মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালত

কুমিল্লার হোমনায় পরকীয়া প্রেমিককে নিয়ে স্বামী আব্দুল জলিলকে (৪৫) হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পরকীয়া প্রেমিককে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৭ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিহত আব্দুল জলিলের স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৩৫), হোমনার কারারকান্দি এলাকার মৃত ইউসুফ মিয়ার ছেলে মো. কুদ্দুস (৩২), মঙ্গলকান্দি এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে আব্দুল খালেক (২৮) ও কারারকান্দি এলাকার মৃত সাধন মিয়ার ছেলে মো. রাজিব (২৬)। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামিই কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন না। তারা সবাই পলাতক রয়েছেন।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হোমনার চেৎপুর এলাকার সৌদি প্রবাসী আব্দুল জলিলের স্ত্রী শাহনাজ বেগমের সঙ্গে পরকীয়া প্রেম ছিল হোমনা উপজেলার গোয়ারী ভাঙ্গা গ্রামের মৃত আক্কাস আলীর ছেলে হোমনা কাঁচাবাজারের টিউবওয়েল ব্যবসায়ী মো. শাহজাহানের। পরকীয়ার জের ধরে গত ২০১৩ সালের ৯ জুন চিকিৎসা করানোর কথা বলে জলিলকে ঢাকায় নেন স্ত্রী। এ সময় ঢাকা থেকে ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্ত্রী শাহনাজের ইন্ধনে ঘাতক কুদ্দুস, খালেক ও রাজিব মিলে আব্দুল জলিলকে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই  তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে হোমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান হোমনা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল বাকী। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে পালিয়ে যান স্ত্রী শাহনাজ বেগমসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর আসামিরা। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন এসআই আব্দুল্লাহ আল বাকী।

মামলাটি বিচারে এলে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গঠন করে রাষ্ট্রপক্ষে ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও যুক্তিতর্ক শুনানি হয়। ওই মামলায় বুধবার রায়ের দিন নিহত জলিলের স্ত্রী শাহনাজ বেগম, আসামি কুদ্দুস, খালেক ও রাজিবের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। জলিলের স্ত্রী শাহনাজ বেগমের পরকীয়া প্রেমিক শাহজাহানের কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

কুমিল্লায় স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের সময় : ০৪:২০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪

কুমিল্লার হোমনায় পরকীয়া প্রেমিককে নিয়ে স্বামী আব্দুল জলিলকে (৪৫) হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পরকীয়া প্রেমিককে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৭ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিহত আব্দুল জলিলের স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৩৫), হোমনার কারারকান্দি এলাকার মৃত ইউসুফ মিয়ার ছেলে মো. কুদ্দুস (৩২), মঙ্গলকান্দি এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে আব্দুল খালেক (২৮) ও কারারকান্দি এলাকার মৃত সাধন মিয়ার ছেলে মো. রাজিব (২৬)। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামিই কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন না। তারা সবাই পলাতক রয়েছেন।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হোমনার চেৎপুর এলাকার সৌদি প্রবাসী আব্দুল জলিলের স্ত্রী শাহনাজ বেগমের সঙ্গে পরকীয়া প্রেম ছিল হোমনা উপজেলার গোয়ারী ভাঙ্গা গ্রামের মৃত আক্কাস আলীর ছেলে হোমনা কাঁচাবাজারের টিউবওয়েল ব্যবসায়ী মো. শাহজাহানের। পরকীয়ার জের ধরে গত ২০১৩ সালের ৯ জুন চিকিৎসা করানোর কথা বলে জলিলকে ঢাকায় নেন স্ত্রী। এ সময় ঢাকা থেকে ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্ত্রী শাহনাজের ইন্ধনে ঘাতক কুদ্দুস, খালেক ও রাজিব মিলে আব্দুল জলিলকে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই  তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে হোমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান হোমনা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল বাকী। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে পালিয়ে যান স্ত্রী শাহনাজ বেগমসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর আসামিরা। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন এসআই আব্দুল্লাহ আল বাকী।

মামলাটি বিচারে এলে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গঠন করে রাষ্ট্রপক্ষে ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও যুক্তিতর্ক শুনানি হয়। ওই মামলায় বুধবার রায়ের দিন নিহত জলিলের স্ত্রী শাহনাজ বেগম, আসামি কুদ্দুস, খালেক ও রাজিবের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। জলিলের স্ত্রী শাহনাজ বেগমের পরকীয়া প্রেমিক শাহজাহানের কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।