মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নারীদের জন্য ‘উলঙ্গ উৎসবে’ ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনল জাপান

ঐহিত্যগতভাবে জাপানে পালিত হয়ে আসছে ‘ন্যাকড ফেস্টিভাল বা উলঙ্গ উৎসব। তবে এ উৎসবে পরিবর্তন এনেছে জাপান। আগে এ উৎসবে কেবল পুরুষরা পুরুষরা অংশ নিতে পারলেও নারীদের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল না। তবে এবার নারীদেরও এ উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে নিয়মের সংস্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ আড়ম্বরভাবে জাপানে এ উৎসবটি পালিত হয়। শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও বাস্তবে নামমাত্র পোশাক পরে মন্দিরের সামনে উপস্থিত হন পুরুষরা। তবে নারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদেরও এ উৎসবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। যার মাধ্যমে নতুন ইতিহাসের সূচনা হয়েছে। এ ছাড়া দেশটির ১৬৫০ বছরের ইতিহাসও পরিবর্তন ঘটেছে।

জাপানে এ উৎসবটি ‘হাদাকা মাৎসুর’ নামেও পরিচিত। ফসল উৎপাদনস ও সমৃদ্ধির জন্য জাপানের ইনাজাওয়ার পুরুষরা এটি পালন করে থাকেন। নিয়মানুযায়ী কনকনে ঠান্ডার মধ্যে পুরুষরা ‘লয়েন’ পোশাক ও সাদা মোজা পরে সাইদাইজি মন্দিরের সামনে জড়ো হন। এরপর মন্দিরের চারপাশে কয়েক ঘণ্টা দৌড়াদৌড়ির পর হিমশীতল পানিতে গোসল করে মন্দিরের সামনে দাঁড়ান। যুগ যুগ ধরে বছরের দ্বিতীয় মাসের তৃতীয় শনিবার এ উৎসব পালিত হয়।

মহিলাদের এ উৎসবে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হলেও এতে শর্তারোপ করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উৎসবে নারীরা পূর্ণ পোশাকে থাকবেন এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী হ্যাপি কোট পরিধান করতে হবে। এ ছাড়া তারা কেবল ‘নোয়াইজাসা’ রীতি পালন করতে পারবেন। অর্থাৎ তারা কেবল মাঠে কাপড়ে মোড়ানো বাশের ঘাস বয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি এ উৎসব পালিত হবে। আয়োজক কমিটির ধারণা এ উৎসবে প্রায় ১০ হাজার স্থানীয় পুরুষ অংশ নেবেন। আয়োজক কমিটির আধিকারিক মিৎসুগু কাতায়ামা জানান, অতীতে এ উৎসবে অংশ নিতে মহিলাদের ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তবে তারা স্বেচ্ছায় এ উৎসব থেকে দূরে থাকতেন।

তিনি জানান, করোনার কারণে গত তিন বছর আমরা এ উৎসব আগের মতো করে পালন করতে পারিনি। এ সময়ে নারীদের থেকে প্রচুর অনুরোধ এসেছে। শহরের বহু নারী এতে অংশ নিতে আবদার জানিয়েছেন।

নারীদের জন্য ‘উলঙ্গ উৎসবে’ ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনল জাপান

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৪

ঐহিত্যগতভাবে জাপানে পালিত হয়ে আসছে ‘ন্যাকড ফেস্টিভাল বা উলঙ্গ উৎসব। তবে এ উৎসবে পরিবর্তন এনেছে জাপান। আগে এ উৎসবে কেবল পুরুষরা পুরুষরা অংশ নিতে পারলেও নারীদের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল না। তবে এবার নারীদেরও এ উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে নিয়মের সংস্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ আড়ম্বরভাবে জাপানে এ উৎসবটি পালিত হয়। শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও বাস্তবে নামমাত্র পোশাক পরে মন্দিরের সামনে উপস্থিত হন পুরুষরা। তবে নারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদেরও এ উৎসবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। যার মাধ্যমে নতুন ইতিহাসের সূচনা হয়েছে। এ ছাড়া দেশটির ১৬৫০ বছরের ইতিহাসও পরিবর্তন ঘটেছে।

জাপানে এ উৎসবটি ‘হাদাকা মাৎসুর’ নামেও পরিচিত। ফসল উৎপাদনস ও সমৃদ্ধির জন্য জাপানের ইনাজাওয়ার পুরুষরা এটি পালন করে থাকেন। নিয়মানুযায়ী কনকনে ঠান্ডার মধ্যে পুরুষরা ‘লয়েন’ পোশাক ও সাদা মোজা পরে সাইদাইজি মন্দিরের সামনে জড়ো হন। এরপর মন্দিরের চারপাশে কয়েক ঘণ্টা দৌড়াদৌড়ির পর হিমশীতল পানিতে গোসল করে মন্দিরের সামনে দাঁড়ান। যুগ যুগ ধরে বছরের দ্বিতীয় মাসের তৃতীয় শনিবার এ উৎসব পালিত হয়।

মহিলাদের এ উৎসবে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হলেও এতে শর্তারোপ করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উৎসবে নারীরা পূর্ণ পোশাকে থাকবেন এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী হ্যাপি কোট পরিধান করতে হবে। এ ছাড়া তারা কেবল ‘নোয়াইজাসা’ রীতি পালন করতে পারবেন। অর্থাৎ তারা কেবল মাঠে কাপড়ে মোড়ানো বাশের ঘাস বয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি এ উৎসব পালিত হবে। আয়োজক কমিটির ধারণা এ উৎসবে প্রায় ১০ হাজার স্থানীয় পুরুষ অংশ নেবেন। আয়োজক কমিটির আধিকারিক মিৎসুগু কাতায়ামা জানান, অতীতে এ উৎসবে অংশ নিতে মহিলাদের ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তবে তারা স্বেচ্ছায় এ উৎসব থেকে দূরে থাকতেন।

তিনি জানান, করোনার কারণে গত তিন বছর আমরা এ উৎসব আগের মতো করে পালন করতে পারিনি। এ সময়ে নারীদের থেকে প্রচুর অনুরোধ এসেছে। শহরের বহু নারী এতে অংশ নিতে আবদার জানিয়েছেন।