
আহমেদ রুবেলের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় আনা হয় মরদেহ। ঢাকা থিয়েটারের উদ্যোগে আয়োজিত এই শ্রদ্ধা নিবেদনে হাজির হন দেশের নাট্য ও সিনেমা অঙ্গনের অনেক শিল্পী-তারকা। তারা অভিনেতার প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বুধবার ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিজের অভিনীত সিনেমা ‘পেয়ারার সুবাস’-এর বিশেষ প্রদর্শনী দেখতে এসে মারা যান আহমেদ রুবেল।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, “অকালে চলে গেল রুবেল। অভিনয় শিল্পে তার আরও অনেক কিছু দেওয়ার ছিল। ঢাকা থিয়েটারের অনেকে অকালে চলে গেছেন; তার মধ্যে হুমায়ুন ফরীদি, সেলিম আল দীনও আছেন। আমরা সবাইকে স্মরণ করি। আমার নির্মিত ‘গেরিলা’ ছবিতে শহীদ আলতাফ মাহমুদের চরিত্রে অভিনয় করেছিল রুবেল। সেই স্মৃতিগুলো আজও মনে ভাসে। এত দারুণ অভিনয় করেছিল যে, আলতাফ মাহমুদ যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিলেন।”
কিংবদন্তি অভিনেতা ও নাট্যজন মামুনুর রশীদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘এটা এত বড় আকস্মিকতা যে, এ প্রসঙ্গে কথা বলতে একেবারেই ইচ্ছে করে না। আমাদের চেয়ে বয়সে কত ছোট, সুস্থ, এত পথ গাড়ি ড্রাইভ করে এলো। তারপর কী হলো! আমাদের ছেড়েই চলে গেল। আমাদেরকে একটু সুযোগও দিল না, সেবা করার। তার সঙ্গে বহু কাজ করেছি। অভিনয় করেছি একসঙ্গে, আমার লেখা দীর্ঘ ধারাবাহিকে সে কাজ করেছে। তার অভিনয় জীবন আরও দীর্ঘ হতে পারত। আরও অনেক চলচ্চিত্রে পারত অভিনয় করতে। কিন্তু কীভাবে যে কী হয়ে গেল। আমাদের কাছে রয়ে গেল জীবন্ত রুবেলের বিনিময়ে শুধু তার স্মৃতি।’
নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম বলেন, “আকস্মিকভাবে চলে গেল। রুবেল আমাদের সবার প্রিয় অভিনেতা। গত ৭ ফেব্রুয়ারি ‘পেয়ারার সুবাস’ দেখলাম, চমৎকার অভিনয় করেছে। কী এমন বয়স হয়েছে, আমার চেয়ে ১০ বছরের ছোট। অথচ সে চলে গেল। এটা ভাবতেও পারছি না আমি। যাই হোক রুবেল যেখানেই থাকুক, শান্তিতে থাকুক। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।”
ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদও আসেন শ্রদ্ধা জানাতে। তিনি বলেন, “এমন একটা মুহূর্ত, কথা বলার মতো পরিস্থিতি নেই। অসাধারণ একজন অভিনেতা, একজন ভালো মানুষ। আমাদের সবাইকে চলে যেতে হবে, কিন্তু অসময়ে চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কঠিন। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল তার সঙ্গে একটি কাজ করার, হুমায়ূন আহমেদের ‘চন্দ্রকথা’। তার সরলতা, অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। আমি তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। অন্তর থেকে চাইব, আহমেদ রুবেলের মতো অসময়ে কেউ যেন চলে না যায়।”
অভিনেতা ফারুক আহমেদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৯৮৬ সালে রুবেলের সঙ্গে আমার পরিচয়। আমার যোগ দেওয়ার তিন বছর পর ও ঢাকা থিয়েটারে আসে। তার উচ্চতা, কণ্ঠস্বর প্রথম দিনই আমাকে মুগ্ধ করেছিল। রুবেলের কণ্ঠস্বর শুনে আমার রীতিমতো আফসোস হতো, এত সুন্দর কণ্ঠ কীভাবে হয়! একটা স্মৃতি শেয়ার করি, সিলেটে গিয়েছিলাম শুটিং করতে। আমি বাসে করে, সে নিজের গাড়িতে। শুটিং শেষে রুবেল বলে, ‘ফারুক ভাই আপনি আমার সঙ্গে যাবেন।’ আমি যেতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু সে জোর করে আমাকে গাড়িতে নিয়ে বসাল। আমাকে পেছনের সিটে বসিয়ে একটি বালিশ দিয়ে বলল, ‘আপনি ঘুমান। আমি ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলতে থাকি, যাতে সে না ঘুমায়।’ ভোরে যখন আজান দেয়, তখন দেখি আমি আমার বাসার সামনে। সেখানে নামিয়ে দিয়ে তবেই রুবেল তার বাসায় ফিরেছিল।”
আহমেদ রুবেলের প্রয়াণে সবাইকে ধূমপান ও নেশা ছাড়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ‘আয়নাবাজি’খ্যাত নির্মাতা অমিতাভ রেজা। এছাড়া তার নিঃসঙ্গ জীবনের কথাও উল্লেখ করেছেন। অমিতাভ রেজা বলেন, ‘রুবেল ভাই অসাধারণ অভিনেতা, ভয়েস আর্টিস্ট। কিন্তু তিনি একজন নিঃসঙ্গ মানুষ ছিলেন। এক সপ্তাহ আগেও আমরা কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। সবাইকে অনুরোধ করব সহযাত্রীদের পাশে থাকুন এবং ধূমপান বন্ধ করুন, সব ধরনের নেশাদ্রব্য থেকে দূরে থাকুন। সাম্প্রতিক সময়ে যারাই মারা গেছেন, সবারই এটা প্রধানতম কারণ ছিল। এটা এখানে বলা হয়তো উচিত না। কিন্তু আমি চাই না, এরকম দুঃখ আমাদের আরও বাড়ুক।’
অভিনয়শিল্পী সংঘের নেতা-সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সংগঠনের সভাপতি ও অভিনেতা আহসান হাবিব নাসিম। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি যে, আমরা একজন অসামান্য শিল্পীকে হারালাম। আরও অসাধারণ সব চরিত্রে কাজ করার কথা ছিল তার। সব সময় তিনি অভিনয় নিয়েই ছিলেন। এমন একজন মানুষ সবাইকে হঠাৎ স্তব্ধ করে দিয়ে চলে গেলেন। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করি।’
অভিনেত্রী তানভীন সুইটি বলেন, “রুবেল ভাই আমার সহশিল্পী ছিলেন। প্রচুর কাজ করেছি একসঙ্গে। তিনি শুধু একজন গুণী অভিনেতাই নন, একজন ভালো মানুষও। শুটিংয়ে এলে বাড়তি কথা বলতেন না, শুধু নিজের চরিত্রে থাকতেন। তাকে বলতাম, নিজের যত্ন নিন। তখন শুধু বলতেন, ‘হবে হবে’! কী হলো! সবাইকে বলব, তার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।”
শিল্পকলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর ১টায় মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। শ্রদ্ধা জানানো শেষে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জানাজা। এরপর অভিনেতার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গাজীপুরে, স্থায়ী ঠিকানায়। সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে আসর নামাজের পর তাকে দাফন করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho