বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পিবিআই ৬ বছর পর আত্মগোপনে থাকা ইদ্রিস আলীকে উদ্ধার করলো

  • যশোর অফিস।।
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

যশোরের কেশবপুর উপজেলা থেকে নিখোঁজ ইদ্রিস আলী মোল্লাকে (২৩) পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ৬ বছর পর উদ্ধার করেছে। ইদ্রিস আলী কেশবপুর উপজেলার সারুটিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, ২০১৮ সালে এস এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হলে তার বাবা তাকে বকাঝকা করে। তখন ইদ্রিস আলী মোল্যা তার বাবা-মা উপর রাগ করে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায়। অনুমান ২০১৯ সালে ভিকটিম তার পরিবারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে। সে নারায়নগঞ্জ থাকে বলে জানান। ইদ্রিস বছরে ২/১ বার বিভিন্ন নম্বর থেকে তার বাবা-মাকে ফোন করতো। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ভিকটিম তার বাবা-মা, ভাই-বোন বা আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সাক্ষাত না করায় তারা সবাই উদ্বিগ্ন উৎকন্ঠায় থাকতো। এ অবস্থায় ২৩ সালের ৩০ জুন সকাল ১০.৪৬ মিনিটে ইদ্রিস আলী তার ছোট ভাইয়ের মোবাইল নম্বরে ফোন করে জানায় সে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়ি আসছে। ইদ্রিসের পরিবারের সদস্যরা তাকে রিসিভ করার জন্য মোহনপুর, কেশবপুর বাসস্টান্ডে অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু দুপুর পার হয়ে বিকাল হলেও ভিকটিম আর আসে না।

এরপর ২৩ সালের ৪ জুলাই অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ভিকটিমের ভাইয়ের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করে অজ্ঞাত ব্যক্তি জানায় ইদ্রিস আলীকে খোঁজাখুজির দরকার নাই। সে ভালো আছে। তার সাথে কথা বলতে হলে ২ লাক্ষ টাকা দিতে হবে। পরবর্তীতে একই বছরের ১৩ জুলাই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ইদ্রিস আলীর ব্যবহৃত ‘‘স্পন্দিত চাদর’’ নামের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে পুনরায় জানায় ২ দুই লাক্ষ টাকা দিলে ইদ্রিস আলীকে ছেড়ে দেয়া হবে। তখন পরিবারের লোকজন তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার সব মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এঅবস্থায় ভিকটিমের পরিবারের লোকজন সন্তানকে উদ্ধারের জন্য পিবিআই পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করে। পিবিআই বিষয়টি আমলে নিয়ে ছায়া তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করা হয়। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। পিবিআইয়ের এসআই (নিঃ) সৈয়দ রবিউল আলম পলাশকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। এস আই পলাশ মামলাটি তদন্দ শুরু করে। ভিকটিম ইদ্রিসের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি নারায়নগঞ্জে ৩০ জুন তারিখেই ব্যবহার হয়েছিল এরপর আর ব্যবহার হয়নি। মামলাটির তদন্তকারি অফিসার নারায়নগঞ্জে ভিকটিম যাদের সাথে চলাফেরা করত তাদের সনাক্ত করে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ভিকটিম ইদ্রিস আলী মোল্লার অবস্থান সনাক্ত করে। চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানাধীন প্রিমিয়ার ষ্টীল মিল  থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। ইদ্রিসের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার জন্য ৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক ইদ্রিস জবানবন্দি প্রদান করে।

মামলাটি তদন্তকালে তদন্তকারি কর্মকর্তা জানতে পারেন, ভিকটিম ইদ্রিস আলী এসএসসি পরীক্ষায় আশানুরুপ ফলাফল না করায় তার বাবা-মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তার বকাঝকা করে। রাগে ক্ষোভে মনোকষ্টে ইদ্রিস আলী নিজে থেকেই বাড়ি থেকে চলে যায়। সে নিজে নারায়ণগঞ্জে আত্মগোপনে ছিল। সেখানে তার পরিচয় গোপন করার জন্য তার প্রকৃত নাম ঠিকানা গোপন করে হুসাইন নামে পরিচয় দেয়। তাকে কেউ অপহরণ করেনি বা মুক্তিপণ চাইনি। পরিবারের প্রতি রাগে ক্ষোভে ইদ্রিস আলী নিজেই তার ভাইকে ফোন করে বাড়ি আসার নাটক সাজিয়েছিল। তবে বর্তমানে ইদ্রিস আলী তার বাবা-মা অর্থাৎ পরিবারের সাথে থাকার ইচ্ছা পোষন করে।সে এখন তার পিতা-মাতার সাথে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে।

যশোরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে কলেজ ছাত্রকে পিটিয়ে আহত

যশোরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে আসিফ সরদার (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করেছে তার রুমমেট। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরতলী জামরুলতলার

গোলদ্বার মোড় এলাকার। তিনি যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল টেকনোলজি বিভাগের ৫ম বর্ষের ছাত্র ও ঝিনাইদহ বারোবাজারের ঘোপপাড়ার এহিয়া সরদারের ছেলে।আহত আসিফ জানান,একই কলেজের ও বর্ষের ইলেক্ট্রিকাল বিভাগের ছাত্র আব্দুল আওয়ালের সাথে শহরতলী জামরুলতলার গোলদ্বার মোড় এলাকার নান্নু মিয়ার ভাড়া বাসায় তারা একরুম নিয়ে রুমমেট হিসেবে ভাড়া থাকেন। বেশ কয়েকদিন তার সাথে আব্দুল আওয়ালের বনিবনা হচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার দুপুরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে সে তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয় এসময় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে আশেপাশের লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, তার মাথায়সহ ডান হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যেহেতু তার মাথায় আঘাত তাই ২৪ ঘন্টা পার না হলে কিছু বলা যাচ্ছে না। তার অবস্থা আশংকাজনক।#

যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত-১

যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক মনজুরুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদরের রাজারহাট রামনগর কানাইতলা নামক স্থানে। তিনি রামনগর মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। একই ঘটনায় বিজিবি সদস্য ও খুলনা ডুমুরিয়ার মাগুরা গ্রামের মোহাম্মদ আলী (৩৫) নাম অপর ব্যাক্তি আহত হয়েছেন।আহত মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি দুইদিনে নৈমিত্তিক ছুটিতে নিজ বাড়ী খুলনা ডুমুরিয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সদরের রাজারহাট মোড় থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল (যশোর- ল ১৩-২৫৪৬) যোগে যশোর থেকে মনিরামপুর দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় যশোর-মণিরামপুর মহা সড়কের রামনগরের কানাইতলা মোড়ে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুত গতির পিকআপ ভ্যান (ঢাকা

মেট্রো-ঠ-১৩-৫৩২০) তাদেরকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের চালক মনজুরুল মারা যান। এবং তিনি গুরুতর আহত হলে যশোর ফায়ার

সার্ভিসের লোকজন তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভাড়ার মোটরসাইকেলে ওঠেন।হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, আহত মোহাম্মদ আলীর মাথায়সহ শরিরের বিভিন্নস্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক।#

যশোরে সোলাইমান হত্যা মামলার আরো এক আসামির আতœসমর্পন

যশোর টিবি ক্লিনিক পাড়ায় চাঞ্চল্যকর সোলাইমান হত্যা মামলার আরো এক আসামি জনি (২৫) আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১ টার দিকে যশোর চিফ জুডিসিয়াল আদালতে আত্মসমর্পন করে। এর আগে, মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) আদালতে একমাত্র আসমি চাঁচড়ার আরাফাত আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করে। এ নিয়ে দুইজন আসামি আতœসমর্পন করলো। বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। আরাফাত ফারাজী চাঁচড়ার বাসিন্দা হলেও সারা শহরে রয়েছে তার নেটওয়ার্ক। ছোট-খাটো ঘটনায় ছুরিকাঘাত করে জখম ও খুন করাসহ নানা অপরাধে তার রয়েছে সম্পৃক্ততা। এদিকে, মামলার আসামিদের আত্মসমর্পনের ঘটনাকে নিহতের স্বজনরা বলছেন সবই পুলিশের নাটক। আটক এড়িয়ে রয়েছে তিনজনসহ বেশকয়েকজন অজ্ঞাত আসামি। যদিও মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা যশোর কোতয়ালি থানার এসআই আব্দুল মালেকের দাবি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। আত্মসমর্পণ নাটক অভিযোগের বিষয়টি তিনি হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন।

এদিকে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের ১০ দিন পার হলেও বুকফাটা কান্না আর আহাজারী থামছে না সোলাইমানের পরিবারে। বৃদ্ধ বাবা-মা, বোন, স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানের চোখের জলে ভাসছে গোটা পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ এজাহারভূক্ত আসামিরা চিহিৃত মাদককারবারী, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এসব সন্ত্রাসীদের পরিবারের সদস্যরাও বেপরোয়া। অনেকেই মাদক কারবারের সাথে জড়িত। কথিত বড় ভাইদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে হয়েছে বেপরোয়া। এর আগেও, আসামি আরাফাত ফারাজী আদালতে আত্মসমর্পণের পর নিহতের পরিবার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অভিযোগ তুলেছিলেন এসবই পুলিশের নাটক। পুলিশ চাইলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করতে পারে। কিন্তু করছে না-এ অভিযোগ নিহতের স্ত্রী আসমা খাতুনের। তিনি বলেন-আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আসামিদের রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি মামলার ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন।

যশোরে ধারালো অস্ত্রের মহড়া  দেয়ার সময় চাকুসহ আটক-২

যশোরে চাকুসহ দুই দুর্বৃত্তকে আটক করেছে পুলিশ। গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে শহরের নীলগঞ্জ সাহাপাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়। এই ঘটনায় তাদেরন বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলো, যশোর শহরের বারান্দী মোল্যাপাড়া আমতলার হামিদুর রহমান শেখের ছেলে হাবিবুর রহমান ও সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মৃত মইনুল হোসেনের ছেলে আপন হোসেন।

সদর ফাঁড়ি পুলিশের এটিএসআই জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে কয়েকজন উঠতি বয়সের দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানানোর চেষ্টা করে। রাত ১০টার দিকে সেখানে গেলে পুলিশ দেখে তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ধাওয়া করে ওই দুইজনকে আটক করা হলেও তাদের সাথে থাকা আরো ২/৩জন পালিয়ে চলে যায়। পরে আটক আপনের কাছ থেকে একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদেরকে আদালতের মাদ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর ফাঁড়ি পুলিশের এসআই এমরানুর কবীর।

মৌলভীবাজারে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার শিশু মিনহাজ বাদ পড়েনি 

পিবিআই ৬ বছর পর আত্মগোপনে থাকা ইদ্রিস আলীকে উদ্ধার করলো

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

যশোরের কেশবপুর উপজেলা থেকে নিখোঁজ ইদ্রিস আলী মোল্লাকে (২৩) পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ৬ বছর পর উদ্ধার করেছে। ইদ্রিস আলী কেশবপুর উপজেলার সারুটিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, ২০১৮ সালে এস এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হলে তার বাবা তাকে বকাঝকা করে। তখন ইদ্রিস আলী মোল্যা তার বাবা-মা উপর রাগ করে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায়। অনুমান ২০১৯ সালে ভিকটিম তার পরিবারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে। সে নারায়নগঞ্জ থাকে বলে জানান। ইদ্রিস বছরে ২/১ বার বিভিন্ন নম্বর থেকে তার বাবা-মাকে ফোন করতো। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ভিকটিম তার বাবা-মা, ভাই-বোন বা আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সাক্ষাত না করায় তারা সবাই উদ্বিগ্ন উৎকন্ঠায় থাকতো। এ অবস্থায় ২৩ সালের ৩০ জুন সকাল ১০.৪৬ মিনিটে ইদ্রিস আলী তার ছোট ভাইয়ের মোবাইল নম্বরে ফোন করে জানায় সে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়ি আসছে। ইদ্রিসের পরিবারের সদস্যরা তাকে রিসিভ করার জন্য মোহনপুর, কেশবপুর বাসস্টান্ডে অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু দুপুর পার হয়ে বিকাল হলেও ভিকটিম আর আসে না।

এরপর ২৩ সালের ৪ জুলাই অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ভিকটিমের ভাইয়ের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করে অজ্ঞাত ব্যক্তি জানায় ইদ্রিস আলীকে খোঁজাখুজির দরকার নাই। সে ভালো আছে। তার সাথে কথা বলতে হলে ২ লাক্ষ টাকা দিতে হবে। পরবর্তীতে একই বছরের ১৩ জুলাই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ইদ্রিস আলীর ব্যবহৃত ‘‘স্পন্দিত চাদর’’ নামের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে পুনরায় জানায় ২ দুই লাক্ষ টাকা দিলে ইদ্রিস আলীকে ছেড়ে দেয়া হবে। তখন পরিবারের লোকজন তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার সব মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এঅবস্থায় ভিকটিমের পরিবারের লোকজন সন্তানকে উদ্ধারের জন্য পিবিআই পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করে। পিবিআই বিষয়টি আমলে নিয়ে ছায়া তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করা হয়। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। পিবিআইয়ের এসআই (নিঃ) সৈয়দ রবিউল আলম পলাশকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। এস আই পলাশ মামলাটি তদন্দ শুরু করে। ভিকটিম ইদ্রিসের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি নারায়নগঞ্জে ৩০ জুন তারিখেই ব্যবহার হয়েছিল এরপর আর ব্যবহার হয়নি। মামলাটির তদন্তকারি অফিসার নারায়নগঞ্জে ভিকটিম যাদের সাথে চলাফেরা করত তাদের সনাক্ত করে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ভিকটিম ইদ্রিস আলী মোল্লার অবস্থান সনাক্ত করে। চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানাধীন প্রিমিয়ার ষ্টীল মিল  থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। ইদ্রিসের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার জন্য ৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক ইদ্রিস জবানবন্দি প্রদান করে।

মামলাটি তদন্তকালে তদন্তকারি কর্মকর্তা জানতে পারেন, ভিকটিম ইদ্রিস আলী এসএসসি পরীক্ষায় আশানুরুপ ফলাফল না করায় তার বাবা-মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তার বকাঝকা করে। রাগে ক্ষোভে মনোকষ্টে ইদ্রিস আলী নিজে থেকেই বাড়ি থেকে চলে যায়। সে নিজে নারায়ণগঞ্জে আত্মগোপনে ছিল। সেখানে তার পরিচয় গোপন করার জন্য তার প্রকৃত নাম ঠিকানা গোপন করে হুসাইন নামে পরিচয় দেয়। তাকে কেউ অপহরণ করেনি বা মুক্তিপণ চাইনি। পরিবারের প্রতি রাগে ক্ষোভে ইদ্রিস আলী নিজেই তার ভাইকে ফোন করে বাড়ি আসার নাটক সাজিয়েছিল। তবে বর্তমানে ইদ্রিস আলী তার বাবা-মা অর্থাৎ পরিবারের সাথে থাকার ইচ্ছা পোষন করে।সে এখন তার পিতা-মাতার সাথে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে।

যশোরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে কলেজ ছাত্রকে পিটিয়ে আহত

যশোরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে আসিফ সরদার (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করেছে তার রুমমেট। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরতলী জামরুলতলার

গোলদ্বার মোড় এলাকার। তিনি যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল টেকনোলজি বিভাগের ৫ম বর্ষের ছাত্র ও ঝিনাইদহ বারোবাজারের ঘোপপাড়ার এহিয়া সরদারের ছেলে।আহত আসিফ জানান,একই কলেজের ও বর্ষের ইলেক্ট্রিকাল বিভাগের ছাত্র আব্দুল আওয়ালের সাথে শহরতলী জামরুলতলার গোলদ্বার মোড় এলাকার নান্নু মিয়ার ভাড়া বাসায় তারা একরুম নিয়ে রুমমেট হিসেবে ভাড়া থাকেন। বেশ কয়েকদিন তার সাথে আব্দুল আওয়ালের বনিবনা হচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার দুপুরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে সে তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয় এসময় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে আশেপাশের লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, তার মাথায়সহ ডান হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যেহেতু তার মাথায় আঘাত তাই ২৪ ঘন্টা পার না হলে কিছু বলা যাচ্ছে না। তার অবস্থা আশংকাজনক।#

যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত-১

যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক মনজুরুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদরের রাজারহাট রামনগর কানাইতলা নামক স্থানে। তিনি রামনগর মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। একই ঘটনায় বিজিবি সদস্য ও খুলনা ডুমুরিয়ার মাগুরা গ্রামের মোহাম্মদ আলী (৩৫) নাম অপর ব্যাক্তি আহত হয়েছেন।আহত মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি দুইদিনে নৈমিত্তিক ছুটিতে নিজ বাড়ী খুলনা ডুমুরিয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সদরের রাজারহাট মোড় থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল (যশোর- ল ১৩-২৫৪৬) যোগে যশোর থেকে মনিরামপুর দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় যশোর-মণিরামপুর মহা সড়কের রামনগরের কানাইতলা মোড়ে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুত গতির পিকআপ ভ্যান (ঢাকা

মেট্রো-ঠ-১৩-৫৩২০) তাদেরকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের চালক মনজুরুল মারা যান। এবং তিনি গুরুতর আহত হলে যশোর ফায়ার

সার্ভিসের লোকজন তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভাড়ার মোটরসাইকেলে ওঠেন।হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, আহত মোহাম্মদ আলীর মাথায়সহ শরিরের বিভিন্নস্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক।#

যশোরে সোলাইমান হত্যা মামলার আরো এক আসামির আতœসমর্পন

যশোর টিবি ক্লিনিক পাড়ায় চাঞ্চল্যকর সোলাইমান হত্যা মামলার আরো এক আসামি জনি (২৫) আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১ টার দিকে যশোর চিফ জুডিসিয়াল আদালতে আত্মসমর্পন করে। এর আগে, মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) আদালতে একমাত্র আসমি চাঁচড়ার আরাফাত আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করে। এ নিয়ে দুইজন আসামি আতœসমর্পন করলো। বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। আরাফাত ফারাজী চাঁচড়ার বাসিন্দা হলেও সারা শহরে রয়েছে তার নেটওয়ার্ক। ছোট-খাটো ঘটনায় ছুরিকাঘাত করে জখম ও খুন করাসহ নানা অপরাধে তার রয়েছে সম্পৃক্ততা। এদিকে, মামলার আসামিদের আত্মসমর্পনের ঘটনাকে নিহতের স্বজনরা বলছেন সবই পুলিশের নাটক। আটক এড়িয়ে রয়েছে তিনজনসহ বেশকয়েকজন অজ্ঞাত আসামি। যদিও মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা যশোর কোতয়ালি থানার এসআই আব্দুল মালেকের দাবি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। আত্মসমর্পণ নাটক অভিযোগের বিষয়টি তিনি হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন।

এদিকে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের ১০ দিন পার হলেও বুকফাটা কান্না আর আহাজারী থামছে না সোলাইমানের পরিবারে। বৃদ্ধ বাবা-মা, বোন, স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানের চোখের জলে ভাসছে গোটা পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ এজাহারভূক্ত আসামিরা চিহিৃত মাদককারবারী, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এসব সন্ত্রাসীদের পরিবারের সদস্যরাও বেপরোয়া। অনেকেই মাদক কারবারের সাথে জড়িত। কথিত বড় ভাইদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে হয়েছে বেপরোয়া। এর আগেও, আসামি আরাফাত ফারাজী আদালতে আত্মসমর্পণের পর নিহতের পরিবার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অভিযোগ তুলেছিলেন এসবই পুলিশের নাটক। পুলিশ চাইলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করতে পারে। কিন্তু করছে না-এ অভিযোগ নিহতের স্ত্রী আসমা খাতুনের। তিনি বলেন-আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আসামিদের রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি মামলার ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন।

যশোরে ধারালো অস্ত্রের মহড়া  দেয়ার সময় চাকুসহ আটক-২

যশোরে চাকুসহ দুই দুর্বৃত্তকে আটক করেছে পুলিশ। গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে শহরের নীলগঞ্জ সাহাপাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়। এই ঘটনায় তাদেরন বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলো, যশোর শহরের বারান্দী মোল্যাপাড়া আমতলার হামিদুর রহমান শেখের ছেলে হাবিবুর রহমান ও সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মৃত মইনুল হোসেনের ছেলে আপন হোসেন।

সদর ফাঁড়ি পুলিশের এটিএসআই জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে কয়েকজন উঠতি বয়সের দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানানোর চেষ্টা করে। রাত ১০টার দিকে সেখানে গেলে পুলিশ দেখে তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ধাওয়া করে ওই দুইজনকে আটক করা হলেও তাদের সাথে থাকা আরো ২/৩জন পালিয়ে চলে যায়। পরে আটক আপনের কাছ থেকে একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদেরকে আদালতের মাদ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর ফাঁড়ি পুলিশের এসআই এমরানুর কবীর।