মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কত টাকায় বিক্রি হলো শারমিনের লাশ?

ডাঃ রেজা সেকেন্দার ও মৃত গৃহবধূ শারমিন

হাবিবুর রহমান তুষার, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
র‌্যাবের অভিযানে বন্ধ হওয়া ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকার সেই আলোচিত রাবেয়া হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর শারমিন (১৯) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ভোরে যশোরের ইবনে সিনা হাসপাতালে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে মৃত্যু সনদে উল্লেখ করা হয়। গত সোমবার রাবেয়া হাসপাতালে অজ্ঞানের চিকিৎসক ডাঃ রেজা সেকেন্দার তাকে অপারেশন করেন।
শারমিন হরিণাকুন্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে ও শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আলা-আমিনের স্ত্রী।
শারমিনের স্বজনরা অভিযোগ করেন, গত সোমবার (২৫ মার্চ) প্রসব বেদনা উঠলে এক সন্তানের জননী শারমিনকে রাবেয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ঝিনাইদহ ম্যাটারনিটির সাবেক অজ্ঞানের চিকিৎসক রেজা সেকেন্দার তাকে অপারেশন করেন। এ সময় তাকে সহায়তা করেন আরেক অজ্ঞানের চিকিৎসক মঞ্জুরুল ইসলাম। অপারেশনের পর ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হলেও আর জ্ঞান ফেরেনি শারমিনের। ফলে অজ্ঞানের চিকিৎসক মঞ্জুরুল ইসলাম দ্রত তাকে ঘটনার দিনই যশোরের ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিউতে ভর্তি করেন। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বৃহস্পতিবার ভোরে শারমিনের মৃত্যু হয়।
শারমিনের মৃত্যুর পর শুরু হয় ঘটনাটি ধামা চাপা দেওয়ার পক্রিয়া। হরিণাকুন্ডুর সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা পলাশ যশোরের বসেই মোটা অংকের টাকায় রফা করে দেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে অজ্ঞানের চিকিৎসক ডাঃ মুন্সি রেজা সেকেন্দার বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারশেন দেখে দেখে এখন নিজেই অপারেশন করে যাচ্ছেন। এই কাজে তার কােন সরকারী সনদ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। ইতিমধ্যে তার হাতে বহু মানুষ অপারেশনের পর পঙ্গু ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ।
তবে ডাঃ মুন্সি রেজা সেকেন্দার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সিজার করতে পারেন। তার সরকারী স্বীকৃতি আছে। তিনি বলেন, শারমিন আভ্যন্তরীন রক্তক্ষরণে মারা গেছেন, যাকে বলে ডিআইসি।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে আরাপপুরের রাবেয়া ক্লিনিকটি বিতর্কিত ও ধীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। তারা মেয়াদ উত্তীর্ণ রক্ত, গজ, ব্যান্ডেজ এবং বিভিন্ন চিকিৎসার সরঞ্জামাদি ব্যবহার ও বিক্রয় করে। ফলে জনসাধারনের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে।
এ সব অভিযোগে ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ গত বছরের ৩০ সেপ্টম্বর অভিযান চালিয়ে ক্লিনিক মালিক মেহেদী হাসানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এস এম নুরুন্নবীর নেতৃত্বে সিভিল সার্জনের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে র‌্যাবের কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ইসতিয়াক হোসাইন এই অভিযান পরিচালনা করেন। এরপরও ক্লিনিকটি অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলে আসছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন শুভ্রা রানী দেবনাথ জানান, রাবেয়া ক্লিনিকে শারমিন নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর খবর আমি শুনেছি। তিনি ডিআইসি নামে বিরল রোগে আক্রান্ত হন বলে প্রাপ্ত রিপোর্ট উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উল্লেখ্য এর আগে রাবেয়া হাসপাতালের এক চিকিৎসক মৃত ব্যক্তির ডাক্তারী সনদ নিয়ে দীর্ঘদিন রোগী দেখে আসছিলেন। খবর পেয়ে ২০২২ সালের ২০ আগষ্ট র‌্যাব ও সিভিল সার্জন অফিস যৌথ অভিযান চালালে ওই ভুয়া ডাক্তার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন- এসপি 

কত টাকায় বিক্রি হলো শারমিনের লাশ?

প্রকাশের সময় : ১০:৩১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪
হাবিবুর রহমান তুষার, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
র‌্যাবের অভিযানে বন্ধ হওয়া ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকার সেই আলোচিত রাবেয়া হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর শারমিন (১৯) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ভোরে যশোরের ইবনে সিনা হাসপাতালে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে মৃত্যু সনদে উল্লেখ করা হয়। গত সোমবার রাবেয়া হাসপাতালে অজ্ঞানের চিকিৎসক ডাঃ রেজা সেকেন্দার তাকে অপারেশন করেন।
শারমিন হরিণাকুন্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে ও শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আলা-আমিনের স্ত্রী।
শারমিনের স্বজনরা অভিযোগ করেন, গত সোমবার (২৫ মার্চ) প্রসব বেদনা উঠলে এক সন্তানের জননী শারমিনকে রাবেয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ঝিনাইদহ ম্যাটারনিটির সাবেক অজ্ঞানের চিকিৎসক রেজা সেকেন্দার তাকে অপারেশন করেন। এ সময় তাকে সহায়তা করেন আরেক অজ্ঞানের চিকিৎসক মঞ্জুরুল ইসলাম। অপারেশনের পর ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হলেও আর জ্ঞান ফেরেনি শারমিনের। ফলে অজ্ঞানের চিকিৎসক মঞ্জুরুল ইসলাম দ্রত তাকে ঘটনার দিনই যশোরের ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিউতে ভর্তি করেন। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বৃহস্পতিবার ভোরে শারমিনের মৃত্যু হয়।
শারমিনের মৃত্যুর পর শুরু হয় ঘটনাটি ধামা চাপা দেওয়ার পক্রিয়া। হরিণাকুন্ডুর সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা পলাশ যশোরের বসেই মোটা অংকের টাকায় রফা করে দেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে অজ্ঞানের চিকিৎসক ডাঃ মুন্সি রেজা সেকেন্দার বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারশেন দেখে দেখে এখন নিজেই অপারেশন করে যাচ্ছেন। এই কাজে তার কােন সরকারী সনদ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। ইতিমধ্যে তার হাতে বহু মানুষ অপারেশনের পর পঙ্গু ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ।
তবে ডাঃ মুন্সি রেজা সেকেন্দার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সিজার করতে পারেন। তার সরকারী স্বীকৃতি আছে। তিনি বলেন, শারমিন আভ্যন্তরীন রক্তক্ষরণে মারা গেছেন, যাকে বলে ডিআইসি।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে আরাপপুরের রাবেয়া ক্লিনিকটি বিতর্কিত ও ধীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। তারা মেয়াদ উত্তীর্ণ রক্ত, গজ, ব্যান্ডেজ এবং বিভিন্ন চিকিৎসার সরঞ্জামাদি ব্যবহার ও বিক্রয় করে। ফলে জনসাধারনের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে।
এ সব অভিযোগে ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ গত বছরের ৩০ সেপ্টম্বর অভিযান চালিয়ে ক্লিনিক মালিক মেহেদী হাসানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এস এম নুরুন্নবীর নেতৃত্বে সিভিল সার্জনের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে র‌্যাবের কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ইসতিয়াক হোসাইন এই অভিযান পরিচালনা করেন। এরপরও ক্লিনিকটি অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলে আসছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন শুভ্রা রানী দেবনাথ জানান, রাবেয়া ক্লিনিকে শারমিন নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর খবর আমি শুনেছি। তিনি ডিআইসি নামে বিরল রোগে আক্রান্ত হন বলে প্রাপ্ত রিপোর্ট উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উল্লেখ্য এর আগে রাবেয়া হাসপাতালের এক চিকিৎসক মৃত ব্যক্তির ডাক্তারী সনদ নিয়ে দীর্ঘদিন রোগী দেখে আসছিলেন। খবর পেয়ে ২০২২ সালের ২০ আগষ্ট র‌্যাব ও সিভিল সার্জন অফিস যৌথ অভিযান চালালে ওই ভুয়া ডাক্তার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।