মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে এলজিইডি’র অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা তৈরী, নিম্ন মানের কাজের অভিয়োগ!

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার বেড়িবাঁধ গোধুলি বাজার হইতে নবুওসি মদ্দিনপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৬০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩ কিলো ৪৪৬ মিটার রাস্তার কাজে নিম্ন মানের কাজের অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয়  ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স ডিপ এন্টারপ্রাইজ ও গোয়ালন্দ উপজেলার এলজিইডির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
সরজমিন গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সদ্য তৈরী করা রাস্তাটিতে গাড়ি চলাচল করা তো দুরের কথা। পথচারীদের পায়ের ছোঁয়ায় ও ঝাড়ুর মাথায় উঠে যাচ্ছে রাস্তার কার্পেটিং এর পাথর। এছাড়াও কার্পেটিং নিচে যে ইটের খুয়া ব্যবহার করা হয়েছে তা নাম্বার বিহীন, যা পুরামটির মত দেখতে। শুধু তাই নয় রাস্তার দুইপাশের ২ফিড করে ৪ফিড  রাস্তা রোলার দিয়ে সমান পর্যন্ত করা হয়নি। আর কার্পেটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে  নিম্ন মানের ভিটুমিন ও রাবিশ কোয়ালিটির বড় বড় পাথর। এছাড়াও কার্পেটিং যে পরিমান ভিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে তা পরিমাণে খুবই নগন্য । যার কারণে রাস্তার কাজ শেষ করার মাত্র ৪ থেকে ৫ দিনের মাথায় অন্তত ২০ থেকে ২৫টি জায়গা থেকে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং এর পাথর ।
এবিষয় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দারোগ আলি একজন বলেন, চোখের সামনে দেখা চলছে এই রাস্তার কাজ মুটেও ভালো হয়নি ওঠে যাচ্ছে কার্পেটিং । দীর্ঘ কয়েক বছর অপেক্ষা করার পর রাস্তাটি কাজ হয়েছে তাও আবার লামছাম। গাড়ি  চলাচল করলে ৩মাসও ঠিকার সম্ভবনা নাই রাস্তাটির।  কারন এখনই ওঠে যাচ্ছে কার্পেটিং এর পাথর।
মিরাজ আলি,সমছের,কাদের সহ কয়েকজন গ্রামবাসী বলেন,তাড়াহুড়ো করার কারণে রাস্তার দুইপাশে অন্তত দুইফিড করে রাস্তা রোলার দিয়ে সমান পর্যন্ত করার সময় পায়নি এলজিইডি ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকেরা । এসময় আমরা এলাকাবাসীরা বাঁধা দিলে আামদের উপর ক্ষিপ্ত হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকেরা।
আবুল মৃধা নামক আরেজন বলেন, পায়ের নখের গুঁতায় ওঠে যাচ্ছে কার্পেটিং এর পাথর। যারা রাস্তার কাজ করছে তারা প্রভাবশালী হওয়া ভয়ে আমরা কিছুই বলতে পারি না।
এবিষয়ে উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গুলজার হোসেন মৃধার সাথে মুঠোফোনে  কথা হলে তিনি জানান,ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালীন সময়ে পুরামাটির মত ইটের খুয়া ও রাবিস আইটেমের পাথর কুচি  ব্যবহার রাতের অন্ধকারে কেন রকমে এব্রো থেব্রোভাবে কাজটা করে চলে গেছে। আমি তো অত্র ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, আমার কাছে জিজ্ঞাসা পর্যন্ত করেনি।
অন্যদিকে সিডিউল অনুসারে কাজ করা হয়েছে বলে দাবী করছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ডিপ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সেলিম। পরে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, রাস্তা কাজ শেষ করার  মাত্র ৪ থেকে ৫ দিনের মাথায় কার্পেটিং এর পাথর উঠে যাচ্ছে কেন?এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর না দিয়ে ফোনটি কেটে দেন তিনি।
আর এলজিইডি’র গোয়ালন্দ উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার বিদ্যুৎ কুমার দাস এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি প্রতিবেদক’কে নিউজ না করার শর্তে আর্থিক সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব দেন।  প্রতিবেদক তার এমন প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার কারণে, প্রতিবেদক এর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় কথা বলেন এলজিইডি এই উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার বিদ্যুৎ কুমার দাস । পরে প্রতিবেদককে বলেন আমি সাংবাদিকদের মানি না।
এবিষয়ে এলজিইডির স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী “আলি আখতার হোসেন”কে  মুঠোফোনে বিষয়টি অবগত করা হলে, তিনি  বলেন
বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শুধু এই রাস্তাতেই নিম্ন মানের কাজ হয়েছে বিষয়টা এমন নয়, গোয়ালন্দের একাধিক রাস্তা ও ব্রিজ তৈরীতে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ রয়েছে এলজিইডির এই কর্মকর্তা কর্মচারী দের বিরুদ্ধে।  এয়েন রাস্তা তৈরীর নামে,লাম ছাম কাজের মাধ্যমে, জনগনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারের কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যবসা।

পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন- এসপি 

রাজবাড়ীতে এলজিইডি’র অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা তৈরী, নিম্ন মানের কাজের অভিয়োগ!

প্রকাশের সময় : ০৪:২৯:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার বেড়িবাঁধ গোধুলি বাজার হইতে নবুওসি মদ্দিনপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৬০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩ কিলো ৪৪৬ মিটার রাস্তার কাজে নিম্ন মানের কাজের অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয়  ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স ডিপ এন্টারপ্রাইজ ও গোয়ালন্দ উপজেলার এলজিইডির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
সরজমিন গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সদ্য তৈরী করা রাস্তাটিতে গাড়ি চলাচল করা তো দুরের কথা। পথচারীদের পায়ের ছোঁয়ায় ও ঝাড়ুর মাথায় উঠে যাচ্ছে রাস্তার কার্পেটিং এর পাথর। এছাড়াও কার্পেটিং নিচে যে ইটের খুয়া ব্যবহার করা হয়েছে তা নাম্বার বিহীন, যা পুরামটির মত দেখতে। শুধু তাই নয় রাস্তার দুইপাশের ২ফিড করে ৪ফিড  রাস্তা রোলার দিয়ে সমান পর্যন্ত করা হয়নি। আর কার্পেটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে  নিম্ন মানের ভিটুমিন ও রাবিশ কোয়ালিটির বড় বড় পাথর। এছাড়াও কার্পেটিং যে পরিমান ভিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে তা পরিমাণে খুবই নগন্য । যার কারণে রাস্তার কাজ শেষ করার মাত্র ৪ থেকে ৫ দিনের মাথায় অন্তত ২০ থেকে ২৫টি জায়গা থেকে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং এর পাথর ।
এবিষয় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দারোগ আলি একজন বলেন, চোখের সামনে দেখা চলছে এই রাস্তার কাজ মুটেও ভালো হয়নি ওঠে যাচ্ছে কার্পেটিং । দীর্ঘ কয়েক বছর অপেক্ষা করার পর রাস্তাটি কাজ হয়েছে তাও আবার লামছাম। গাড়ি  চলাচল করলে ৩মাসও ঠিকার সম্ভবনা নাই রাস্তাটির।  কারন এখনই ওঠে যাচ্ছে কার্পেটিং এর পাথর।
মিরাজ আলি,সমছের,কাদের সহ কয়েকজন গ্রামবাসী বলেন,তাড়াহুড়ো করার কারণে রাস্তার দুইপাশে অন্তত দুইফিড করে রাস্তা রোলার দিয়ে সমান পর্যন্ত করার সময় পায়নি এলজিইডি ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকেরা । এসময় আমরা এলাকাবাসীরা বাঁধা দিলে আামদের উপর ক্ষিপ্ত হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকেরা।
আবুল মৃধা নামক আরেজন বলেন, পায়ের নখের গুঁতায় ওঠে যাচ্ছে কার্পেটিং এর পাথর। যারা রাস্তার কাজ করছে তারা প্রভাবশালী হওয়া ভয়ে আমরা কিছুই বলতে পারি না।
এবিষয়ে উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গুলজার হোসেন মৃধার সাথে মুঠোফোনে  কথা হলে তিনি জানান,ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালীন সময়ে পুরামাটির মত ইটের খুয়া ও রাবিস আইটেমের পাথর কুচি  ব্যবহার রাতের অন্ধকারে কেন রকমে এব্রো থেব্রোভাবে কাজটা করে চলে গেছে। আমি তো অত্র ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, আমার কাছে জিজ্ঞাসা পর্যন্ত করেনি।
অন্যদিকে সিডিউল অনুসারে কাজ করা হয়েছে বলে দাবী করছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ডিপ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সেলিম। পরে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, রাস্তা কাজ শেষ করার  মাত্র ৪ থেকে ৫ দিনের মাথায় কার্পেটিং এর পাথর উঠে যাচ্ছে কেন?এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর না দিয়ে ফোনটি কেটে দেন তিনি।
আর এলজিইডি’র গোয়ালন্দ উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার বিদ্যুৎ কুমার দাস এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি প্রতিবেদক’কে নিউজ না করার শর্তে আর্থিক সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব দেন।  প্রতিবেদক তার এমন প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার কারণে, প্রতিবেদক এর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় কথা বলেন এলজিইডি এই উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার বিদ্যুৎ কুমার দাস । পরে প্রতিবেদককে বলেন আমি সাংবাদিকদের মানি না।
এবিষয়ে এলজিইডির স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী “আলি আখতার হোসেন”কে  মুঠোফোনে বিষয়টি অবগত করা হলে, তিনি  বলেন
বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শুধু এই রাস্তাতেই নিম্ন মানের কাজ হয়েছে বিষয়টা এমন নয়, গোয়ালন্দের একাধিক রাস্তা ও ব্রিজ তৈরীতে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ রয়েছে এলজিইডির এই কর্মকর্তা কর্মচারী দের বিরুদ্ধে।  এয়েন রাস্তা তৈরীর নামে,লাম ছাম কাজের মাধ্যমে, জনগনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারের কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যবসা।