মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঢাকা বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ২২ কি:মি: যানজট, যাত্রী ভোগান্তি

ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নেমেছে ঢাকা বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে। কালিহাতী উপজেলা এলেঙ্গা টাঙ্গাইল শহর বাইপাস হয়ে কালিহাতী উপজেলা এলেঙ্গা থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়কে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রী সাধারণের।

মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর দেড় টা পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। বেলা যত বাড়ছে ততই যানজট ও গাড়ির দীর্ঘ সারি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ঢাকামুখী যানবাহনগুলো যাত্রী শূন্য।

সরেজমিনে আঞ্চলিক মহাসড়কের পালিমা, সয়া, নারান্দিয়া, সিংগুরিয়া, ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড, গোবিন্দাসী স্কুল ও টি-রোড, মাটিকাটা, সিরাজকান্দি ও পাথাইকান্দি-যমুনা সেতু বাজার এলাকায় থেমে থেমে যানজট ও ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এ নিয়ে যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে বেগ পোহাতে হচ্ছে চালকদের।

পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে সেতুর ওপর বাস বিকল হয়ে যাওয়ার পর সেটি উদ্ধারে ৫ মিনিট টোল আদায় বন্ধ ছিল। পরে বিকল গাড়ি তাৎক্ষণিক অপসারণ করা হলেও অতিরিক্ত গাড়ির চাপ সামলাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী হানিফ পরিবহণের চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতু পাড় হয়ে সেতু পূর্ব গোল চত্বরে এসে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে যানজটে পড়েছি। এই আঞ্চলিক মহাসড়কে একমুখী হলেও স্থানীয় যানবাহন চলাচলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

নাটোর থেকে ছেড়ে আসা শ্যামলী পরিবহণের চালক মিজানুর রহমান বলেন, ভূঞাপুর-আঞ্চলিক সড়কেও অনেক যানজট। সেতু পূর্ব থেকে গোবিন্দাসী আসতে ১ ঘণ্টার মতো সময় লাগছে। এ সড়কেও পথে পথে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে এই আঞ্চলিক মহাসড়কে এলাকা ভিত্তিক পরিবহনগুলো চলাচলে চরম ভোগান্তি শিকার হচ্ছেন। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় লোকজন। এই যানজট রোধে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। টোলপ্লাজা এলাকা থেকে খুব ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার ৬টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতুতে ৪৩ হাজার ৪২৭ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৬ হাজার ৮৫০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব অংশে ২৭ হাজার ২৩২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৭১ লাখ ৪ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সিরাজগঞ্জের সেতুর পশ্চিম অংশে ১৬ হাজার ১৯৫ টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৯০০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, যানজট নিরসনে সেতুর উভয় অংশে ৯টি করে ১৮টি টোল বুথ স্থাপনসহ মোটরসাইকেলের জন্য চারটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। যানবাহনের চাপ বেড়েছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ওসি মীর সাজেদুর রহমান জানান, মহাসড়কে পরিবহণের খুব চাপ রয়েছে। এতে পরিবহণগুলো খুবই ধীরগতিতে চলাচল করছে। এছাড়া সেতুর উপর একটি বাস নষ্ট হওয়ায় পাঁচ মিনিট বন্ধ ছিল যান চলাচল। পরিবহণগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলার কারণেও অন্য পরিবহণের গতি কমেছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি।

এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মীর সাজেদুর রহমান জানান, মহাসড়কে পরিবহণের খুব চাপ রয়েছে। এতে পরিবহণগুলো খুবই ধীরগতিতে চলাচল করছে। এ ছাড়া সেতুর ওপর একটি বাস নষ্ট হওয়ায় ৫ মিনিট বন্ধ ছিল যানবাহন চলাচল। পরিবহণগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলার কারণেও ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ২২ কি:মি: যানজট, যাত্রী ভোগান্তি

প্রকাশের সময় : ০৬:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল ২০২৪

ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নেমেছে ঢাকা বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে। কালিহাতী উপজেলা এলেঙ্গা টাঙ্গাইল শহর বাইপাস হয়ে কালিহাতী উপজেলা এলেঙ্গা থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়কে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রী সাধারণের।

মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর দেড় টা পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। বেলা যত বাড়ছে ততই যানজট ও গাড়ির দীর্ঘ সারি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ঢাকামুখী যানবাহনগুলো যাত্রী শূন্য।

সরেজমিনে আঞ্চলিক মহাসড়কের পালিমা, সয়া, নারান্দিয়া, সিংগুরিয়া, ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড, গোবিন্দাসী স্কুল ও টি-রোড, মাটিকাটা, সিরাজকান্দি ও পাথাইকান্দি-যমুনা সেতু বাজার এলাকায় থেমে থেমে যানজট ও ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এ নিয়ে যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে বেগ পোহাতে হচ্ছে চালকদের।

পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে সেতুর ওপর বাস বিকল হয়ে যাওয়ার পর সেটি উদ্ধারে ৫ মিনিট টোল আদায় বন্ধ ছিল। পরে বিকল গাড়ি তাৎক্ষণিক অপসারণ করা হলেও অতিরিক্ত গাড়ির চাপ সামলাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী হানিফ পরিবহণের চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতু পাড় হয়ে সেতু পূর্ব গোল চত্বরে এসে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে যানজটে পড়েছি। এই আঞ্চলিক মহাসড়কে একমুখী হলেও স্থানীয় যানবাহন চলাচলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

নাটোর থেকে ছেড়ে আসা শ্যামলী পরিবহণের চালক মিজানুর রহমান বলেন, ভূঞাপুর-আঞ্চলিক সড়কেও অনেক যানজট। সেতু পূর্ব থেকে গোবিন্দাসী আসতে ১ ঘণ্টার মতো সময় লাগছে। এ সড়কেও পথে পথে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে এই আঞ্চলিক মহাসড়কে এলাকা ভিত্তিক পরিবহনগুলো চলাচলে চরম ভোগান্তি শিকার হচ্ছেন। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় লোকজন। এই যানজট রোধে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। টোলপ্লাজা এলাকা থেকে খুব ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার ৬টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতুতে ৪৩ হাজার ৪২৭ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৬ হাজার ৮৫০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব অংশে ২৭ হাজার ২৩২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৭১ লাখ ৪ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সিরাজগঞ্জের সেতুর পশ্চিম অংশে ১৬ হাজার ১৯৫ টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৯০০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, যানজট নিরসনে সেতুর উভয় অংশে ৯টি করে ১৮টি টোল বুথ স্থাপনসহ মোটরসাইকেলের জন্য চারটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। যানবাহনের চাপ বেড়েছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ওসি মীর সাজেদুর রহমান জানান, মহাসড়কে পরিবহণের খুব চাপ রয়েছে। এতে পরিবহণগুলো খুবই ধীরগতিতে চলাচল করছে। এছাড়া সেতুর উপর একটি বাস নষ্ট হওয়ায় পাঁচ মিনিট বন্ধ ছিল যান চলাচল। পরিবহণগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলার কারণেও অন্য পরিবহণের গতি কমেছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি।

এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মীর সাজেদুর রহমান জানান, মহাসড়কে পরিবহণের খুব চাপ রয়েছে। এতে পরিবহণগুলো খুবই ধীরগতিতে চলাচল করছে। এ ছাড়া সেতুর ওপর একটি বাস নষ্ট হওয়ায় ৫ মিনিট বন্ধ ছিল যানবাহন চলাচল। পরিবহণগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলার কারণেও ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে।