
ব্যবসা একটি পবিত্র ইবাদত ও জীবিকা উপার্জনের উৎকৃষ্ট মাধ্যম; যদি তা হয় সততা, ইনসাফ, আমানতদারি তথা শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত পন্থায়। নবি-রাসূলদের মধ্যে অসংখ্য নবি-রাসূল জীবিকা নির্বাহের উপায় হিসাবে ব্যবসাকে বেছে নিয়েছিলেন।
আমাদের প্রিয়নবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন ব্যবসায়িক পরিবারের সন্তান, ছোটবেলা থেকেই ব্যবসার প্রতি ছিল তাঁর প্রচণ্ড আগ্রহ। মোটকথা তিনিও ছিলেন একজন বিচক্ষণ সৎ ও সফল ব্যবসায়ী।
মহান রাব্বুল আলামিন ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং যারা ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় না নিয়ে সততার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করে তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) বিশেষ সুসংবাদ প্রদান করেছেন।
মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন (সূরা বাকারা : ২৭৫)। হে ইমানদাররা! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস কর না। তবে তোমাদের পরস্পরের সম্মতিতে ব্যবসা করা বৈধ (সূরা নিসা : ২৯)। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী কেয়ামতের দিনে নবি, সিদ্দিক ও শহিদদের দলে থাকবেন (তিরমিজি)।
তবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লক্ষ রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে হবে- ১. ব্যবসার ব্যস্ততা যাতে বান্দাকে মহান আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। ২. ব্যবসা হতে হবে সব ধরনের লোক ঠকানো বা প্রতারণামুক্ত। এ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে ইরশাদ করেন, হে মুমিনরা! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এরূপ করে (গাফেল হয়) তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত (সূরা মুনাফিকুন : ৯)। সেসব লোক যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ, নামাজ কায়েম ও জাকাত প্রদান থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিগুলো উলটে যাবে (সূরা নূর : ৩৭)। দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। যারা মানুষের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, পূর্ণ মাত্রায় নেয় এবং যখন লোকদের মেপে দেয়, তখন কম দেয়। তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে (সূরা মুত্বাফ্ফিফীন : ১-৩)।
কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় ব্যবসায়িক পণ্য মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। যার কারণে ভোক্তা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং সমাজে দুর্ভোগ ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয়নবি (সা.) এমন শ্রেণির ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। নবি করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহকারী রিজিকপ্রাপ্ত আর মজুত করে সংকট সৃষ্টিকারী অভিশপ্ত (বুখারি)। তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে চল্লিশ দিন পর্যন্ত খাদ্যশস্য মজুত করে রাখে, সে আল্লাহ থেকে নিঃসম্পর্ক হয়ে যায় এবং আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন (মিশকাত)।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho