
আমাদের রক্তনালির মধ্যে দিয়ে রক্তপ্রবাহের সময় যেই চাপ তৈরি হয়, তাকেই বলা হয় রক্তচাপ। স্বাভাবিক রক্তচাপ হলো ১২০/৮০ এমএমএইচজি। তবে কোনো কারণে রক্তচাপ ১৪০/৯০-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে গেলে হাই প্রেশার হিসাবে ধরে নেয়া হয়।
মুশকিল হলো, রক্তচাপ স্বাভাবিকের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেলেও অনেক সময় শরীরে কোনো লক্ষণই থাকে না। বরং আপনার অগোচরেই এই অসুখ দেহের ভয়াবহ ক্ষতি করে দিতে পারে। এমনকি বারোটা বাজতে পারে হার্ট, কিডনি, মস্তিষ্ক এবং চোখসহ দেহের একাধিক অঙ্গের।
তাই যেনতেন প্রকারে হাই ব্লাড প্রেশারের মতো ঘাতক অসুখকে প্রতিরোধ করতে হবে। ভাবছেন নিশ্চয়ই, এই কঠিন কাজটি কীভাবে করবেন? তার জন্য আপনাকে মেনে চলতে হবে পাঁচটি টোটকা। তাহলে আর দেরি না করে জেনে নিন সেগুলো সম্পর্কে।
লবণ খাওয়া যাবে না
মাথায় রাখবেন, লবণ হলো শরীরের জন্য বিষের সমান। এই উপাদানের কারসাজিতে বাড়তে পারে ব্লাড প্রেশার। এমনকি অন্যান্য একাধিক শারীরিক সমস্যার ফাঁদে পড়ারও ঝুঁকি বাড়ে। তাই নীরোগ জীবনযাপন করার ইচ্ছা থাকলে যত দ্রুত সম্ভব লবণের থেকে দূরত্ব তৈরি করুন।
বিশেষ করে কাঁচা লবণ কোনোভাবেই খাওয়া চলবে না। আশা করছি, এই নিয়মটা মেনে চললেই আপনি অনায়াসে এই মারণ অসুখ প্রতিরোধ করতে পারবেন।
এক্সারসাইজ করতে হবে
অলস জীবন রোগের বাসা! তাই তো সারাদিনের শত ব্যস্ততার মধ্যেও আপনাকে সময় বের করে এক্সারসাইজ করতে হবে। তাহলেই আর প্রেশার বাড়বে না।
তাই হাই প্রেশারের মতো জটিল অসুখ প্রতিরোধের ইচ্ছা থাকলে সপ্তাহে অন্তত ২ ঘণ্টা হাঁটা, সাইকেল চালানো বা দৌড়ানোর মতো এরোবিক এক্সারসাইজ করতে হবে। এতেই উপকার মিলবে হাতেনাতে।
ওজন কমাতে হবে
ওজনকে স্বাভাবিকের গণ্ডিতে আটকে না রাখতে পারলে হাই প্রেশারের মতো জটিল অসুখের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা বাড়বে বৈকি! তাই যত দ্রুত সম্ভব মেদের বহর কমাতে হবে। এই কাজটি করার জন্য জিমে-মাঠে ঘাম ধরানোর পাশাপাশি ফ্যাট ফ্রি ডায়েটের ওপরও জোর দিতে হবে।
তাই পারলে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। তিনিই আপনার স্বাস্থ্যের সবদিক চিন্তা করে সঠিক ডায়েট চার্ট ও এক্সারসাইজ প্ল্যান বানিয়ে দিতে পারবেন। তারপর সেই পরমর্শ মেনে চলেই আপনি ওজন কমাতে পারবেন।
মদ্যপান থেকে বিরত থাকা
মদের মতো ক্ষতিকর পানীয়ের থেকে যত দ্রুত সম্ভব দূরত্ব তৈরি করুন। আসলে এই পানীয়ে এমন কিছু ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে যা সরাসরি ব্লাড প্রেশার বাড়াতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে এই মারণ নেশা ছাড়তে হবে।
শুধ তাই নয়, আপনার ধূমপানের নেশাও কিন্তু ব্লাড প্রেশারকে আউট অব কন্ট্রোল করে দিতে পারে। তাই যেনতেন প্রকারে ধূমপান ছাড়ুন। এতেই আপনার সুস্থ থাকার পথ প্রশস্ত হবে।
শাক-সবজি খাওয়া
হাই ব্লাড প্রেশারকে মাত দিতে চাইলে পাতে রাখতে হবে প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি ও ফল। এসব প্রাকৃতিক উপাদানে রয়েছে পটাশিয়ামের ভাণ্ডার, যা হাই প্রেশার কমানোর কাজে সিদ্ধহস্ত। তাই নীরোগ জীবন কাটানোর ইচ্ছা থাকলে ডায়েটে মৌসুমি ফল, শাক ও সবজি রাখুন।
এই উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেই হার্টের অসুখ, কিডনির ড্যামেজের হাত থেকেও বাঁচা যাবে সহজেই। ভালো থাকবে চোখের স্বাস্থ্যও। কারণ উচ্চ রক্তচাপ এই সবকটি অঙ্গেরই ক্ষতি করে। তাই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার কোনো বিকল্প নেই।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho