সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করেছে: রিজভী

সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, সুপরিকল্পিত অপকৌশল গ্রহণ করে গোটা জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চাচ্ছে সরকার। জাতিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে ভয়ঙ্কর অন্ধকারের দিকে। নতুন কারিকুলামে স্বাস্থ্যশিক্ষার নামে যৌনশিক্ষামূলক ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে কিশোর মনকে বিকৃত করা হচ্ছে।

সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধবিরোধী কারিকুলাম বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে। বিজ্ঞান শিক্ষার মারাত্মক সংকোচন ঘটেছে এই শিক্ষাব্যবস্থায়।

নতুন কারিকুলামের সমালোচনা করে রিজভী আরও বলেন, এই কারিকুলামে অনলাইন ব্যবহার সীমিত করার পরিবর্তে ব্যাপক করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা অনলাইন জুয়ার দিকে ঝুঁকেছে। কিশোর গ্যাং-এ জড়াচ্ছে।

বক্তব্যে ৭ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়েও কথা বলেছেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা। তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি একদলীয় নির্বাচন মঞ্চস্থ করতে বিরোধীদলের ওপর নজিরবিহীন দমনপীড়ন চালিয়েছে সরকার। দেশে-বিদেশে এই নির্বাচন হাস্যকর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এখন, ডামি সরকার অভিনন্দন ভিক্ষা করে বেড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশে দ্বিতীয় বাকশাল চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৫ এর এই দিনেই বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল আওয়ামী লীগ। দ্বিতীয় বাকশাল চলছে দেশে। শুধু তামাশার নয়, পুতুল খেলার নির্বাচন হয়েছে দেশে।

কারাগারে থাকা দলের নেতাকর্মীদের বিষয়েও কথা বলেছেন রিজভী। বলেন, জাতিসংঘ আটক নেতাকর্মীদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। একতরফা নির্বাচন করতে শীর্ষনেতাদের কারাগারে আটক করেছে। এ সময়, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে ভয়ঙ্কর বাণিজ্য করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী আরও বলেন, গত ২৮ অক্টোবর নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশের ওপর কথিত ককটেল হামলার গায়েবি মামলা আসামি করা হয়েছে ৫৫ বছর বয়সী জন্মান্ধ আলমগীর হোসেন মিলনকে। অবৈধ ক্ষমতার মোহে এতটাই অন্ধ, একজন জন্মান্ধ ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মিলন হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে আগাম জামিন নিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, একজন জন্মান্ধ ব্যক্তির পক্ষে পুলিশের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ সম্ভব? বিচারক কি এই প্রশ্নের জবাব জানতে চেয়েছে? বন্য বিচার আজ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একজন জন্মান্ধ ব্যক্তিও পুলিশের নিষ্ঠুরতা থেকে রেহাই পায়নি।

বিএনপির নেতাকর্মীদের কারাগারে প্রেরণ সরকারের প্রধান কর্মসূচি -মির্জা ফখরুল

সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করেছে: রিজভী

প্রকাশের সময় : ০৫:০৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪

সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, সুপরিকল্পিত অপকৌশল গ্রহণ করে গোটা জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চাচ্ছে সরকার। জাতিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে ভয়ঙ্কর অন্ধকারের দিকে। নতুন কারিকুলামে স্বাস্থ্যশিক্ষার নামে যৌনশিক্ষামূলক ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে কিশোর মনকে বিকৃত করা হচ্ছে।

সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধবিরোধী কারিকুলাম বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে। বিজ্ঞান শিক্ষার মারাত্মক সংকোচন ঘটেছে এই শিক্ষাব্যবস্থায়।

নতুন কারিকুলামের সমালোচনা করে রিজভী আরও বলেন, এই কারিকুলামে অনলাইন ব্যবহার সীমিত করার পরিবর্তে ব্যাপক করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা অনলাইন জুয়ার দিকে ঝুঁকেছে। কিশোর গ্যাং-এ জড়াচ্ছে।

বক্তব্যে ৭ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়েও কথা বলেছেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা। তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি একদলীয় নির্বাচন মঞ্চস্থ করতে বিরোধীদলের ওপর নজিরবিহীন দমনপীড়ন চালিয়েছে সরকার। দেশে-বিদেশে এই নির্বাচন হাস্যকর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এখন, ডামি সরকার অভিনন্দন ভিক্ষা করে বেড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশে দ্বিতীয় বাকশাল চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৫ এর এই দিনেই বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল আওয়ামী লীগ। দ্বিতীয় বাকশাল চলছে দেশে। শুধু তামাশার নয়, পুতুল খেলার নির্বাচন হয়েছে দেশে।

কারাগারে থাকা দলের নেতাকর্মীদের বিষয়েও কথা বলেছেন রিজভী। বলেন, জাতিসংঘ আটক নেতাকর্মীদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। একতরফা নির্বাচন করতে শীর্ষনেতাদের কারাগারে আটক করেছে। এ সময়, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে ভয়ঙ্কর বাণিজ্য করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী আরও বলেন, গত ২৮ অক্টোবর নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশের ওপর কথিত ককটেল হামলার গায়েবি মামলা আসামি করা হয়েছে ৫৫ বছর বয়সী জন্মান্ধ আলমগীর হোসেন মিলনকে। অবৈধ ক্ষমতার মোহে এতটাই অন্ধ, একজন জন্মান্ধ ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মিলন হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে আগাম জামিন নিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, একজন জন্মান্ধ ব্যক্তির পক্ষে পুলিশের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ সম্ভব? বিচারক কি এই প্রশ্নের জবাব জানতে চেয়েছে? বন্য বিচার আজ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একজন জন্মান্ধ ব্যক্তিও পুলিশের নিষ্ঠুরতা থেকে রেহাই পায়নি।