মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ড. ইউনূস ইউনেস্কোর ‘ট্রি অব পিস’ পুরস্কার পেয়েছেন, সেটি সঠিক নয় –শিক্ষামন্ত্রী

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইউনেস্কোর ‘ট্রি অব পিস’ পুরস্কার পেয়েছেন বলে যে তথ্য প্রচারিত হয়েছে সেটি সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।তিনি বলেছেন, ‘ইসরায়েলি ভাস্করের দেওয়া পুরস্কার জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক শীর্ষ সংস্থা ইউনেস্কোর নামে প্রচার করে ড. ইউনূস বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।’

 আজ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে পদাধিকারবলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফর কমিশন ফর ইউনেসকোর (বিএনসিইউ) চেয়ারম্যান আমি। আমার সঙ্গে বিএনসিইউর ডেপুটি সেক্রেটারি জুবাইদাও উপস্থিত আছেন। কিছুদিন আগে একটি প্রকাশিত সংবাদ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সেটি হচ্ছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ইউনেস্কো একটি পুরস্কার দিয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে ইউনেসকোর সদর দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। সেখান থেকে তারা নিশ্চিত করেছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ইউনেস্কো কোনো সম্মাননা দেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে একটি সম্মেলনে গজনভী ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন নামের একটি সংস্থার আমন্ত্রণে ইউনূসকে একটি সম্মাননা স্মারক দেন ইসরায়েলি ভাস্কর হেদভাসার। তিনিও নিশ্চিত করেছেন, ইউনূসকে ইউনেস্কো কোনো সম্মাননা দেয়নি। এটি গজনভী ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ইউনূসকে তিনি এটা দিয়েছেন।’

‘এখন ইউনেস্কোর কাছে আমরা একটি ব্যাখ্যা পাঠাব। ইউনূস সেন্টার ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বরাত দিয়ে যে সংবাদটি প্রচার করা হয়েছে, সেটা প্রতারণামূলক ও সদৈব মিথ্যা। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য ইউনেসকোর পুরস্কার বলে প্রচার করা হয়েছে’, যোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ইউনূস সেন্টারের ওয়েবসাইটে ইউনেস্কোর পুরস্কার হিসেবেই লেখা রয়েছে। এটা প্রতারণা ও শঠতামূলক কার্যক্রম। একজন ইসরায়েলি ভাস্করের দেওয়া পুরস্কারকে তিনি ইউনেস্কোর পুরস্কার হিসেবে প্রচার করেছেন।’

‘আমরা ইউনেস্কোর একটি সদস্য রাষ্ট্র’ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইউনেস্কো কমিশন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন। বাংলাদেশ কমিশনের পক্ষ থেকে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে আমরা একটি ব্যাখ্যা পাঠাব এবং অবগত করব। আমরা বলব, ইউনেসকোর নাম নিয়ে ড. ইউনূস বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন, যেটা অনৈতিক ও অপরাধমূলক।’

একজন ইসরায়েলি ভাস্করের পুরস্কার ইউনেসকোর নামে চালিয়ে দেওয়া দেশের জন্যও মানহানিকর বলে জানান মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অপমানজনকও বটে। আমরা ইউনেস্কোকে এটা বলব। এ ছাড়া শ্রম আইন লঙ্ঘনের জন্য ইউনূস যে দণ্ডিত হয়েছেন, সেটাও ইউনেস্কোকে জানাব। একজন দণ্ডিত ব্যক্তি ইউনেস্কোর নাম নিয়ে যে অপপ্রচার করছেন, এটি থেকে ইউনেস্কোকে সতর্ক করব।’

ড. ইউনূস ইউনেস্কোর ‘ট্রি অব পিস’ পুরস্কার পেয়েছেন, সেটি সঠিক নয় –শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৫:৫২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইউনেস্কোর ‘ট্রি অব পিস’ পুরস্কার পেয়েছেন বলে যে তথ্য প্রচারিত হয়েছে সেটি সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।তিনি বলেছেন, ‘ইসরায়েলি ভাস্করের দেওয়া পুরস্কার জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক শীর্ষ সংস্থা ইউনেস্কোর নামে প্রচার করে ড. ইউনূস বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।’

 আজ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে পদাধিকারবলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফর কমিশন ফর ইউনেসকোর (বিএনসিইউ) চেয়ারম্যান আমি। আমার সঙ্গে বিএনসিইউর ডেপুটি সেক্রেটারি জুবাইদাও উপস্থিত আছেন। কিছুদিন আগে একটি প্রকাশিত সংবাদ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সেটি হচ্ছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ইউনেস্কো একটি পুরস্কার দিয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে ইউনেসকোর সদর দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। সেখান থেকে তারা নিশ্চিত করেছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ইউনেস্কো কোনো সম্মাননা দেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে একটি সম্মেলনে গজনভী ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন নামের একটি সংস্থার আমন্ত্রণে ইউনূসকে একটি সম্মাননা স্মারক দেন ইসরায়েলি ভাস্কর হেদভাসার। তিনিও নিশ্চিত করেছেন, ইউনূসকে ইউনেস্কো কোনো সম্মাননা দেয়নি। এটি গজনভী ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ইউনূসকে তিনি এটা দিয়েছেন।’

‘এখন ইউনেস্কোর কাছে আমরা একটি ব্যাখ্যা পাঠাব। ইউনূস সেন্টার ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বরাত দিয়ে যে সংবাদটি প্রচার করা হয়েছে, সেটা প্রতারণামূলক ও সদৈব মিথ্যা। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য ইউনেসকোর পুরস্কার বলে প্রচার করা হয়েছে’, যোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ইউনূস সেন্টারের ওয়েবসাইটে ইউনেস্কোর পুরস্কার হিসেবেই লেখা রয়েছে। এটা প্রতারণা ও শঠতামূলক কার্যক্রম। একজন ইসরায়েলি ভাস্করের দেওয়া পুরস্কারকে তিনি ইউনেস্কোর পুরস্কার হিসেবে প্রচার করেছেন।’

‘আমরা ইউনেস্কোর একটি সদস্য রাষ্ট্র’ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইউনেস্কো কমিশন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন। বাংলাদেশ কমিশনের পক্ষ থেকে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে আমরা একটি ব্যাখ্যা পাঠাব এবং অবগত করব। আমরা বলব, ইউনেসকোর নাম নিয়ে ড. ইউনূস বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন, যেটা অনৈতিক ও অপরাধমূলক।’

একজন ইসরায়েলি ভাস্করের পুরস্কার ইউনেসকোর নামে চালিয়ে দেওয়া দেশের জন্যও মানহানিকর বলে জানান মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অপমানজনকও বটে। আমরা ইউনেস্কোকে এটা বলব। এ ছাড়া শ্রম আইন লঙ্ঘনের জন্য ইউনূস যে দণ্ডিত হয়েছেন, সেটাও ইউনেস্কোকে জানাব। একজন দণ্ডিত ব্যক্তি ইউনেস্কোর নাম নিয়ে যে অপপ্রচার করছেন, এটি থেকে ইউনেস্কোকে সতর্ক করব।’