মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র গরমে নষ্ট হচ্ছে টমেটো

টমেটো

অব্যাহত তীব্র তাপপ্রবাহ আর প্রখর রোদের কারণে এবার চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রীষ্মকালীন টমেটোচাষী ও ব্যবসায়ীরা। টমেটো আবাদ করে লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না তারা। আর কম দামে টমেটো কিনেও তীব্র গরমে বেশিরভাগ টমেটো পচে যাওয়ায় কেনা দামেও টমেটো বিক্রি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
প্রতিবছরেই আবাদ করে বেশ লাভবান হওয়ায় ঠাকুরগাঁওসহ এই অঞ্চলে দিনে দিনে বাড়ছে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ। গত বছরও বেশ লাভ পাওয়ায় এবারও টমেটো চাষে বেশ লাভের স্বপ্ন দেখছিল তারা। কিন্তু এ যাবতকালের দীর্ঘস্থায়ী অব্যাহত তাপপ্রবাহ টমেটোচাষিদের সেই লাভের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হরিয়রপুর গ্রামের টমেটোচাষি আব্দুল মালেক। গত বছর এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ৬৫ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন। কিন্তু এবার তার উলটো অবস্থা। আব্দুল মালেক জানান, এবার এক বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করতে গিয়ে তার খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। টমেটো পেয়েছেন ১৫০ মন। গত কয়েক দিনে এই টমেটো বাজারে বিক্রি করেছেন প্রতিমন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে। এতে তিনি টমেটো বিক্রি করেছেন ৫৫ হাজার টাকা। লাভ তো দূরের কথা এক বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করে তার ক্ষতি ১৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, অব্যাহত তীব্র গরম ও প্রখর রোদের কারণে এবার অনেক টমেটো নষ্ট হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও আড়ৎতে প্রধান টমেটোর বাজার। আড়ৎতে টমেটো বিক্রি করতে এসে টমেটোচাষি জিকরুল হক জানান, গত বছর এই সময়ে যে টমেটো বিক্রি করেছি ৯০০ টাকা মন দরে। সেই টমেটো এবার বিক্রি করতে হচ্ছে ৩৫০ টাকা মন দরে। টমেটো বিক্রি করে হতাশ হয়ে তিনি বলেন, এই ক্ষতি পোষাব কী করে?
আউলিয়াপুর থেকে আসা টমেটো ব্যবসায়ী শফিউদ্দীন জানান, এই বাজারে প্রতিদিন টমেটোর চাহিদা ১৫০ ট্রাক (২১০০ টন)। কিন্তু বাজারে উঠেছে ৩০০ ট্রাক অর্থাৎ ৪২০০ টনেরও বেশি। ক্রেতা কম থাকায় দাম কমে এসেছে। তিনি বলেন, তীব্র গরমের কারণে কেনা টমেটো পচে যাচ্ছে। কেনার পরও অনেক টমেটো পচে যাওয়ায় ফেলে দিতে হচ্ছে। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
বৃহস্পতিবার শিবগঞ্জের হাটের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে-সেখানে পচা টমেটো ফেলে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আবার কোনো কোনো কৃষক টমেটো বিক্রি করতে না পেরে বাজারের পাশে ফেলে দিয়ে গেছেন। হাটের চারদিকে পচা টমেটোর স্তূপ জমে গেছে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন বিরূপ এই আবহাওয়ায় টমেটোচাষিদের ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, প্রকৃতির ওপর তো কারও হাত নেই। আর ঈদের পর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এবং গরমের কারণে টমেটোচাষিরা দাম কিছুটা কম পাচ্ছে। তবে বিরূপ এই আবহাওয়া কেটে গেলে চাষিরা ভালো দাম পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র গরমে নষ্ট হচ্ছে টমেটো

প্রকাশের সময় : ০৪:১৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মে ২০২৪
অব্যাহত তীব্র তাপপ্রবাহ আর প্রখর রোদের কারণে এবার চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রীষ্মকালীন টমেটোচাষী ও ব্যবসায়ীরা। টমেটো আবাদ করে লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না তারা। আর কম দামে টমেটো কিনেও তীব্র গরমে বেশিরভাগ টমেটো পচে যাওয়ায় কেনা দামেও টমেটো বিক্রি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
প্রতিবছরেই আবাদ করে বেশ লাভবান হওয়ায় ঠাকুরগাঁওসহ এই অঞ্চলে দিনে দিনে বাড়ছে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ। গত বছরও বেশ লাভ পাওয়ায় এবারও টমেটো চাষে বেশ লাভের স্বপ্ন দেখছিল তারা। কিন্তু এ যাবতকালের দীর্ঘস্থায়ী অব্যাহত তাপপ্রবাহ টমেটোচাষিদের সেই লাভের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হরিয়রপুর গ্রামের টমেটোচাষি আব্দুল মালেক। গত বছর এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ৬৫ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন। কিন্তু এবার তার উলটো অবস্থা। আব্দুল মালেক জানান, এবার এক বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করতে গিয়ে তার খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। টমেটো পেয়েছেন ১৫০ মন। গত কয়েক দিনে এই টমেটো বাজারে বিক্রি করেছেন প্রতিমন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে। এতে তিনি টমেটো বিক্রি করেছেন ৫৫ হাজার টাকা। লাভ তো দূরের কথা এক বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করে তার ক্ষতি ১৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, অব্যাহত তীব্র গরম ও প্রখর রোদের কারণে এবার অনেক টমেটো নষ্ট হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও আড়ৎতে প্রধান টমেটোর বাজার। আড়ৎতে টমেটো বিক্রি করতে এসে টমেটোচাষি জিকরুল হক জানান, গত বছর এই সময়ে যে টমেটো বিক্রি করেছি ৯০০ টাকা মন দরে। সেই টমেটো এবার বিক্রি করতে হচ্ছে ৩৫০ টাকা মন দরে। টমেটো বিক্রি করে হতাশ হয়ে তিনি বলেন, এই ক্ষতি পোষাব কী করে?
আউলিয়াপুর থেকে আসা টমেটো ব্যবসায়ী শফিউদ্দীন জানান, এই বাজারে প্রতিদিন টমেটোর চাহিদা ১৫০ ট্রাক (২১০০ টন)। কিন্তু বাজারে উঠেছে ৩০০ ট্রাক অর্থাৎ ৪২০০ টনেরও বেশি। ক্রেতা কম থাকায় দাম কমে এসেছে। তিনি বলেন, তীব্র গরমের কারণে কেনা টমেটো পচে যাচ্ছে। কেনার পরও অনেক টমেটো পচে যাওয়ায় ফেলে দিতে হচ্ছে। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
বৃহস্পতিবার শিবগঞ্জের হাটের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে-সেখানে পচা টমেটো ফেলে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আবার কোনো কোনো কৃষক টমেটো বিক্রি করতে না পেরে বাজারের পাশে ফেলে দিয়ে গেছেন। হাটের চারদিকে পচা টমেটোর স্তূপ জমে গেছে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন বিরূপ এই আবহাওয়ায় টমেটোচাষিদের ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, প্রকৃতির ওপর তো কারও হাত নেই। আর ঈদের পর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এবং গরমের কারণে টমেটোচাষিরা দাম কিছুটা কম পাচ্ছে। তবে বিরূপ এই আবহাওয়া কেটে গেলে চাষিরা ভালো দাম পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।