শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের দ্বিতীয় জয় ফখরের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে

ওপেনার ফখর জামানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৩৭ রানের টার্গেট তাড়া করে নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তান। নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় পেয়েছে পাকিস্তান।
প্রথম ম্যাচেও সেঞ্চুরি করা ফখর এবার করেন ১৪৪ বলে অপরাজিত ১৮০ রান। প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও সেঞ্চুরি তুলে ১২৯ রানের ইনিংস খেলেও নিউজিল্যান্ডের হার রুখতে পারেননি ব্যাটার ড্যারিল মিচেল।
প্রথম দুই ওয়ানডে জিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।
রাওয়ালপিন্ডিতে টস জিতে প্রথমে বোলিং করতে নামে পাকিস্তান। দলীয় ৩৩ রানে ওপেনার উইল ইয়ংকে হারায় নিউজিল্যান্ড। ১৯ রান করে পাকিস্তানের পেসার হারিস রউফের শিকার হন ইয়ং।
দ্বিতীয় উইকেটে ৮৬ রান যোগ করে দলের রান ১শ’ পার করেন আরেক ওপেনার চাদ বোয়েস ও তিন নম্বরে নামা মিচেল। ৫১ রান করে রউফের দ্বিতীয় শিকার হন বোয়েস।
দলীয় ১১৯ রানে বোয়েসের আউটের পর নিউজিল্যান্ডের হাল ধরেন মিচেল ও অধিনায়ক টম লাথাম। ৩৪তম ওভারে নিউজিল্যান্ডের রান ২শতে নেন তারা। ৩৯তম ওভারে লাথামের হাফ-সেঞ্চুরির পরের ওভারে ওয়ানডে তৃতীয় সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মিচেল। এজন্য বল খেলেছেন ১০২টি।
মিচেল-লাথামের ব্যাটিং নৈপুণ্যে ৪৬তম ওভারে নিউজিল্যান্ডের রান ৩শ’ পার হয়। ঐ ওভারে মিচেলকে থামিয়ে জুটি ভাঙেন পাকিস্তানের পেসার নাসিম শাহ।
৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১৯ বলে ১২৯ রান করেন মিচেল। তৃতীয় উইকেটে মিচেল-লাথাম ১৫৯ বলে ১৮৩ রান যোগ করেন।
মিচেলের মত সেঞ্চুরির পথে ছিলেন লাথামও। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ব্যক্তিগত ৯৮ রানে রউফের বলে থামতে হয় লাথামকে । ৮৫ বল খেলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন লাথাম।
শেষদিকে জেমস নিশামের অপরাজিত ১৭ রানে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৩৬ রান করে নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানের মাটিতে এটিই নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। পাকিস্তানের রউফ ৭৮ রানে ৪ উইকেট নেন।
৩৩৭ রানের বিশাল টার্গেটে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার ফখর ও ইমাম উল হক। ৬৬ রানের জুটিতে ২৪ রান অবদান রেখে নিউজিল্যান্ডের পেসার ম্যাট হেনরির বলে আউট হন ইমাম।
দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক বাবর আজমের সাথে ১২২ বলে ১৩৫ রান যোগ করেন ফখর। ২৮তম ওভারে ৮৩ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১০ম ও টানা তিন ওয়ানডে সেঞ্চুরির স্বাদ পান ফখর। পাকিস্তানের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে টানা তিন ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির নজির গড়েন ফখর।
ফখরের সেঞ্চুরির পর ওয়ানডেতে ২৫তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন বাবর। ব্যক্তিগত ৬৫ রানে বাবরকে শিকার করে নিউজিল্যান্ডকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন স্পিনার ইশ সোধি। চার নম্বরে নামা আব্দুল্লাহ শফিক ৭ রানে আউট হন। তখন দলের স্কোর ৩ উইকেটে ২১৮ রান।
এসময় ম্যাচ জিততে পাকিস্তানের দরকার পড়ে ৯৫ বলে ১১৯ রান।
মোহাম্মদ রিজওয়ানকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে ১০ বল বাকি থাকতেই পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন ফখর।
চতুর্থ উইকেটে ৮৬ বলে অবিচ্ছিন্ন ১১৯ রান যোগ করেন ফখর-রিজওয়ান। ১৭টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১৪৪ বলে অপরাজিত ১৮০ করেন ফখর। দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পথে ৫০ ও ৫৫ রানে জীবন পান ফখর। ৪১ বলে অপরাজিত ৫৪ রান করেন রিজওয়ান।
এই ইনিংস খেলার পথে পাকিস্তানের হয়ে দ্রুততম ৩ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন ওয়ানডেতে পাকিস্তানের একমাত্র বল-সেঞ্চুরিয়ান ফখর। এতে ভেঙে যায় বাবরের রেকর্ড।
ফখর ৬৭ ও বাবর ৬৮ ইনিংসে ৩ হাজার করেন। ম্যাচ সেরা হন ফখর।
আগামী ৩ মে করাচিতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ‍ৃ

পাকিস্তানের দ্বিতীয় জয় ফখরের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে

প্রকাশের সময় : ০১:১৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ মে ২০২৩

ওপেনার ফখর জামানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৩৭ রানের টার্গেট তাড়া করে নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তান। নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় পেয়েছে পাকিস্তান।
প্রথম ম্যাচেও সেঞ্চুরি করা ফখর এবার করেন ১৪৪ বলে অপরাজিত ১৮০ রান। প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও সেঞ্চুরি তুলে ১২৯ রানের ইনিংস খেলেও নিউজিল্যান্ডের হার রুখতে পারেননি ব্যাটার ড্যারিল মিচেল।
প্রথম দুই ওয়ানডে জিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।
রাওয়ালপিন্ডিতে টস জিতে প্রথমে বোলিং করতে নামে পাকিস্তান। দলীয় ৩৩ রানে ওপেনার উইল ইয়ংকে হারায় নিউজিল্যান্ড। ১৯ রান করে পাকিস্তানের পেসার হারিস রউফের শিকার হন ইয়ং।
দ্বিতীয় উইকেটে ৮৬ রান যোগ করে দলের রান ১শ’ পার করেন আরেক ওপেনার চাদ বোয়েস ও তিন নম্বরে নামা মিচেল। ৫১ রান করে রউফের দ্বিতীয় শিকার হন বোয়েস।
দলীয় ১১৯ রানে বোয়েসের আউটের পর নিউজিল্যান্ডের হাল ধরেন মিচেল ও অধিনায়ক টম লাথাম। ৩৪তম ওভারে নিউজিল্যান্ডের রান ২শতে নেন তারা। ৩৯তম ওভারে লাথামের হাফ-সেঞ্চুরির পরের ওভারে ওয়ানডে তৃতীয় সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মিচেল। এজন্য বল খেলেছেন ১০২টি।
মিচেল-লাথামের ব্যাটিং নৈপুণ্যে ৪৬তম ওভারে নিউজিল্যান্ডের রান ৩শ’ পার হয়। ঐ ওভারে মিচেলকে থামিয়ে জুটি ভাঙেন পাকিস্তানের পেসার নাসিম শাহ।
৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১৯ বলে ১২৯ রান করেন মিচেল। তৃতীয় উইকেটে মিচেল-লাথাম ১৫৯ বলে ১৮৩ রান যোগ করেন।
মিচেলের মত সেঞ্চুরির পথে ছিলেন লাথামও। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ব্যক্তিগত ৯৮ রানে রউফের বলে থামতে হয় লাথামকে । ৮৫ বল খেলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন লাথাম।
শেষদিকে জেমস নিশামের অপরাজিত ১৭ রানে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৩৬ রান করে নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানের মাটিতে এটিই নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। পাকিস্তানের রউফ ৭৮ রানে ৪ উইকেট নেন।
৩৩৭ রানের বিশাল টার্গেটে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার ফখর ও ইমাম উল হক। ৬৬ রানের জুটিতে ২৪ রান অবদান রেখে নিউজিল্যান্ডের পেসার ম্যাট হেনরির বলে আউট হন ইমাম।
দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক বাবর আজমের সাথে ১২২ বলে ১৩৫ রান যোগ করেন ফখর। ২৮তম ওভারে ৮৩ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১০ম ও টানা তিন ওয়ানডে সেঞ্চুরির স্বাদ পান ফখর। পাকিস্তানের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে টানা তিন ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির নজির গড়েন ফখর।
ফখরের সেঞ্চুরির পর ওয়ানডেতে ২৫তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন বাবর। ব্যক্তিগত ৬৫ রানে বাবরকে শিকার করে নিউজিল্যান্ডকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন স্পিনার ইশ সোধি। চার নম্বরে নামা আব্দুল্লাহ শফিক ৭ রানে আউট হন। তখন দলের স্কোর ৩ উইকেটে ২১৮ রান।
এসময় ম্যাচ জিততে পাকিস্তানের দরকার পড়ে ৯৫ বলে ১১৯ রান।
মোহাম্মদ রিজওয়ানকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে ১০ বল বাকি থাকতেই পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন ফখর।
চতুর্থ উইকেটে ৮৬ বলে অবিচ্ছিন্ন ১১৯ রান যোগ করেন ফখর-রিজওয়ান। ১৭টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১৪৪ বলে অপরাজিত ১৮০ করেন ফখর। দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পথে ৫০ ও ৫৫ রানে জীবন পান ফখর। ৪১ বলে অপরাজিত ৫৪ রান করেন রিজওয়ান।
এই ইনিংস খেলার পথে পাকিস্তানের হয়ে দ্রুততম ৩ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন ওয়ানডেতে পাকিস্তানের একমাত্র বল-সেঞ্চুরিয়ান ফখর। এতে ভেঙে যায় বাবরের রেকর্ড।
ফখর ৬৭ ও বাবর ৬৮ ইনিংসে ৩ হাজার করেন। ম্যাচ সেরা হন ফখর।
আগামী ৩ মে করাচিতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ‍ৃ