বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গাজায় বিমান থেকে ত্রাণ সহায়তা ফেলবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী

গাজায় বিমান থেকে ত্রাণ সহায়তা ফেলবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। গতকাল শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাঁর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এ যার মাত্র একদিন আগেই ত্রাণ সংগ্রহ করতে সমবেত হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি গুলিবর্ষণে ১১২ জন নিহত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডান, ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ এই মধ্যে গাজায় বেশ কয়েক দফা বিমান থেকে ত্রাণ সহায়তা ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এই সাড়া একটু দেরিতেই এল। বাইডেন ত্রাণ সহায়তা ফেলার ঘোষণা দিলেও তা কবে নাগাদ ফেলা হবে সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ এই কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমাদের আরও বেশি কিছু করতে হবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও কিছু করবে।’ তিনি জানান, সাগরপথে গাজায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে একটি মেরিটাইম করিডর স্থাপনের বিষয়ে ভাবছে তাঁর দেশ।

একই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জন কারবি বলেছেন, ‘গাজায় প্রবাহিত সহায়তা মোটেও যথেষ্ট নয়।’ এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে বিমান থেকে ত্রাণ ফেলা একটি টেকসই প্রচেষ্টা হয়ে উঠবে।’ তিনি জানান, মার্কিন সেনাবাহিনী সামরিক বাহিনীর জন্য প্রস্তুতকৃত খাবার ফেলতে পারে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে উত্তর গাজার একটি ত্রাণ কেন্দ্রে উপস্থিত ফিলিস্তিনিরা ‘হুমকি তৈরি করেছে’ ধারণা থেকে গুলি চালায় ইসরায়েলি সৈন্যরা। স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে বলেছেন, গাজা শহরের পশ্চিম নাবুলসি গোলচত্বরে ত্রাণের ট্রাকের দিকে খাবারের জন্য মরিয়া হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন। সেই সময় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ত্রাণ-বোঝাই ট্রাকগুলো কিছু সেনা ট্যাংকের খুব কাছাকাছি চলে আসে। ওই সময় হাজার হাজার মানুষ ট্রাকের দিকে ছুটে আসেন। তাঁরা ট্রাকগুলোতে হামলে পড়েন। লোকজন ট্যাংকের খুব কাছে চলে আসায় ইসরায়েলি সৈন্যরা ভিড় লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

এই ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, উত্তর গাজা উপত্যকায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে গাজার বাসিন্দারা ট্রাকগুলো ঘিরে ফেলে এবং সরবরাহ করা ত্রাণ-সামগ্রী লুট করে। ঘটনার সময় ধাক্কাধাক্কি ও পদদলিত হয়ে কয়েক ডজন গাজাবাসী আহত হয়েছেন। এই ঘটনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

পরে ইসরায়েলি একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেছে, লোকজন এমনভাবে ইসরায়েলি বাহিনীর কাছাকাছি এসেছিল; যা সৈন্যদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরে তাজা গুলি ছুড়ে হুমকি মোকাবিলা করা হয়েছে।

ইসরায়েলের ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ফিলিস্তিনিরা ত্রাণবাহী গাড়ির কাছাকাছি চলে আসায় ইসরায়েলি সেনারা গুলি করতে বাধ্য হয়েছে।

গাজায় বিমান থেকে ত্রাণ সহায়তা ফেলবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী

প্রকাশের সময় : ০৯:৫০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪

গাজায় বিমান থেকে ত্রাণ সহায়তা ফেলবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। গতকাল শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাঁর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এ যার মাত্র একদিন আগেই ত্রাণ সংগ্রহ করতে সমবেত হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি গুলিবর্ষণে ১১২ জন নিহত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডান, ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ এই মধ্যে গাজায় বেশ কয়েক দফা বিমান থেকে ত্রাণ সহায়তা ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এই সাড়া একটু দেরিতেই এল। বাইডেন ত্রাণ সহায়তা ফেলার ঘোষণা দিলেও তা কবে নাগাদ ফেলা হবে সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ এই কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমাদের আরও বেশি কিছু করতে হবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও কিছু করবে।’ তিনি জানান, সাগরপথে গাজায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে একটি মেরিটাইম করিডর স্থাপনের বিষয়ে ভাবছে তাঁর দেশ।

একই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জন কারবি বলেছেন, ‘গাজায় প্রবাহিত সহায়তা মোটেও যথেষ্ট নয়।’ এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে বিমান থেকে ত্রাণ ফেলা একটি টেকসই প্রচেষ্টা হয়ে উঠবে।’ তিনি জানান, মার্কিন সেনাবাহিনী সামরিক বাহিনীর জন্য প্রস্তুতকৃত খাবার ফেলতে পারে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে উত্তর গাজার একটি ত্রাণ কেন্দ্রে উপস্থিত ফিলিস্তিনিরা ‘হুমকি তৈরি করেছে’ ধারণা থেকে গুলি চালায় ইসরায়েলি সৈন্যরা। স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে বলেছেন, গাজা শহরের পশ্চিম নাবুলসি গোলচত্বরে ত্রাণের ট্রাকের দিকে খাবারের জন্য মরিয়া হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন। সেই সময় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ত্রাণ-বোঝাই ট্রাকগুলো কিছু সেনা ট্যাংকের খুব কাছাকাছি চলে আসে। ওই সময় হাজার হাজার মানুষ ট্রাকের দিকে ছুটে আসেন। তাঁরা ট্রাকগুলোতে হামলে পড়েন। লোকজন ট্যাংকের খুব কাছে চলে আসায় ইসরায়েলি সৈন্যরা ভিড় লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

এই ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, উত্তর গাজা উপত্যকায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে গাজার বাসিন্দারা ট্রাকগুলো ঘিরে ফেলে এবং সরবরাহ করা ত্রাণ-সামগ্রী লুট করে। ঘটনার সময় ধাক্কাধাক্কি ও পদদলিত হয়ে কয়েক ডজন গাজাবাসী আহত হয়েছেন। এই ঘটনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

পরে ইসরায়েলি একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেছে, লোকজন এমনভাবে ইসরায়েলি বাহিনীর কাছাকাছি এসেছিল; যা সৈন্যদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরে তাজা গুলি ছুড়ে হুমকি মোকাবিলা করা হয়েছে।

ইসরায়েলের ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ফিলিস্তিনিরা ত্রাণবাহী গাড়ির কাছাকাছি চলে আসায় ইসরায়েলি সেনারা গুলি করতে বাধ্য হয়েছে।