সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্বে প্রথম গ্যাস দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

বিতর্কিত এক ইতিহাস গড়ল আমেরিকা। বিশ্বে প্রথমবারের মতো গ্যাস দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল দেশটি। আসামি কেনেথ স্মিথ ১৯৯৬ সাল থেকে কারাগারে ছিলেন। বেশ কয়েকটি পদ্ধতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে গ্যাস দিয়েই নিভিয়ে দেওয়া হলো তার জীবনপ্রদীপ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) বিতর্কিত উপায়ে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে মার্কিন প্রশাসন।

এক ধর্মযাজকের স্ত্রীকে হত্যা করেছিলেন আসামি কেনেথ। আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। কিন্তু কীভাবে সেটি কার্যকর করা হবে তা নিয়ে ছিল জটিলতা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ২০২২ সালে আলাবামা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে স্মিথের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছিল। পরের বছরের মে মাসে দ্বিতীয় দফায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা চালানো হয়। তখন আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন স্মিথ। এরপর অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া পর্যালোচনার ঘোষণা দেন। এর কয়েক মাস পর নাইট্রোজেন গ্যাস প্রয়োগ করে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ৫৮ বছর বয়সী স্মিথকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ২৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাইট্রোজেন গ্যাস প্রয়োগের ফলে স্মিথ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জ্ঞান হারান এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করেন, এই পদ্ধতিতে দেখে মনে হবে মৃত্যু হয়েছে কিন্তু আসলে ব্যক্তি সজাগ থাকেন।

চিকিৎসকরা জানান, অক্সিজেন ছাড়া নাইট্রোজেন গ্যাস নিঃশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে কোষগুলো ভেঙে যায় এবং মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি মাস্ক পরানো হয় আসামিকে। এ মাস্কের ভেতর দিয়ে অক্সিজেন চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। মাস্কটি নাইট্রোজেনভর্তি একটি সিলিন্ডারের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

এদিকে মৃত্যুর শেষ ৪৮ ঘণ্টা স্মিথ কীভাবে কাটিয়েছেন, তার বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে। স্মিথকে তার পরিবারের সদস্য, দুই বন্ধু, তার একজন উপদেষ্টা ও আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়। তিনি দুটি বিস্কুট, ডিম, আঙুরের জেলি, আপেল সস এবং কমলার জুস দিয়ে নাশতা করেন। তার শেষ খাবার ছিল স্টেক এবং ডিম।

জানা যায়, এলিজাবেথ সেনেটকে খুন করার জন্য কেনেথ স্মিথ এবং তার এক সহযোগীকে ভাড়া করেছিলেন সেনেটের স্বামী চার্লস। আইনজীবীরা বলেন, স্ত্রীর বিমার টাকা পেতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। পরে অবশ্য চার্লসও আত্মহত্যা করেন। সেনেট হত্যার ঘটনায় স্মিথের সহযোগীকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন- এসপি 

বিশ্বে প্রথম গ্যাস দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৪

বিতর্কিত এক ইতিহাস গড়ল আমেরিকা। বিশ্বে প্রথমবারের মতো গ্যাস দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল দেশটি। আসামি কেনেথ স্মিথ ১৯৯৬ সাল থেকে কারাগারে ছিলেন। বেশ কয়েকটি পদ্ধতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে গ্যাস দিয়েই নিভিয়ে দেওয়া হলো তার জীবনপ্রদীপ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) বিতর্কিত উপায়ে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে মার্কিন প্রশাসন।

এক ধর্মযাজকের স্ত্রীকে হত্যা করেছিলেন আসামি কেনেথ। আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। কিন্তু কীভাবে সেটি কার্যকর করা হবে তা নিয়ে ছিল জটিলতা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ২০২২ সালে আলাবামা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে স্মিথের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছিল। পরের বছরের মে মাসে দ্বিতীয় দফায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা চালানো হয়। তখন আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন স্মিথ। এরপর অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া পর্যালোচনার ঘোষণা দেন। এর কয়েক মাস পর নাইট্রোজেন গ্যাস প্রয়োগ করে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ৫৮ বছর বয়সী স্মিথকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ২৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাইট্রোজেন গ্যাস প্রয়োগের ফলে স্মিথ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জ্ঞান হারান এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করেন, এই পদ্ধতিতে দেখে মনে হবে মৃত্যু হয়েছে কিন্তু আসলে ব্যক্তি সজাগ থাকেন।

চিকিৎসকরা জানান, অক্সিজেন ছাড়া নাইট্রোজেন গ্যাস নিঃশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে কোষগুলো ভেঙে যায় এবং মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি মাস্ক পরানো হয় আসামিকে। এ মাস্কের ভেতর দিয়ে অক্সিজেন চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। মাস্কটি নাইট্রোজেনভর্তি একটি সিলিন্ডারের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

এদিকে মৃত্যুর শেষ ৪৮ ঘণ্টা স্মিথ কীভাবে কাটিয়েছেন, তার বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে। স্মিথকে তার পরিবারের সদস্য, দুই বন্ধু, তার একজন উপদেষ্টা ও আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়। তিনি দুটি বিস্কুট, ডিম, আঙুরের জেলি, আপেল সস এবং কমলার জুস দিয়ে নাশতা করেন। তার শেষ খাবার ছিল স্টেক এবং ডিম।

জানা যায়, এলিজাবেথ সেনেটকে খুন করার জন্য কেনেথ স্মিথ এবং তার এক সহযোগীকে ভাড়া করেছিলেন সেনেটের স্বামী চার্লস। আইনজীবীরা বলেন, স্ত্রীর বিমার টাকা পেতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। পরে অবশ্য চার্লসও আত্মহত্যা করেন। সেনেট হত্যার ঘটনায় স্মিথের সহযোগীকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।