মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

টানা ২২ দিন আটকে রেখে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর টানা ২২ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নাজমুল হাসান (২৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় রবিবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে নামজুল হাসানকে প্রধান অভিযুক্ত করে সহযোগি হিসেবে আরও তিন জনের নাম উল্লেখ করে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

প্রধান অভিযুক্ত নাজমুল হাসান উপজেলার রহমতখার বাইদ গ্রামের দুলাল মন্ডলের ছেলে। সহযোগিরা হলেন- একই গ্রামের মৃত সরাফত আলীর ছেলে ঝুমুর আলী (৪৫), জবেদ আলী মন্ডলের ছেলে দুলাল মন্ডল (৬০) ও দুলাল মন্ডলের স্ত্রী নাজমা বেগম (৫০)।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চাম্বলতলা গ্রামের চৌরাসা মিনহাজ তালুকদার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া-আসার পথে বিভিন্ন সময় নাজমুল তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। পরে চলতি বছরের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় ওই শিক্ষার্থী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হলে নাজমুল ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে।

এরপর পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার উপর একাধিকবার শারিরীক সম্পর্ক করে। এদিকে, মেয়েকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুজির পর জানতে পারে তাকে নাজমুল অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এরমধ্যে ওই শিক্ষার্থীকে নাজমুল বিয়ে করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

অভিযুক্ত সহযোগীদের সহায়তায় নাজমুলের বাড়িতে তাকে আটকে রাখে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেলামেশা চালাতে থাকে। পরে পরিবারের লোকজন একত্রিত হয়ে গত ১২ এপ্রিল ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এ সময় ওই শিক্ষার্থী জানায়- তার উপর ধারাবাহিকভাবে শারীরিক মেলামেশা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ১৪ এপ্রিল ঘাটাইল থানায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা করতে গেলে পুলিশ তা আমলে নেয়নি। অনুনয়-বিনয় করার পরও পুলিশ তাদের অভিযোগ নেয়নি। পরে ধর্ষণের বিচার পেতে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

এ ঘটনায় মামলার বাদী ওই স্কুলছাত্রীর মা জানান, থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ কোন কথা না শুনে তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি অনুনয়-বিনয় করে অভিযোগ নিতে বললেও তা রাখা হয়নি। তিনি এমন ঘটনায় উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।

মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী আরফান আলী মোল্লা জানান, এক স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। বাদী যাতে ন্যায় বিচার পান সে বিষয়ে তিনি লক্ষ রাখবেন।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বলেন, ভুক্তভোগী ওই পরিবারের কারও সাথে আমার কথা হয়নি। তবে আমি খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন- এসপি 

টানা ২২ দিন আটকে রেখে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

প্রকাশের সময় : ১১:৩৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর টানা ২২ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নাজমুল হাসান (২৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় রবিবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে নামজুল হাসানকে প্রধান অভিযুক্ত করে সহযোগি হিসেবে আরও তিন জনের নাম উল্লেখ করে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

প্রধান অভিযুক্ত নাজমুল হাসান উপজেলার রহমতখার বাইদ গ্রামের দুলাল মন্ডলের ছেলে। সহযোগিরা হলেন- একই গ্রামের মৃত সরাফত আলীর ছেলে ঝুমুর আলী (৪৫), জবেদ আলী মন্ডলের ছেলে দুলাল মন্ডল (৬০) ও দুলাল মন্ডলের স্ত্রী নাজমা বেগম (৫০)।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চাম্বলতলা গ্রামের চৌরাসা মিনহাজ তালুকদার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া-আসার পথে বিভিন্ন সময় নাজমুল তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। পরে চলতি বছরের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় ওই শিক্ষার্থী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হলে নাজমুল ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে।

এরপর পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার উপর একাধিকবার শারিরীক সম্পর্ক করে। এদিকে, মেয়েকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুজির পর জানতে পারে তাকে নাজমুল অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এরমধ্যে ওই শিক্ষার্থীকে নাজমুল বিয়ে করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

অভিযুক্ত সহযোগীদের সহায়তায় নাজমুলের বাড়িতে তাকে আটকে রাখে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেলামেশা চালাতে থাকে। পরে পরিবারের লোকজন একত্রিত হয়ে গত ১২ এপ্রিল ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এ সময় ওই শিক্ষার্থী জানায়- তার উপর ধারাবাহিকভাবে শারীরিক মেলামেশা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ১৪ এপ্রিল ঘাটাইল থানায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা করতে গেলে পুলিশ তা আমলে নেয়নি। অনুনয়-বিনয় করার পরও পুলিশ তাদের অভিযোগ নেয়নি। পরে ধর্ষণের বিচার পেতে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

এ ঘটনায় মামলার বাদী ওই স্কুলছাত্রীর মা জানান, থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ কোন কথা না শুনে তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি অনুনয়-বিনয় করে অভিযোগ নিতে বললেও তা রাখা হয়নি। তিনি এমন ঘটনায় উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।

মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী আরফান আলী মোল্লা জানান, এক স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। বাদী যাতে ন্যায় বিচার পান সে বিষয়ে তিনি লক্ষ রাখবেন।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বলেন, ভুক্তভোগী ওই পরিবারের কারও সাথে আমার কথা হয়নি। তবে আমি খোঁজ-খবর নিচ্ছি।