মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বছরের প্রথম তিন মাসে ধর্ষণের শিকার ১১৪ নারী

ছবি-সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১১৪ নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে তিন জনকে। ধর্ষণের পর একজন নারী আত্মহত্যা করেছেন। ৩১ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৩৭ জন নারী। এর মধ্যে ৬৫ জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৪৯ জন। এছাড়া ২৩ জনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৬ জন। যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে পাঁচ জনকে এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন দুই জন নারী। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আট জন। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাত জন গৃহকর্মী। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৫ জন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৭৯ জন নারী-পুরুষ। তাদের মধ্যে ৫৫ জন নারী ও ২৪ জন পুরুষ হামলার শিকার হয়েছেন। বখাটেদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন ৪৫ জন। বখাটেদের উৎপাতকে কেন্দ্র করে সংঘাতে ২৬ জন আহত হয়েছেন।

আসকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিন মাসে ৩২৫ শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। এরমধ্যে হত্যা করা হয়েছে ১৩৯ জনকে শিশুকে। আত্মহত্যা করেছে ২৭ শিশু। বিভিন্ন সময়ে ৩২ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বলাৎকারের শিকার হয়েছে ১৪ ছেলে শিশু এবং বলাৎকারের চেষ্টা করা হয়েছে একজনকে। একজন ছেলে শিশুকে বলাৎকারের পর হত্যা করা হয়েছে।

আসক বলছে, সীমান্তে হত্যা, হেফাজতে মৃত্যু, সাংবাদিক নিপীড়নসহ মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে আইনের শাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

অন্যথায়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়তে থাকে। রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের সব ধরনের মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার দ্রুততার সঙ্গে নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে আসক।

আসক বলছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, সিটি করপোরেশন নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন জায়গায় ২৬৮টি রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২ হাজার ৩৬৮ জন।

দেশের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক ও নির্যাতন করে কারাগারে পাঠানোর পর ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২ জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বিগত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে কারা হেফাজতে মারা গেছেন ৩৫ জন। এর মধ্যে কয়েদি ১৪ জন এবং হাজতি ২১ জন। গত তিন মাসে ২০টি ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৩টি বাড়িসহ ২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া ১৫টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

গত তিন মাসে বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি, মামলা ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন ৮১ জন সাংবাদিক। সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে ছয় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও চার জন। অপর দিকে মিয়ানমার সীমান্তে মর্টার শেলের আঘাতে একজন বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশে আশ্রিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একজন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিন মাসে গণপিটুনীর ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে ৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫ জন, চট্টগ্রাম, খুলনা এবং সিলেট বিভাগে একজন করে নিহত হয়েছেন।

বছরের প্রথম তিন মাসে ধর্ষণের শিকার ১১৪ নারী

প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১১৪ নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে তিন জনকে। ধর্ষণের পর একজন নারী আত্মহত্যা করেছেন। ৩১ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৩৭ জন নারী। এর মধ্যে ৬৫ জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৪৯ জন। এছাড়া ২৩ জনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৬ জন। যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে পাঁচ জনকে এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন দুই জন নারী। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আট জন। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাত জন গৃহকর্মী। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৫ জন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৭৯ জন নারী-পুরুষ। তাদের মধ্যে ৫৫ জন নারী ও ২৪ জন পুরুষ হামলার শিকার হয়েছেন। বখাটেদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন ৪৫ জন। বখাটেদের উৎপাতকে কেন্দ্র করে সংঘাতে ২৬ জন আহত হয়েছেন।

আসকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিন মাসে ৩২৫ শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। এরমধ্যে হত্যা করা হয়েছে ১৩৯ জনকে শিশুকে। আত্মহত্যা করেছে ২৭ শিশু। বিভিন্ন সময়ে ৩২ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বলাৎকারের শিকার হয়েছে ১৪ ছেলে শিশু এবং বলাৎকারের চেষ্টা করা হয়েছে একজনকে। একজন ছেলে শিশুকে বলাৎকারের পর হত্যা করা হয়েছে।

আসক বলছে, সীমান্তে হত্যা, হেফাজতে মৃত্যু, সাংবাদিক নিপীড়নসহ মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে আইনের শাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

অন্যথায়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়তে থাকে। রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের সব ধরনের মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার দ্রুততার সঙ্গে নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে আসক।

আসক বলছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, সিটি করপোরেশন নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন জায়গায় ২৬৮টি রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২ হাজার ৩৬৮ জন।

দেশের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক ও নির্যাতন করে কারাগারে পাঠানোর পর ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২ জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বিগত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে কারা হেফাজতে মারা গেছেন ৩৫ জন। এর মধ্যে কয়েদি ১৪ জন এবং হাজতি ২১ জন। গত তিন মাসে ২০টি ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৩টি বাড়িসহ ২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া ১৫টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

গত তিন মাসে বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি, মামলা ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন ৮১ জন সাংবাদিক। সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে ছয় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও চার জন। অপর দিকে মিয়ানমার সীমান্তে মর্টার শেলের আঘাতে একজন বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশে আশ্রিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একজন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিন মাসে গণপিটুনীর ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে ৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫ জন, চট্টগ্রাম, খুলনা এবং সিলেট বিভাগে একজন করে নিহত হয়েছেন।