রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হযরত আমজাদ আলী কদমী (রহ.)

।। মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ভুইয়া আল ওয়াইসী-নক্সবন্দী-মোজাদ্দেদী ।।
বাংলাদেশে পীর, ফকির, দরবেশ, অলি-আউলিয়া ও সুফি-সাধকরাই ইসলাম প্রচার করেছেন। মানুষের অন্তর আলোকিত করেছেন। তেমনই একজন সূফী দরবেশ হচ্ছেন বঙ্গ আসামের তরিকতের চাঁদ মুহিউল কুলুব মাহবুবে রহমানী ইমামুত তরিকত হযরত শাহ সূফী সৈয়দ মাওলানা আমজাদ আলী আল হাসানী আল কদমী (রহ.)। যিনি উপমহাদেশের অন্যতম সূফী সাধক রাসূলুল্লাহ (সা.) র প্রেমের জ্বলন্ত নিদর্শন পীরে কামেল রাসূলনোমা আল্লামা হযরত শাহ সূফী সৈয়্যেদ ফতেহ আলী ওয়াইসী (রহ.) এর অন্যতম খলিফা। মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের উত্তর পাউসার গ্রামে দরবারে শাহে কদমী পাউসার শরীফে তিনি ঘুমিয়ে আছেন।

হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলী (রহ.) গাউসুল আজম বড়পীর হজরত মহিউদ্দীন আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)’র বংশধর। তিনি উচ্চস্তরের কামেল অলি আল্লাহ ও মোর্শেদে বরহক ছিলেন। ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দে বড়পীর সাহেবের বংশধর এবং হজরত শাহ আমজাদ আলী (র.)-এর পূর্ব পুরুষ হজরত শাহ সৈয়দ হাসান তেগ বোরহান (রহ.) হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহ.) এর সঙ্গী হয়ে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বঙ্গদেশে আগমন করেন। তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের অন্তর্গত মৌজে গির্দায় বসতি স্থাপন করেন। তারই  পরবর্তী পুরুষ হচ্ছেন হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলী আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী (রহ.)। তিনি ১২৬৫ বাংলা সনের ভাদ্র মাস মোতাবেক ১০ মহররম ১২৭৭ হিজরি মঙ্গলবার ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার অন্তর্গত বনবন্তচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হজরত কাজী সৈয়দ এনায়েৎ উল্লাহ (রহ.)। হজরত আমজাদ আলী (রহ.)-এর পিতা এক সময় নবাব স্টেটের ‘কাজী উল-কোবরা’ ছিলেন।

হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলী (রহ.) যখন একাকী পথ চলতেন, তখন তার মাথার ওপর একটি লাল বর্ণের আলো সঙ্গে সঙ্গে চলত। এ কথা তার পিতাকে জানানোর পর তিনি বলতেন, আমি সর্ব শক্তিমান আল্লাহর কাছে তোমার জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। ১০ বছর বয়স হলে তার পিতা ঢাকার প্রখ্যাত এক সুফি সাহেবের কাছে শিক্ষালাভের জন্য প্রেরণ করেন। কয়েক দিন পর তার পিতা ইন্তেকাল করেন।

তার অসাধারণ স্মৃতিশক্তি ও মধুর আচরণের পরিচয় লাভ করে শিক্ষক বিস্মিত হন। ছাত্রদের মধ্যে তাকে তিনি অত্যান্ত স্নেহ করতেন। শ্রেণীতে সব সময় নিজের সামনে বসাতেন। তার বুদ্ধিমত্তার জন্য তিনি তাকে আদর করে ‘শাহ্জাদা’ বলে ডাকতেন। অতঃপর দ্বীনি উচ্চশিক্ষা অর্জন করার জন্য হযরত শাহ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলীকে (রহ.) কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। তিনি সেখান থেকে সর্বোচ্চ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একই মাদ্রাসায় মোদাররেস পদে যোগদান করেন। এ সময়েই তিনি দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করেন।

তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ এর প্রেমের জ্বলন্ত নিদর্শন পীরে কামেল শায়খে তরিকত রাসুল নোমা হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ ফতেহ আলী ওয়াইসী (র.) কলকাতায় থাকতেন। তিনি যুগশ্রেষ্ঠ সুফি সাধক ছিলেন। নবী করিম (সা.)-এর সাক্ষাৎ লাভ করে তিনি ‘ওয়াইসিয়া’ ফয়েজ লাভ করেন। ফলে তিনি আধ্যাত্মিকতার অতি উচ্চ শিখরে অবস্থান করেছিলেন। একই সময় সিলেটের হযরত মাওলানা আকবর আলী (রহ.)ও কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার মোদাররেস ছিলেন। তার সঙ্গে হযরত আমজাদ আলী (র.)-এর বেশ আন্তরিকতা ছিল। হযরত আকবর আলী (রহ.)ও হজরত শাহ্ সুফি সৈয়দ ফতেহ আলী ওয়াইসী (র.)’র মুরিদ ছিলেন।

হজরত আকবর আলী (রহ.) অনুপ্রেরনায় হযরত সৈয়দ আমজাদ আলীকে (রহ.) হজরত ওয়াইসী পাক (রহ.)’র সাথে স্বাক্ষাত করেন এবং বায়াত গড়্রহন করেন। হযরত ওয়াইসী পীর কেবলা (রহ.)’র ইচ্ছানুসারে এক বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হযরত আমজাদ আলী (রহ.) তার কাছে বায়াত গ্রহণ করেন। অতঃপর হজরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলীকে তিনি সাত তরিকায় জ্ঞানী করে তুললেন এবং তিনি তাকে খেলাফতও দান করলেন। পরে আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে আপন পীর-মোর্শেদের মাধ্যমে তিনি ‘কদমিয়া তরিকার ইমামত লাভ করেন। অতঃপর পীর-মোর্শেদের নির্দেশক্রমেই তিনি সত্য সন্ধানীদের কদমীয়া তরিকার বায়াত প্রদান এবং হেদায়েতের আলোতে উদ্ভাসিত করতে থাকেন।’

রাসুল নোমা হযরত ওয়াইসী পীর কেবলা (রহ.) হযরত আমজাদ আলী (রহ.)কে অত্যন্ত স্নেহ ও মহব্বত করতেন। ওফাতের সময় তিনি বলেছিলেন, ‘যদি কেউ আল্লাহ আল্লাহ করে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছতে চায়, তবে সে যেন শাহ্ আমজাদের কাছে তরিকত শিক্ষা করে।’ তার খোদা প্রদত্ত ক্ষমতার কারণেই হয়তো তিনি এ কথা বলেছিলেন। তার সঙ্গে দরবারে আউলিয়া সুরেশ্বর দায়রা শরিফের প্রতিষ্ঠাতা শামসুল উলামা আল্লামা হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ আলী ওরফে হজরত জানশরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রহ.)’র অতি প্রেম-ভালোবাসা, মহব্বত ও শ্রদ্ধা ছিল। হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলী (রহ.) এত উচ্চস্তরের কামেল পীর ছিলেন যে, তার কাছে যখন তরিকতের কোনো লোক বসতেন, এক বৈঠকেই তিনি তাকে সুলতানে আসগর অতিক্রম করে তরিকতের উচ্চস্তরে পৌঁছে দিতেন।

এখনো প্রতিদিন অসংখ্য জিয়ারতকারীরা ভক্তি-মহব্বত নিয়ে জিয়ারত করে থাকেন তার মাজার শরিফ। ভক্তি-মহব্বতসহ কেউ এ মহান অলির মাজার শরিফ জিয়ারত করলে তাৎক্ষণিক ফয়েজপ্রাপ্ত হন। তার মাজার শরিফে ফার্সি ভাষায় একটি বয়াত লিপিবদ্ধ রয়েছে। যার বাংলা অর্থ ‘আমার কাছে কেউ স্বশরীরে এলে- আমি তার জন্য প্রাণ নিয়ে আসব’।

হযরত সৈয়দ আমজাদ আলী কদমী (রহ.) এ মহান অলি আল্লাহ ফার্সি ভাষায় তিনটি অমূল্য আধ্যাত্মিক কিতাব রচনা করেছেন। সেগুলো হলো : ১. কাশফুল আসরার, ২. জুলফিকারে হায়দরী ও ৩. বোরহানুল আরেফীন।

কদমীয় তরিকার ইমাম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলী (রহ.) ১৩৩০ হিজরি, ১৩১৯ বঙ্গাব্দের ৩ আষাঢ় ১ শাবান মঙ্গলবার পৃথিবী ত্যাগ করেন। তিনি হায়াতে দুনিয়ায় ছিলেন ৫২ বছর ১১ মাস। তিনি পাউসার শরিফে এক স্বর্গীয় সুন্দর, নিরিবিলি, মনোরম পরিবেশে থেকে সবাইকে অবিরামভাবে কদমিয়া তরিকার ফয়েজ-রহমত বিলি করে যাচ্ছেন এখনো।

তিনি গভীর পাণ্ডিত্য ও বিভিন্ন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তাঁর অসাধারণ জ্ঞান, বাগ্মিতা ও মানবপ্রেমের কারণে এ দেশের সাধারণ মানুষ সুফিবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এভাবে ক্রমেই দেশে ইসলাম প্রচার ও প্রসার লাভ করে।

হযরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ মাওলানা আমজাদ আলী আল হাসানী আল কদমী(রহ.)’র মেঝ সাহেবজাদা হযরত শাহ সুফি সৈয়দ আবুল হাছাল আহছান আলী আল কদমী (রহ.) এর শাহজাদা হযরত শাহ সুফি সৈয়দ মাওলানা আবুল মুনসুর বাকিবিল্লাহ আল কদমী (রহ.) সাহেবজাদা আলহাজ হযরত শাহ সুফি সৈয়দ আবুল ফজল হাবিবুল্লাহ মাহফুজ শাহ আল হাসানী আল কদমী (র:) এর জেষ্ঠ্য সাহেবজাদা হযরত শাহ সুফি সৈয়দ মাওলানা আবুল হাসান মোহাম্মদ মাহবুব উল্লাহ আল হাসানি আল ওয়াইসী আল কদমী (মাহবুব শাহ) (মা.জি.আ.) বতর্মান সাজ্জাদানশিন ও গদীনশীন। তিনিই বর্তমানে দরবার শরিফের সকল কিছু তদারকি করছেন।

হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলী (রহ.) হযরত তার ওফাৎ দিবস উপলক্ষে ২ শাবান, ১৪৪৫ অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সোমবার ১১৫তম বার্ষিক ফাতেহা শরিফ উদযাপিত হবে।

[ লেখক : পরিচালক , আল ইউনুসীয়া-ওয়াজেতিয়া-ওয়াইসীয়া দরবার শরীফ, শিবপুর, নরসিংদী]

হযরত আমজাদ আলী কদমী (রহ.)

প্রকাশের সময় : ১১:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

।। মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ভুইয়া আল ওয়াইসী-নক্সবন্দী-মোজাদ্দেদী ।।
বাংলাদেশে পীর, ফকির, দরবেশ, অলি-আউলিয়া ও সুফি-সাধকরাই ইসলাম প্রচার করেছেন। মানুষের অন্তর আলোকিত করেছেন। তেমনই একজন সূফী দরবেশ হচ্ছেন বঙ্গ আসামের তরিকতের চাঁদ মুহিউল কুলুব মাহবুবে রহমানী ইমামুত তরিকত হযরত শাহ সূফী সৈয়দ মাওলানা আমজাদ আলী আল হাসানী আল কদমী (রহ.)। যিনি উপমহাদেশের অন্যতম সূফী সাধক রাসূলুল্লাহ (সা.) র প্রেমের জ্বলন্ত নিদর্শন পীরে কামেল রাসূলনোমা আল্লামা হযরত শাহ সূফী সৈয়্যেদ ফতেহ আলী ওয়াইসী (রহ.) এর অন্যতম খলিফা। মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের উত্তর পাউসার গ্রামে দরবারে শাহে কদমী পাউসার শরীফে তিনি ঘুমিয়ে আছেন।

হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলী (রহ.) গাউসুল আজম বড়পীর হজরত মহিউদ্দীন আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)’র বংশধর। তিনি উচ্চস্তরের কামেল অলি আল্লাহ ও মোর্শেদে বরহক ছিলেন। ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দে বড়পীর সাহেবের বংশধর এবং হজরত শাহ আমজাদ আলী (র.)-এর পূর্ব পুরুষ হজরত শাহ সৈয়দ হাসান তেগ বোরহান (রহ.) হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহ.) এর সঙ্গী হয়ে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বঙ্গদেশে আগমন করেন। তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের অন্তর্গত মৌজে গির্দায় বসতি স্থাপন করেন। তারই  পরবর্তী পুরুষ হচ্ছেন হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলী আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী (রহ.)। তিনি ১২৬৫ বাংলা সনের ভাদ্র মাস মোতাবেক ১০ মহররম ১২৭৭ হিজরি মঙ্গলবার ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার অন্তর্গত বনবন্তচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হজরত কাজী সৈয়দ এনায়েৎ উল্লাহ (রহ.)। হজরত আমজাদ আলী (রহ.)-এর পিতা এক সময় নবাব স্টেটের ‘কাজী উল-কোবরা’ ছিলেন।

হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলী (রহ.) যখন একাকী পথ চলতেন, তখন তার মাথার ওপর একটি লাল বর্ণের আলো সঙ্গে সঙ্গে চলত। এ কথা তার পিতাকে জানানোর পর তিনি বলতেন, আমি সর্ব শক্তিমান আল্লাহর কাছে তোমার জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। ১০ বছর বয়স হলে তার পিতা ঢাকার প্রখ্যাত এক সুফি সাহেবের কাছে শিক্ষালাভের জন্য প্রেরণ করেন। কয়েক দিন পর তার পিতা ইন্তেকাল করেন।

তার অসাধারণ স্মৃতিশক্তি ও মধুর আচরণের পরিচয় লাভ করে শিক্ষক বিস্মিত হন। ছাত্রদের মধ্যে তাকে তিনি অত্যান্ত স্নেহ করতেন। শ্রেণীতে সব সময় নিজের সামনে বসাতেন। তার বুদ্ধিমত্তার জন্য তিনি তাকে আদর করে ‘শাহ্জাদা’ বলে ডাকতেন। অতঃপর দ্বীনি উচ্চশিক্ষা অর্জন করার জন্য হযরত শাহ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলীকে (রহ.) কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। তিনি সেখান থেকে সর্বোচ্চ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একই মাদ্রাসায় মোদাররেস পদে যোগদান করেন। এ সময়েই তিনি দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করেন।

তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ এর প্রেমের জ্বলন্ত নিদর্শন পীরে কামেল শায়খে তরিকত রাসুল নোমা হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ ফতেহ আলী ওয়াইসী (র.) কলকাতায় থাকতেন। তিনি যুগশ্রেষ্ঠ সুফি সাধক ছিলেন। নবী করিম (সা.)-এর সাক্ষাৎ লাভ করে তিনি ‘ওয়াইসিয়া’ ফয়েজ লাভ করেন। ফলে তিনি আধ্যাত্মিকতার অতি উচ্চ শিখরে অবস্থান করেছিলেন। একই সময় সিলেটের হযরত মাওলানা আকবর আলী (রহ.)ও কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার মোদাররেস ছিলেন। তার সঙ্গে হযরত আমজাদ আলী (র.)-এর বেশ আন্তরিকতা ছিল। হযরত আকবর আলী (রহ.)ও হজরত শাহ্ সুফি সৈয়দ ফতেহ আলী ওয়াইসী (র.)’র মুরিদ ছিলেন।

হজরত আকবর আলী (রহ.) অনুপ্রেরনায় হযরত সৈয়দ আমজাদ আলীকে (রহ.) হজরত ওয়াইসী পাক (রহ.)’র সাথে স্বাক্ষাত করেন এবং বায়াত গড়্রহন করেন। হযরত ওয়াইসী পীর কেবলা (রহ.)’র ইচ্ছানুসারে এক বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হযরত আমজাদ আলী (রহ.) তার কাছে বায়াত গ্রহণ করেন। অতঃপর হজরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলীকে তিনি সাত তরিকায় জ্ঞানী করে তুললেন এবং তিনি তাকে খেলাফতও দান করলেন। পরে আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে আপন পীর-মোর্শেদের মাধ্যমে তিনি ‘কদমিয়া তরিকার ইমামত লাভ করেন। অতঃপর পীর-মোর্শেদের নির্দেশক্রমেই তিনি সত্য সন্ধানীদের কদমীয়া তরিকার বায়াত প্রদান এবং হেদায়েতের আলোতে উদ্ভাসিত করতে থাকেন।’

রাসুল নোমা হযরত ওয়াইসী পীর কেবলা (রহ.) হযরত আমজাদ আলী (রহ.)কে অত্যন্ত স্নেহ ও মহব্বত করতেন। ওফাতের সময় তিনি বলেছিলেন, ‘যদি কেউ আল্লাহ আল্লাহ করে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছতে চায়, তবে সে যেন শাহ্ আমজাদের কাছে তরিকত শিক্ষা করে।’ তার খোদা প্রদত্ত ক্ষমতার কারণেই হয়তো তিনি এ কথা বলেছিলেন। তার সঙ্গে দরবারে আউলিয়া সুরেশ্বর দায়রা শরিফের প্রতিষ্ঠাতা শামসুল উলামা আল্লামা হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ আলী ওরফে হজরত জানশরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রহ.)’র অতি প্রেম-ভালোবাসা, মহব্বত ও শ্রদ্ধা ছিল। হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলী (রহ.) এত উচ্চস্তরের কামেল পীর ছিলেন যে, তার কাছে যখন তরিকতের কোনো লোক বসতেন, এক বৈঠকেই তিনি তাকে সুলতানে আসগর অতিক্রম করে তরিকতের উচ্চস্তরে পৌঁছে দিতেন।

এখনো প্রতিদিন অসংখ্য জিয়ারতকারীরা ভক্তি-মহব্বত নিয়ে জিয়ারত করে থাকেন তার মাজার শরিফ। ভক্তি-মহব্বতসহ কেউ এ মহান অলির মাজার শরিফ জিয়ারত করলে তাৎক্ষণিক ফয়েজপ্রাপ্ত হন। তার মাজার শরিফে ফার্সি ভাষায় একটি বয়াত লিপিবদ্ধ রয়েছে। যার বাংলা অর্থ ‘আমার কাছে কেউ স্বশরীরে এলে- আমি তার জন্য প্রাণ নিয়ে আসব’।

হযরত সৈয়দ আমজাদ আলী কদমী (রহ.) এ মহান অলি আল্লাহ ফার্সি ভাষায় তিনটি অমূল্য আধ্যাত্মিক কিতাব রচনা করেছেন। সেগুলো হলো : ১. কাশফুল আসরার, ২. জুলফিকারে হায়দরী ও ৩. বোরহানুল আরেফীন।

কদমীয় তরিকার ইমাম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলী (রহ.) ১৩৩০ হিজরি, ১৩১৯ বঙ্গাব্দের ৩ আষাঢ় ১ শাবান মঙ্গলবার পৃথিবী ত্যাগ করেন। তিনি হায়াতে দুনিয়ায় ছিলেন ৫২ বছর ১১ মাস। তিনি পাউসার শরিফে এক স্বর্গীয় সুন্দর, নিরিবিলি, মনোরম পরিবেশে থেকে সবাইকে অবিরামভাবে কদমিয়া তরিকার ফয়েজ-রহমত বিলি করে যাচ্ছেন এখনো।

তিনি গভীর পাণ্ডিত্য ও বিভিন্ন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তাঁর অসাধারণ জ্ঞান, বাগ্মিতা ও মানবপ্রেমের কারণে এ দেশের সাধারণ মানুষ সুফিবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এভাবে ক্রমেই দেশে ইসলাম প্রচার ও প্রসার লাভ করে।

হযরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ মাওলানা আমজাদ আলী আল হাসানী আল কদমী(রহ.)’র মেঝ সাহেবজাদা হযরত শাহ সুফি সৈয়দ আবুল হাছাল আহছান আলী আল কদমী (রহ.) এর শাহজাদা হযরত শাহ সুফি সৈয়দ মাওলানা আবুল মুনসুর বাকিবিল্লাহ আল কদমী (রহ.) সাহেবজাদা আলহাজ হযরত শাহ সুফি সৈয়দ আবুল ফজল হাবিবুল্লাহ মাহফুজ শাহ আল হাসানী আল কদমী (র:) এর জেষ্ঠ্য সাহেবজাদা হযরত শাহ সুফি সৈয়দ মাওলানা আবুল হাসান মোহাম্মদ মাহবুব উল্লাহ আল হাসানি আল ওয়াইসী আল কদমী (মাহবুব শাহ) (মা.জি.আ.) বতর্মান সাজ্জাদানশিন ও গদীনশীন। তিনিই বর্তমানে দরবার শরিফের সকল কিছু তদারকি করছেন।

হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আমজাদ আলী (রহ.) হযরত তার ওফাৎ দিবস উপলক্ষে ২ শাবান, ১৪৪৫ অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সোমবার ১১৫তম বার্ষিক ফাতেহা শরিফ উদযাপিত হবে।

[ লেখক : পরিচালক , আল ইউনুসীয়া-ওয়াজেতিয়া-ওয়াইসীয়া দরবার শরীফ, শিবপুর, নরসিংদী]