ে। গুরুজনদের মুখে শুনেছি।’
‘আমার আয়ু দিন দিন কমছে ভাই। পাহাড়ে গিয়ে বউ রিসোর্ট থেকে বের হতে চায় না। বলে পাহাড় দেখার কী আছে? রুমে বসে আমাকে দেখো। সমুদ্রে গেলাম। সেখানে মজা করার নাম করে আমাকে চুবিয়ে কয়েক লিটার পানি খাওয়ালো। বাসায় ফিরলাম জ্বর-সর্দি নিয়ে। সুস্থ হতে না হতেই পড়ছি নতুন সমস্যায়। রাতে ঘুমাতে হয় এক কম্বলের মধ্যে।’
‘তোমার শীত বেশি। ভালোই তো হয়েছে।’
‘ভাই, কম্বলের ভেতর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধ হয়ে যাই। আমার ওপর রীতিমতো অত্যাচার চলছে।’
‘তুমি আলাদা কম্বল বা কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমাও। দুইজনেরই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
‘চেষ্টা করেছিলাম। বউ বলে আমি নাকি আলাদা কম্বলের ভেতর থেকে মোবাইল ফোনে বান্ধবীদের সঙ্গে চ্যাট করি।’
‘আমি তোমাকে এখন কীভাবে সহযোগিতা করতে পারি!’ অনেকটা কাস্টমার সার্ভিসের লোকজনের মতো করে বললাম।
জয় বলল, ‘শীত-গ্রীষ্ম, এমনকি সব ঋতুতেই মুক্ত থাকতে চাই।’
‘এমন কোনো কৌশলের সন্ধান পেলে আমাকেও জানাবে ভাই।’ এই বলে ফোন রেখে দিলাম।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho