বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শ্রমিক অসন্তোষে আশুলিয়ায় অধিকাংশ গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ

  • ঢাকা ব্যুরো।।
  • প্রকাশের সময় : ০১:৩৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৩
  • ৬৮

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। মজুরি বাড়ানোর লক্ষ্যে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভায় গত মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তবে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি করা হলেও সেটি মানতে নারাজ শ্রমিকেরা। আজ বৃহস্পতিবারও তারা এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শ্রমিক অসন্তোষে আশুলিয়ায় অধিকাংশ কারখানা বন্ধ রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার আশুলিয়ায় অধিকাংশ পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক কারখানা আবার খোলা থাকলেও সেখানে কাজ করেননি শ্রমিকেরা। তারা কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে গেছেন।

শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, অনেক কারখানার শ্রমিকেরা কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজ না করে বের হয়ে গেছেন। অনেক কারখানা ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক কারখানা বন্ধ রয়েছে। আজকে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

শিল্প পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) বলেন, সকাল ৮টার দিকে জামগড়া ও আশপাশের এলাকার বেশ কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা উপস্থিত হন। পরে তাঁরা হাজিরা নিশ্চিত করে ঘোষিত মজুরি প্রত্যাখ্যান করে কারখানা থেকে বেরিয়ে যান।

পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রমিক অসন্তোষের মুখে বেশ কয়েকটি কারখানা গত বুধবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে দেওয়া হয়। অনেক কারখানার কর্তৃপক্ষ আজকের জন্য ছুটি ঘোষণা করে নোটিশ টাঙিয়ে দেয়। বন্ধ ও ছুটি ঘোষণা করা কারখানার শ্রমিকেরা আজ বৃহস্পতিবার সকালে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করেন। পরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এরপর শ্রমিকেরা বিভিন্ন অলিতে-গলিতে ঢুকে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

শ্রমিকদের মধ্যে হেলপার লেভেলে অসন্তোষ কিছুটা কম থাকলেও এর ওপরের লেভেলে অর্থ্যাৎ মিড লেভেলে অসন্তোষ বেশি। তারা বলছেন, হেলপার লেভেলের মতো তাদের মজুরিও সাড়ে ৪ হাজার টাকা বাড়াতে হবে।

জামগড়া এলাকার একটি কারখানার শ্রমিক আঁখি খাতুন বলেন, ‘একজন হেলপারের বেতন বাড়ছে সাড়ে চাইর হাজার টাকা। আমি দীর্ঘদিন ধইরা কাজ করবার পর বেতন পাইতাছি ১৩ হাজার টাকা। নতুন বেতনে আমি ১৪ হাজার টাকার বেশি পামুনা বইলা শুনতাছি। তাইলে কি যে বেতন বাড়ল বুঝবার পারতাছিনা। জিনিসপত্রের যে দাম তাতে এই বেতনে তো আমাগো চলব না।’

অপর একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক লাইলী বেগম বলেন, ‘আমাদের দিয়ে অমানবিক পরিশ্রম করানো হয়। কিন্তু সেই তুলনায় আমরা পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। নতুন যে বেতন ঘোষণা করা হয়েছে তাতে অপারেটরদের কোনো লাভ হয়নি বরং অনেকের বেতন কমে গেছে। ঘোষিত এই বেতন আমরা মানি না। কিন্তু এ কথা আমরা বলতেও পারব না। আমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে মাঠে নামলেই পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালাবে। এভাবে চলতে পারে না।’

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের আশুলিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান বলেন, হেলপারদের বেতন ৮ হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা বাড়িয়ে সাড়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে। কিন্তু মিড লেভেলে যারা চাকরি করেন অর্থাৎ যারা অপারেটর ঘোষিত মজুরি অনুযায়ী তাঁদের বেতন তেমন বাড়েনি।

আনিসুর রহমান বলেন, অপারেটরদের যারা বর্তমানে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন তাঁরা বর্তমান বেতনের সঙ্গে সাড়ে ৪ হাজার টাকা বাড়িয়ে বেতন দাবি করছেন। আর এই দাবি আদায়ের জন্যই তাঁরা আন্দোলন করছেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টুবলেন, ‘ঘোষিত মজুরি নিয়ে শ্রমিকেরা ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন। মূলত এ কারণেই তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার মজুরি বোর্ডের কাছে আইন অনুযায়ী ঘোষিত মজুরি রিভিউ করার আবেদন জানানো হবে।’

মৌলভীবাজারে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার শিশু মিনহাজ বাদ পড়েনি 

শ্রমিক অসন্তোষে আশুলিয়ায় অধিকাংশ গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ

প্রকাশের সময় : ০১:৩৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৩

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। মজুরি বাড়ানোর লক্ষ্যে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভায় গত মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তবে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি করা হলেও সেটি মানতে নারাজ শ্রমিকেরা। আজ বৃহস্পতিবারও তারা এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শ্রমিক অসন্তোষে আশুলিয়ায় অধিকাংশ কারখানা বন্ধ রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার আশুলিয়ায় অধিকাংশ পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক কারখানা আবার খোলা থাকলেও সেখানে কাজ করেননি শ্রমিকেরা। তারা কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে গেছেন।

শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, অনেক কারখানার শ্রমিকেরা কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজ না করে বের হয়ে গেছেন। অনেক কারখানা ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক কারখানা বন্ধ রয়েছে। আজকে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

শিল্প পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) বলেন, সকাল ৮টার দিকে জামগড়া ও আশপাশের এলাকার বেশ কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা উপস্থিত হন। পরে তাঁরা হাজিরা নিশ্চিত করে ঘোষিত মজুরি প্রত্যাখ্যান করে কারখানা থেকে বেরিয়ে যান।

পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রমিক অসন্তোষের মুখে বেশ কয়েকটি কারখানা গত বুধবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে দেওয়া হয়। অনেক কারখানার কর্তৃপক্ষ আজকের জন্য ছুটি ঘোষণা করে নোটিশ টাঙিয়ে দেয়। বন্ধ ও ছুটি ঘোষণা করা কারখানার শ্রমিকেরা আজ বৃহস্পতিবার সকালে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করেন। পরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এরপর শ্রমিকেরা বিভিন্ন অলিতে-গলিতে ঢুকে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

শ্রমিকদের মধ্যে হেলপার লেভেলে অসন্তোষ কিছুটা কম থাকলেও এর ওপরের লেভেলে অর্থ্যাৎ মিড লেভেলে অসন্তোষ বেশি। তারা বলছেন, হেলপার লেভেলের মতো তাদের মজুরিও সাড়ে ৪ হাজার টাকা বাড়াতে হবে।

জামগড়া এলাকার একটি কারখানার শ্রমিক আঁখি খাতুন বলেন, ‘একজন হেলপারের বেতন বাড়ছে সাড়ে চাইর হাজার টাকা। আমি দীর্ঘদিন ধইরা কাজ করবার পর বেতন পাইতাছি ১৩ হাজার টাকা। নতুন বেতনে আমি ১৪ হাজার টাকার বেশি পামুনা বইলা শুনতাছি। তাইলে কি যে বেতন বাড়ল বুঝবার পারতাছিনা। জিনিসপত্রের যে দাম তাতে এই বেতনে তো আমাগো চলব না।’

অপর একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক লাইলী বেগম বলেন, ‘আমাদের দিয়ে অমানবিক পরিশ্রম করানো হয়। কিন্তু সেই তুলনায় আমরা পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। নতুন যে বেতন ঘোষণা করা হয়েছে তাতে অপারেটরদের কোনো লাভ হয়নি বরং অনেকের বেতন কমে গেছে। ঘোষিত এই বেতন আমরা মানি না। কিন্তু এ কথা আমরা বলতেও পারব না। আমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে মাঠে নামলেই পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালাবে। এভাবে চলতে পারে না।’

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের আশুলিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান বলেন, হেলপারদের বেতন ৮ হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা বাড়িয়ে সাড়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে। কিন্তু মিড লেভেলে যারা চাকরি করেন অর্থাৎ যারা অপারেটর ঘোষিত মজুরি অনুযায়ী তাঁদের বেতন তেমন বাড়েনি।

আনিসুর রহমান বলেন, অপারেটরদের যারা বর্তমানে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন তাঁরা বর্তমান বেতনের সঙ্গে সাড়ে ৪ হাজার টাকা বাড়িয়ে বেতন দাবি করছেন। আর এই দাবি আদায়ের জন্যই তাঁরা আন্দোলন করছেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টুবলেন, ‘ঘোষিত মজুরি নিয়ে শ্রমিকেরা ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন। মূলত এ কারণেই তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার মজুরি বোর্ডের কাছে আইন অনুযায়ী ঘোষিত মজুরি রিভিউ করার আবেদন জানানো হবে।’