বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৯ কোটি ডলার

২০২৩ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে রেমিট্যান্স। এই মাসে ১৯৯ কোটি ডলারের পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ১০৭৯ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি এক ডলার সমান ১০৯ টাকা ৭৫ পয়সা) যার পরিমাণ প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। যা গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ের (প্রথম ৬ মাস) চেয়ে ৩ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা কম এসেছে। গত অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে এসেছিল ১০৪৯ কোটি ৩৪ লাখ ডরার বা এক লাখ ১৫ হাজার ১৬৫ কোটি টাকার প্রবাসী আয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে এক হাজার ৭৯ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পোঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছিল ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স। পরের মাস আগস্টে এসেছিল প্রায় ১৬০ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৩৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ লাখ ডলার, অক্টোবরে ১৯৭ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার, নভেম্বরে ১৯৩ কোটি ডলার এবং সবশেষ ডিসেম্বর মাসে আসে ১৯৮ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসেছিল এক হাজার ৪৯ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। সে হিসাবে হত অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ৩০ কোটি ৫২ লাখ ডলার বেশি এসেছে। তবে গত অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় মাসে অর্থাৎ জুলাই এবং আগস্টে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। বাকি মাসগুলোতে দেয় বিলিয়ন বা তার কাছাকাছি অবস্থান করে রেমিট্যান্স আসার প্রবাহ।

গত অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এসছিল ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং দ্বিতীয় মাস আগস্টে এসেছিল ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার। পরের মাস সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, অক্টোবরে ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ, নভেম্বরে ১৫৯ কোটি ৫১ লাখ এবং ডিসেম্বরে এসেছিল ১৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছেন, সদ্য বিদায়ী ডিসেম্বরের পুরো মাসে ১৯৮ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় বাংলাদেশী মুদ্রায় (প্রতি এক ডলার সমান ১০৯ টাকা ৭৫ পয়সা) যা ২১ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। আর দিনে এসেছে ৬ কোটি ৪১ লাখ ডলার বা ৭০৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা করে। এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে এক ব্যাংকের (বিকেবি) মাধ্যমে এসেছে ৬ কোটি ৬২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৭২ কোটি ৪৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫২ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

আলোচিত সময়ে কোন রেমিট্যান্স আসেনি এমন ব্যাংকের সংখ্যা ৮টি। এর মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্র মালিকানাধিন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএল, বিশেষায়ীত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব, বেসরকারি কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক, বিদেশি খাতের ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২০ সালে হুন্ডি বন্ধ থাকায় ব্যাংকিং চ্যানেলে সর্বোচ্চ সংখ্যক রেমিট্যান্স এসেছিল। বিদায়ী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২ হাজার ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। এটি এ যাবৎকালের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে করোনাকালীন ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল দেশে।

মৌলভীবাজারে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার শিশু মিনহাজ বাদ পড়েনি 

ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৯ কোটি ডলার

প্রকাশের সময় : ০৮:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারী ২০২৪

২০২৩ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে রেমিট্যান্স। এই মাসে ১৯৯ কোটি ডলারের পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ১০৭৯ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি এক ডলার সমান ১০৯ টাকা ৭৫ পয়সা) যার পরিমাণ প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। যা গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ের (প্রথম ৬ মাস) চেয়ে ৩ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা কম এসেছে। গত অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে এসেছিল ১০৪৯ কোটি ৩৪ লাখ ডরার বা এক লাখ ১৫ হাজার ১৬৫ কোটি টাকার প্রবাসী আয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে এক হাজার ৭৯ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পোঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছিল ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স। পরের মাস আগস্টে এসেছিল প্রায় ১৬০ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৩৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ লাখ ডলার, অক্টোবরে ১৯৭ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার, নভেম্বরে ১৯৩ কোটি ডলার এবং সবশেষ ডিসেম্বর মাসে আসে ১৯৮ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসেছিল এক হাজার ৪৯ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। সে হিসাবে হত অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ৩০ কোটি ৫২ লাখ ডলার বেশি এসেছে। তবে গত অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় মাসে অর্থাৎ জুলাই এবং আগস্টে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। বাকি মাসগুলোতে দেয় বিলিয়ন বা তার কাছাকাছি অবস্থান করে রেমিট্যান্স আসার প্রবাহ।

গত অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এসছিল ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং দ্বিতীয় মাস আগস্টে এসেছিল ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার। পরের মাস সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, অক্টোবরে ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ, নভেম্বরে ১৫৯ কোটি ৫১ লাখ এবং ডিসেম্বরে এসেছিল ১৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছেন, সদ্য বিদায়ী ডিসেম্বরের পুরো মাসে ১৯৮ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় বাংলাদেশী মুদ্রায় (প্রতি এক ডলার সমান ১০৯ টাকা ৭৫ পয়সা) যা ২১ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। আর দিনে এসেছে ৬ কোটি ৪১ লাখ ডলার বা ৭০৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা করে। এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে এক ব্যাংকের (বিকেবি) মাধ্যমে এসেছে ৬ কোটি ৬২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৭২ কোটি ৪৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫২ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

আলোচিত সময়ে কোন রেমিট্যান্স আসেনি এমন ব্যাংকের সংখ্যা ৮টি। এর মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্র মালিকানাধিন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএল, বিশেষায়ীত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব, বেসরকারি কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক, বিদেশি খাতের ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২০ সালে হুন্ডি বন্ধ থাকায় ব্যাংকিং চ্যানেলে সর্বোচ্চ সংখ্যক রেমিট্যান্স এসেছিল। বিদায়ী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২ হাজার ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। এটি এ যাবৎকালের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে করোনাকালীন ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল দেশে।