বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার বাইরে এসে নির্বাচন করার আহ্বান জাপার

রাজনৈতিক প্রভাব কার কতটুকু তা আওয়ামী লীগকে বোঝাতে চায় জাতীয় পার্টি (জাপা)। এ জন্য দলটিকে ক্ষমতার বাইরে এসে নির্বাচন করার আহ্বান জানিয়েছেন জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির প্রভাব কমে গেছে এটি স্বীকার করতে পারছি না। নির্বাচনের মাঠ সমতল থাকলে আমরা আশাবাদী। তবে ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগের প্রভাব বেড়েছে। দলটি ক্ষমতার বাইরে এসে নির্বাচন করুক, তখন কার কত প্রভাব আছে আমরা দেখিয়ে দেব।‘

বুধবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত খুব বেশি খারাপ বলতে পারছি না। তবে ভোটারদের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার মতো না। বিগত দিনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, উপনির্বাচনে সবকিছু ভালো ছিল, মানুষ ভোটও দিয়েছে। কিন্তু ভোটের ফলে আমাদের সন্দেহ ছিল। ভোটকেন্দ্র দখল, ফল যেটা হওয়া উচিত ছিল সেটি হয়নি। এখন বাকিটা সামনে দেখার বিষয়। এখন পর্যন্ত তারা বলছে নির্বাচন ঠিক হবে, আগেও বলেছিল। কিছু ভরসা করেই তো নির্বাচনে আসতে হয়।‘

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, মহানগর জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, লোকমান হোসেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় নেতারা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জিএম কাদের তার দলের প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন। দলটির শীর্ষ এ নেতা বলেন, এ নির্বাচনে সাধারণভাবে আমার মনে হয় না বিপুল সংখ্যা প্রার্থী সরে দাঁড়াবে। বেশিরভাগ প্রার্থী যদি মনে করে নির্বাচন ভালো হচ্ছে না, তারা নির্বাচন থেকে যদি সরে দাঁড়ায়, তবে আমাদের ওপর একটা চাপ সৃষ্টি হবে। তখন চিন্তা করে দেখতে হবে কি করা যায়।

তিনি বলেন, আমরা তিনশ’ আসনে প্রার্থী দিয়েছি। সাধারণভাবে আমরা জানতাম তিনশ’ আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রার্থী আমাদের ছিল না। এখন অনেক প্রার্থী শুধু অভিজ্ঞতা ও পরিচিতির জন্য নির্বাচনে এসেছেন। অনেকে নির্বাচনে এসে অর্থ কুলাতে পারছেন না, পরিবেশ ভালো নেই, হুমকিও রয়েছে। তাই অনেকে নিজে থেকেই সরে দাঁড়াচ্ছেন। এতে আমাদের দোষ দিয়ে যাওয়াটা কিছুটা উদ্দেশ্যমূলক। আমাদের সন্দেহ আছে কিছু কিছু আসনে সমঝোতা কিংবা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়ে মিডিয়ার সামনে বক্তব্য দিয়ে প্রার্থীরা সরে দাঁড়াচ্ছে কিনা। এটি সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ, নির্বাচনের পর তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনে কত আসন পেতে পারে জাতীয় পার্টি এ বিষয়ে জিএম কাদের বলেন, ‘আসন পাওয়ার বিষয়টি আমরা হিসাব করিনি। যেহেতু নির্বাচনে একটি অনিশ্চয়তা রয়েছে। নিশ্চিতভাবে কোনো কিছু জানতে পারছি না। নির্বাচন কেমন হবে সেটাও নিশ্চিতভাবে আমরা বুঝতে পারছি না। যদিও বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য সাহায্য করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কিভাবে হয়, ফল কিভাবে ঘোষণা হয় তা বোঝা যাচ্ছে না। নির্বাচন শেষে আমরা বুঝতে পারব কতগুলো সিট পেলাম।‘

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার বাইরে এসে নির্বাচন করার আহ্বান জাপার

প্রকাশের সময় : ০৫:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৪

রাজনৈতিক প্রভাব কার কতটুকু তা আওয়ামী লীগকে বোঝাতে চায় জাতীয় পার্টি (জাপা)। এ জন্য দলটিকে ক্ষমতার বাইরে এসে নির্বাচন করার আহ্বান জানিয়েছেন জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির প্রভাব কমে গেছে এটি স্বীকার করতে পারছি না। নির্বাচনের মাঠ সমতল থাকলে আমরা আশাবাদী। তবে ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগের প্রভাব বেড়েছে। দলটি ক্ষমতার বাইরে এসে নির্বাচন করুক, তখন কার কত প্রভাব আছে আমরা দেখিয়ে দেব।‘

বুধবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত খুব বেশি খারাপ বলতে পারছি না। তবে ভোটারদের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার মতো না। বিগত দিনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, উপনির্বাচনে সবকিছু ভালো ছিল, মানুষ ভোটও দিয়েছে। কিন্তু ভোটের ফলে আমাদের সন্দেহ ছিল। ভোটকেন্দ্র দখল, ফল যেটা হওয়া উচিত ছিল সেটি হয়নি। এখন বাকিটা সামনে দেখার বিষয়। এখন পর্যন্ত তারা বলছে নির্বাচন ঠিক হবে, আগেও বলেছিল। কিছু ভরসা করেই তো নির্বাচনে আসতে হয়।‘

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, মহানগর জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, লোকমান হোসেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় নেতারা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জিএম কাদের তার দলের প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন। দলটির শীর্ষ এ নেতা বলেন, এ নির্বাচনে সাধারণভাবে আমার মনে হয় না বিপুল সংখ্যা প্রার্থী সরে দাঁড়াবে। বেশিরভাগ প্রার্থী যদি মনে করে নির্বাচন ভালো হচ্ছে না, তারা নির্বাচন থেকে যদি সরে দাঁড়ায়, তবে আমাদের ওপর একটা চাপ সৃষ্টি হবে। তখন চিন্তা করে দেখতে হবে কি করা যায়।

তিনি বলেন, আমরা তিনশ’ আসনে প্রার্থী দিয়েছি। সাধারণভাবে আমরা জানতাম তিনশ’ আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রার্থী আমাদের ছিল না। এখন অনেক প্রার্থী শুধু অভিজ্ঞতা ও পরিচিতির জন্য নির্বাচনে এসেছেন। অনেকে নির্বাচনে এসে অর্থ কুলাতে পারছেন না, পরিবেশ ভালো নেই, হুমকিও রয়েছে। তাই অনেকে নিজে থেকেই সরে দাঁড়াচ্ছেন। এতে আমাদের দোষ দিয়ে যাওয়াটা কিছুটা উদ্দেশ্যমূলক। আমাদের সন্দেহ আছে কিছু কিছু আসনে সমঝোতা কিংবা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়ে মিডিয়ার সামনে বক্তব্য দিয়ে প্রার্থীরা সরে দাঁড়াচ্ছে কিনা। এটি সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ, নির্বাচনের পর তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনে কত আসন পেতে পারে জাতীয় পার্টি এ বিষয়ে জিএম কাদের বলেন, ‘আসন পাওয়ার বিষয়টি আমরা হিসাব করিনি। যেহেতু নির্বাচনে একটি অনিশ্চয়তা রয়েছে। নিশ্চিতভাবে কোনো কিছু জানতে পারছি না। নির্বাচন কেমন হবে সেটাও নিশ্চিতভাবে আমরা বুঝতে পারছি না। যদিও বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য সাহায্য করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কিভাবে হয়, ফল কিভাবে ঘোষণা হয় তা বোঝা যাচ্ছে না। নির্বাচন শেষে আমরা বুঝতে পারব কতগুলো সিট পেলাম।‘