মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সোনাইমুড়ীতে পর্দা উঠল চাষীরহাট উন্নয়ন মেলার, উন্নয়নযাত্রায় হাজারো মানুষ

আকাশ সংস্কৃতির কালো থাবা থেকে দেশীয় সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বাড়াতে বরাবরের মতো এবারো জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠল সাত দিনব্যাপী চাষীরহাট উন্নয়ন মেলার। শুক্রবার বিকেল ৩টায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী চাষীরহাট নুরুল হক উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মেলার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন সোনাইমুড়ীর কৃতী সন্তান, চাষীরহাট ইউনিয়নের উন্নয়নের রূপকার চাষীরহাট উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধান উপদেষ্টা হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, উন্নয়নের বিকল্প নেই। উন্নতি-প্রগতি আল্লাহ পছন্দ করেন। দারিদ্র্য, বেকারত্ব আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয়। সবার মধ্যে সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অগ্রযাত্রার মানসিকতা সৃষ্টি করতেই এই আয়োজন।

তিনি আরো বলেন, গ্রামের কৃষক-শ্রমিক আপামর জনতা সারাদিন কাজ করে মেলায় এসে পিঠা-পায়েশ খাবে, প্রয়োজনীয় জিনিস কিনবে, পরস্পরের সাথে দেখা হবে, কথা হবে, একটা মেলবন্ধন, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য গড়ে উঠবে। এই ঐক্যচেতনা সৃষ্টি করাই মেলার অন্যতম একটি উদ্দেশ্য। এই গ্রামকে কিছুদিন আগেও বলা হতো অজোপাড়াগাঁ। এই গ্রামকে একটি স্মার্ট গ্রাম হিসেবে দেশ ও বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

নোয়াখালীর প্রবেশদ্বারে চাষীরহাটে আয়োজিত এই উন্নয়ন মেলা ইতোমধ্যেই চাষীরহাটের সর্বসাধারণের প্রাণের মেলায় পরিণত হয়েছে। প্রথম দিনই দেখা গেছে উপচে পড়া ভীড়। চাষীরহাট ইউনিয়নসহ দূর-দূরান্ত থেকেও বহু দর্শনার্থী এসে ভীড় করে মেলায়। নানা ধরনের পণ্যে সুসজ্জিত ৬০টি স্টল স্থান পেয়েছে এবারের মেলায়। মেলার প্রধান আকর্ষণ ‘চাষীরহাট উন্নয়ন প্রকল্প’ এর উৎপাদিত নিজস্ব পণ্য। এর পাশাপাশি মেলায় স্থান পেয়েছে যশোরের বিখ্যাত খেজুরের গুড়, চাঁদপুরের ইলিশ, লক্ষ্মীপুরের নারিকেল, সুপারি, টাঙ্গাইলের চমচম, নাটোরের কাঁচাগোল্লা, বগুড়ার দই, পাবনার ঘি, বরিশালের মুড়ি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কালাই রুটিসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও বিক্ষাত পণ্য সামগ্রী।

মেলা কর্তৃপক্ষ জানায়,‘প্রশাসন ও নিজস্ব শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে গঠিত একদল সুশৃঙ্খল নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায়  নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। উপরন্তু অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুরো মেলা এলাকা জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা।’

মেলার উদ্যোক্তা চাষীরহাট উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. মহি উদ্দীন বলেন, এটা মূলত চাষীরহাট উন্নয়ন প্রকল্পের প্রদর্শনী মেলা। গতবছর আমরা তিনদিনব্যাপী মেলা করেছিলাম। কিন্তু জনসাধারণের ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে এবারের মেলাটি আমরা সপ্তাহব্যাপী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সোনাইমুড়ীতে পর্দা উঠল চাষীরহাট উন্নয়ন মেলার, উন্নয়নযাত্রায় হাজারো মানুষ

প্রকাশের সময় : ১১:৫৪:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৪

আকাশ সংস্কৃতির কালো থাবা থেকে দেশীয় সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বাড়াতে বরাবরের মতো এবারো জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠল সাত দিনব্যাপী চাষীরহাট উন্নয়ন মেলার। শুক্রবার বিকেল ৩টায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী চাষীরহাট নুরুল হক উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মেলার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন সোনাইমুড়ীর কৃতী সন্তান, চাষীরহাট ইউনিয়নের উন্নয়নের রূপকার চাষীরহাট উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধান উপদেষ্টা হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, উন্নয়নের বিকল্প নেই। উন্নতি-প্রগতি আল্লাহ পছন্দ করেন। দারিদ্র্য, বেকারত্ব আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয়। সবার মধ্যে সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অগ্রযাত্রার মানসিকতা সৃষ্টি করতেই এই আয়োজন।

তিনি আরো বলেন, গ্রামের কৃষক-শ্রমিক আপামর জনতা সারাদিন কাজ করে মেলায় এসে পিঠা-পায়েশ খাবে, প্রয়োজনীয় জিনিস কিনবে, পরস্পরের সাথে দেখা হবে, কথা হবে, একটা মেলবন্ধন, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য গড়ে উঠবে। এই ঐক্যচেতনা সৃষ্টি করাই মেলার অন্যতম একটি উদ্দেশ্য। এই গ্রামকে কিছুদিন আগেও বলা হতো অজোপাড়াগাঁ। এই গ্রামকে একটি স্মার্ট গ্রাম হিসেবে দেশ ও বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

নোয়াখালীর প্রবেশদ্বারে চাষীরহাটে আয়োজিত এই উন্নয়ন মেলা ইতোমধ্যেই চাষীরহাটের সর্বসাধারণের প্রাণের মেলায় পরিণত হয়েছে। প্রথম দিনই দেখা গেছে উপচে পড়া ভীড়। চাষীরহাট ইউনিয়নসহ দূর-দূরান্ত থেকেও বহু দর্শনার্থী এসে ভীড় করে মেলায়। নানা ধরনের পণ্যে সুসজ্জিত ৬০টি স্টল স্থান পেয়েছে এবারের মেলায়। মেলার প্রধান আকর্ষণ ‘চাষীরহাট উন্নয়ন প্রকল্প’ এর উৎপাদিত নিজস্ব পণ্য। এর পাশাপাশি মেলায় স্থান পেয়েছে যশোরের বিখ্যাত খেজুরের গুড়, চাঁদপুরের ইলিশ, লক্ষ্মীপুরের নারিকেল, সুপারি, টাঙ্গাইলের চমচম, নাটোরের কাঁচাগোল্লা, বগুড়ার দই, পাবনার ঘি, বরিশালের মুড়ি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কালাই রুটিসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও বিক্ষাত পণ্য সামগ্রী।

মেলা কর্তৃপক্ষ জানায়,‘প্রশাসন ও নিজস্ব শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে গঠিত একদল সুশৃঙ্খল নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায়  নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। উপরন্তু অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুরো মেলা এলাকা জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা।’

মেলার উদ্যোক্তা চাষীরহাট উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. মহি উদ্দীন বলেন, এটা মূলত চাষীরহাট উন্নয়ন প্রকল্পের প্রদর্শনী মেলা। গতবছর আমরা তিনদিনব্যাপী মেলা করেছিলাম। কিন্তু জনসাধারণের ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে এবারের মেলাটি আমরা সপ্তাহব্যাপী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।