বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

৮ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে হারল বার্সেলোনা

কিছুতেই দুঃসময় কাটছে না স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার। দু’দিন আগে স্পেনের ক্লাব ফুটবলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা কোপা দেল রে’র কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল জাভি হার্নান্দেজের দলটি। তার ওপর তারা আগে থেকেই লা লিগার টেবিলেও বেশ পিছিয়ে ছিল। এবার সেই বাজে পরিস্থিতি আরও বাড়িয়ে নিল কাতালানরা। ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে ৮ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে তারা যোগ করা সময়ে পরাজিত হয়েছে।

গতকাল (শনিবার) রাতে অলিম্পিক স্টেডিয়ামে নাটকীয়তায় ভরা এক ম্যাচ উপহার দিয়েছে বার্সেলোনা-ভিয়ারিয়াল। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ৩-৩ গোলে সমতা থাকার পর, ভিয়ারিয়াল যোগ করা সময়ে আরও দু’গোলে বার্সার হারের কফিন চূড়ান্ত করে। ফলে আরও এক ম্যাচে বার্সা হেরে গেছে ৫-৩ গোলে। যা ২০২০ সালের পর এই প্রথম কাতালানদের এক ম্যাচে পাঁচ গোল হজম।

অথচ পুরো ম্যাচেই দাপট ছিল বার্সেলোনার। তারা সর্বমোট ২২টি শট নেয়, যার ১০টি লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে, ভিয়ারিয়াল ৯ শটের ৬টি লক্ষ্যে রেখে স্মরণীয় রাত নিশ্চিত করেছে। বার্সার হয়ে এদিন একটি করে গোল করেছেন ইলকাই গুনদোয়ান ও পেদ্রি, আরেকটি গোল তারা পেয়ে ভিয়ারিয়ালের আত্মঘাতি অবদানে। অপরদিকে, বার্সার জালে গোল দিয়েছেন জেরার্ড মোরেনো, ইলিয়াস আখোমাচ, গঞ্জালো গিদেস, আলেক্সান্ডার সরলথ ও হোসে মোরালেস।

ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটেই গোলের প্রথম সুযোগ তৈরি করেছিল বার্সা। তবে সেখানে গুনদোয়ানের শট ফেরে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে বাধা পেয়ে। এরপর লামিনে ইয়ামালের শটও ফেরান ভিয়ারিয়াল গোলরক্ষক। একইভাবে জোয়াও ফিলিক্সের শট তিনি ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান। এভাবে বার্সার একের পর এক আক্রমণ চলতে থাকে শুরু থেকে। যদিও আরাধ্য গোলটি পাওয়া হচ্ছিল না। ম্যাচের ডেডলক ভাঙতে সময় লেগে যায় ৪১ মিনিট। স্বাগতিক বার্সার সমর্থকদের স্তব্ধ করে দিয়ে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মরেনো ভিয়ারিয়ালের পক্ষে বল জালে জড়ান।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া বার্সা দ্বিতীয়ার্ধে নেমেও আক্রমণ অব্যাহত রাখে। ৪৮তম মিনিটে কিন্তু ইয়ামালের ক্রস দূরের পোস্টের সামনে দিয়ে গেলেও পা ছোঁয়াতে পারেননি রোনাল্দ আরাউহো। এরই মাঝে আবার ভুল করে কাতালানরা। জোয়াও কানসেলোর ভুলে বল পেয়ে যান প্রতিপক্ষ ফুটবলার ইলিয়াস। গোলরক্ষককে কাটিয়ে তিনি বার্সার সঙ্গে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর কিছুটা ব্যবধান কমান গুনদোয়ান। ৬০তম মিনিটে ফেররান তরেসের পাসটি ছিল রবার্ট লেভান্ডফস্কির কাছে। কিন্তু তিনি বল নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারায় গুনদোয়ান গিয়ে নিচু শটে জাল কাঁপিয়ে স্বাগতিক শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফেরান।

মিনিট আটেক পর সমতায় ফেরে বার্সা। বদলি নামা পেদ্রির শট প্রতিপক্ষ ফুটবলারের পা ছুঁয়েও জালে চলে যায়। সমতায় ফিরেও ক্ষান্ত থাকেননি তারা, আরাউহোর শট আরেকজনের গায়ে লেগে হয়ে যায় আত্মঘাতি গোল। বার্সা ৩-২ ব্যবধানে লিড পেয়ে যায় ম্যাচের আরও ১৯ মিনিট বাকি থাকতেই। কিন্তু তাদের আর সুখ বেশিক্ষণ টেকেনি। ৮৪ মিনিটে ফের সমতায় ফেরে ভিয়ারিয়াল।

ম্যাচের যোগ করকা সময় দেওয়া হয় ১২ মিনিটের মতো। সেখানেই পরপর দু’বার বার্সাকে হতাশ করে জয় ছিনিয়ে নেয় সফরকারীরা। যদিও এর আগে গুনদোয়ানের শট প্রতিপক্ষ ফুটবলারের হাতে লাগার পর পেনাল্টি পেয়েছিল বার্সা, পরে সেই সিদ্ধান্ত ভিএআরে বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত জাভির চাকরি হারানোর শঙ্কা বাড়িয়ে তিক্ত হারই সঙ্গী হয় কাতালানদের।

এই হারে পয়েন্ট ব্যবধানে আরও পিছিয়ে গেল বার্সেলোনা। গতবারের চ্যাম্পিয়নরা ২১ ম্যাচে ১৩ জয় ও ৫ ড্রয়ে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে। ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। তাদের চেয়ে ২ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে চলতি মৌসুমের বড় চমক জিরোনা।

মৌলভীবাজারে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার শিশু মিনহাজ বাদ পড়েনি 

৮ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে হারল বার্সেলোনা

প্রকাশের সময় : ০৯:৪১:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪

কিছুতেই দুঃসময় কাটছে না স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার। দু’দিন আগে স্পেনের ক্লাব ফুটবলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা কোপা দেল রে’র কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল জাভি হার্নান্দেজের দলটি। তার ওপর তারা আগে থেকেই লা লিগার টেবিলেও বেশ পিছিয়ে ছিল। এবার সেই বাজে পরিস্থিতি আরও বাড়িয়ে নিল কাতালানরা। ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে ৮ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে তারা যোগ করা সময়ে পরাজিত হয়েছে।

গতকাল (শনিবার) রাতে অলিম্পিক স্টেডিয়ামে নাটকীয়তায় ভরা এক ম্যাচ উপহার দিয়েছে বার্সেলোনা-ভিয়ারিয়াল। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ৩-৩ গোলে সমতা থাকার পর, ভিয়ারিয়াল যোগ করা সময়ে আরও দু’গোলে বার্সার হারের কফিন চূড়ান্ত করে। ফলে আরও এক ম্যাচে বার্সা হেরে গেছে ৫-৩ গোলে। যা ২০২০ সালের পর এই প্রথম কাতালানদের এক ম্যাচে পাঁচ গোল হজম।

অথচ পুরো ম্যাচেই দাপট ছিল বার্সেলোনার। তারা সর্বমোট ২২টি শট নেয়, যার ১০টি লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে, ভিয়ারিয়াল ৯ শটের ৬টি লক্ষ্যে রেখে স্মরণীয় রাত নিশ্চিত করেছে। বার্সার হয়ে এদিন একটি করে গোল করেছেন ইলকাই গুনদোয়ান ও পেদ্রি, আরেকটি গোল তারা পেয়ে ভিয়ারিয়ালের আত্মঘাতি অবদানে। অপরদিকে, বার্সার জালে গোল দিয়েছেন জেরার্ড মোরেনো, ইলিয়াস আখোমাচ, গঞ্জালো গিদেস, আলেক্সান্ডার সরলথ ও হোসে মোরালেস।

ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটেই গোলের প্রথম সুযোগ তৈরি করেছিল বার্সা। তবে সেখানে গুনদোয়ানের শট ফেরে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে বাধা পেয়ে। এরপর লামিনে ইয়ামালের শটও ফেরান ভিয়ারিয়াল গোলরক্ষক। একইভাবে জোয়াও ফিলিক্সের শট তিনি ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান। এভাবে বার্সার একের পর এক আক্রমণ চলতে থাকে শুরু থেকে। যদিও আরাধ্য গোলটি পাওয়া হচ্ছিল না। ম্যাচের ডেডলক ভাঙতে সময় লেগে যায় ৪১ মিনিট। স্বাগতিক বার্সার সমর্থকদের স্তব্ধ করে দিয়ে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মরেনো ভিয়ারিয়ালের পক্ষে বল জালে জড়ান।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া বার্সা দ্বিতীয়ার্ধে নেমেও আক্রমণ অব্যাহত রাখে। ৪৮তম মিনিটে কিন্তু ইয়ামালের ক্রস দূরের পোস্টের সামনে দিয়ে গেলেও পা ছোঁয়াতে পারেননি রোনাল্দ আরাউহো। এরই মাঝে আবার ভুল করে কাতালানরা। জোয়াও কানসেলোর ভুলে বল পেয়ে যান প্রতিপক্ষ ফুটবলার ইলিয়াস। গোলরক্ষককে কাটিয়ে তিনি বার্সার সঙ্গে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর কিছুটা ব্যবধান কমান গুনদোয়ান। ৬০তম মিনিটে ফেররান তরেসের পাসটি ছিল রবার্ট লেভান্ডফস্কির কাছে। কিন্তু তিনি বল নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারায় গুনদোয়ান গিয়ে নিচু শটে জাল কাঁপিয়ে স্বাগতিক শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফেরান।

মিনিট আটেক পর সমতায় ফেরে বার্সা। বদলি নামা পেদ্রির শট প্রতিপক্ষ ফুটবলারের পা ছুঁয়েও জালে চলে যায়। সমতায় ফিরেও ক্ষান্ত থাকেননি তারা, আরাউহোর শট আরেকজনের গায়ে লেগে হয়ে যায় আত্মঘাতি গোল। বার্সা ৩-২ ব্যবধানে লিড পেয়ে যায় ম্যাচের আরও ১৯ মিনিট বাকি থাকতেই। কিন্তু তাদের আর সুখ বেশিক্ষণ টেকেনি। ৮৪ মিনিটে ফের সমতায় ফেরে ভিয়ারিয়াল।

ম্যাচের যোগ করকা সময় দেওয়া হয় ১২ মিনিটের মতো। সেখানেই পরপর দু’বার বার্সাকে হতাশ করে জয় ছিনিয়ে নেয় সফরকারীরা। যদিও এর আগে গুনদোয়ানের শট প্রতিপক্ষ ফুটবলারের হাতে লাগার পর পেনাল্টি পেয়েছিল বার্সা, পরে সেই সিদ্ধান্ত ভিএআরে বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত জাভির চাকরি হারানোর শঙ্কা বাড়িয়ে তিক্ত হারই সঙ্গী হয় কাতালানদের।

এই হারে পয়েন্ট ব্যবধানে আরও পিছিয়ে গেল বার্সেলোনা। গতবারের চ্যাম্পিয়নরা ২১ ম্যাচে ১৩ জয় ও ৫ ড্রয়ে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে। ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। তাদের চেয়ে ২ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে চলতি মৌসুমের বড় চমক জিরোনা।