বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পোল্যান্ড বা লাটভিয়া আক্রমণে রাশিয়ার আগ্রহ নেই -পুতিন

মার্কিন সাংবাদিক টাকার কার্লসনকে দেওয়া বিরল সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়া নিজ স্বার্থের জন্য লড়াই করবে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধকে পোল্যান্ড ও লাটভিয়ার মতো অন্য দেশে টেনে নেওয়ার কোনো আগ্রহ রাশিয়ার নেই।

তিনি বলেন, পোল্যান্ড বা লাটভিয়া আক্রমণে রাশিয়ার কোনো আগ্রহ নেই। বৃহস্পতিবার প্রচারিত হওয়া দুই ঘণ্টার বেশি সময়ের সাক্ষাৎকারটিতে পুতিন এ মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার মস্কোতে নেওয়া এ সাক্ষাৎকার টাকার কার্লসন ডটকমে প্রচারিত হয়। ইউক্রেনে হামলার পর এই প্রথম কোনো মার্কিন সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিলেন পুতিন।

সাক্ষাৎকারে টাকার কার্লসন পুতিনকে প্রশ্ন করেন, ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র পোল্যান্ডে রাশিয়ার সেনা পাঠানোর চিন্তা তিনি করেন কিনা। এর জবাবে পুতিন বলেন, যদি পোল্যান্ড রাশিয়া আক্রমণ করে তবেই এমনটা হতে পারে। আমরা কেন পোলান্ড আক্রমণ করতে যাব। এতে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।

ধারণা করা হচ্ছে- ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা অনেক সংবাদমাধ্যমে একপেশে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার মনোভাব স্পষ্ট করতে পুতিন কার্লসনকে সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হতে পারেন। কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক টাকার কার্লসনের দৃষ্টিভঙ্গিও অনেকটা ভিন্ন। কার্লসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ। ট্রাম্পও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ চান। তবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে জোরালো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।

এর আগে ২০২২ সালের শুরুতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পূর্ব ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তকে ‘জিনিয়াস’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডানপন্থি এক রেডিওর অনুষ্ঠানে পুতিনের সেনা পাঠানোর ওই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন ট্রাম্প বলেন, আমি গতকাল একটি টেলিভিশনে গিয়ে বলেছিলাম, এটা জিনিয়াস।

তিনি বলেন, ইউক্রেনের বড় একটি অংশকে পুতিন স্বাধীন ঘোষণা করেছেন। ওহ, এটা দারুণ। পুতিন এখন বলছেন, এটা স্বাধীন। আমি বলেছি এটা কেমন বুদ্ধিমান? এখন তিনি সেখানে যাবেন এবং শান্তিরক্ষী হবেন। এটা শক্তিশালী শান্তিরক্ষী বাহিনী… আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তে এটা আমরা ব্যবহার করতে পারি।

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সাবেক এই প্রেসিডেন্ট পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে পুতিনের প্রশংসা করতে থাকেন। কিন্তু জো বাইডেনের ব্যাপারে তিনি অপমানজনক মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, আপনাকে বলতে হবে এটা বেশ বাস্তবজ্ঞান সম্মত সিদ্ধান্ত। আপনি কি জানেন এই ব্যাপারে বাইডেনের পক্ষ থেকে কি প্রতিক্রিয়া এসেছে? কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।

ওই সময় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে মস্কো সমর্থিত বিদ্রোহীদের দখলে থাকা দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে ‘শান্তি রক্ষার জন্য’ সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন পুতিন। এর আগে তিনি ইউক্রেন থেকে আলাদা হতে চাওয়া ওই অঞ্চল দুটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

মৌলভীবাজারে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার শিশু মিনহাজ বাদ পড়েনি 

পোল্যান্ড বা লাটভিয়া আক্রমণে রাশিয়ার আগ্রহ নেই -পুতিন

প্রকাশের সময় : ০৯:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মার্কিন সাংবাদিক টাকার কার্লসনকে দেওয়া বিরল সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়া নিজ স্বার্থের জন্য লড়াই করবে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধকে পোল্যান্ড ও লাটভিয়ার মতো অন্য দেশে টেনে নেওয়ার কোনো আগ্রহ রাশিয়ার নেই।

তিনি বলেন, পোল্যান্ড বা লাটভিয়া আক্রমণে রাশিয়ার কোনো আগ্রহ নেই। বৃহস্পতিবার প্রচারিত হওয়া দুই ঘণ্টার বেশি সময়ের সাক্ষাৎকারটিতে পুতিন এ মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার মস্কোতে নেওয়া এ সাক্ষাৎকার টাকার কার্লসন ডটকমে প্রচারিত হয়। ইউক্রেনে হামলার পর এই প্রথম কোনো মার্কিন সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিলেন পুতিন।

সাক্ষাৎকারে টাকার কার্লসন পুতিনকে প্রশ্ন করেন, ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র পোল্যান্ডে রাশিয়ার সেনা পাঠানোর চিন্তা তিনি করেন কিনা। এর জবাবে পুতিন বলেন, যদি পোল্যান্ড রাশিয়া আক্রমণ করে তবেই এমনটা হতে পারে। আমরা কেন পোলান্ড আক্রমণ করতে যাব। এতে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।

ধারণা করা হচ্ছে- ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা অনেক সংবাদমাধ্যমে একপেশে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার মনোভাব স্পষ্ট করতে পুতিন কার্লসনকে সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হতে পারেন। কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক টাকার কার্লসনের দৃষ্টিভঙ্গিও অনেকটা ভিন্ন। কার্লসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ। ট্রাম্পও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ চান। তবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে জোরালো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।

এর আগে ২০২২ সালের শুরুতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পূর্ব ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তকে ‘জিনিয়াস’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডানপন্থি এক রেডিওর অনুষ্ঠানে পুতিনের সেনা পাঠানোর ওই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন ট্রাম্প বলেন, আমি গতকাল একটি টেলিভিশনে গিয়ে বলেছিলাম, এটা জিনিয়াস।

তিনি বলেন, ইউক্রেনের বড় একটি অংশকে পুতিন স্বাধীন ঘোষণা করেছেন। ওহ, এটা দারুণ। পুতিন এখন বলছেন, এটা স্বাধীন। আমি বলেছি এটা কেমন বুদ্ধিমান? এখন তিনি সেখানে যাবেন এবং শান্তিরক্ষী হবেন। এটা শক্তিশালী শান্তিরক্ষী বাহিনী… আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তে এটা আমরা ব্যবহার করতে পারি।

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সাবেক এই প্রেসিডেন্ট পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে পুতিনের প্রশংসা করতে থাকেন। কিন্তু জো বাইডেনের ব্যাপারে তিনি অপমানজনক মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, আপনাকে বলতে হবে এটা বেশ বাস্তবজ্ঞান সম্মত সিদ্ধান্ত। আপনি কি জানেন এই ব্যাপারে বাইডেনের পক্ষ থেকে কি প্রতিক্রিয়া এসেছে? কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।

ওই সময় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে মস্কো সমর্থিত বিদ্রোহীদের দখলে থাকা দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে ‘শান্তি রক্ষার জন্য’ সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন পুতিন। এর আগে তিনি ইউক্রেন থেকে আলাদা হতে চাওয়া ওই অঞ্চল দুটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন।