মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এসএসসিতে যশোর বোর্ডের দেশসেরা সাফল্য 

  • যশোর অফিস 
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪
  • ১৭

ছবি: সংগৃহীত

এ বছর এসএসসিতে দেশসেরা সাফল্য করেছে যশোর বোর্ড। এ বোর্ডের গড় পাশের হার ৯২.৩২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৭৬১জন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি তাদের ও শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে এ সাফল্য এসেছে। শিক্ষক ও বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বোর্ডের নিবিড় তত্ত্ববোধন, প্রশ্ন ব্যাংক প্রথার মাধ্যমে অভিন্ন প্রশ্নে প্রাক নির্বাচনী ও নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়ায় দেশসেরা সাফল্য ধরা দিয়েছে।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছর খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫৬৬টি স্কুল থেকে ১ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৭ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ছেলে ৭৯ হাজার ৪৫৭ ও মেয়ে ৮১ হাজার ৪৬৯জন। যার মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী ৪১ হাজার ৫৬৭ জন, মানবিক বিভাগের ১ লাখ ১ হাজার ৪৯১ জন ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী ১৭ হাজার ৯৬৮ জন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে পাশ করেছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৭৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৭৬১জন। আশানুরুপ ফলাফল পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

তুলনা সরকার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি ১১৫০ এর ভিতরে ১১২২ নম্বর পেয়েছি। এই ফলাফলে আমি এবং আমার অভিভাবক সন্তুষ্ট। সামনেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই। কেবলমাত্র আমার পরিশ্রমের কারণেই এই ফলাফল আসেনি। অভিভাবক শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও তাদের তত্ত্বাবধায়নের কারণেই ভালো ফলাফল করতে পেরেছি।

জয়িতা ইসলাম নামে অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, দুই বছরের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। আমি গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছি। অভিভাবক ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় ভালো ফলাফল করতে পেরে খুশি।

যশোর কালেক্টরেট স্কুলের শিক্ষার্থী মেহরাব আহমেদ সাদ বলেন, জিপিএফ ফাইভ প্রার্থীর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পরীক্ষায় বসেছিলাম। সৃষ্টিকর্তার রহমতে সেই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। এই সাফল্যের পিছনে আমার পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভূমিকা রয়েছে। সারা বছর তারা আমাদের দেখভাল করেছেন। বিশ্বাস করে করনাকালীন সময় অনলাইন ক্লাস নিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে রেখেছেন। যার ফলশ্রুতিতে এই সাফল্য পেয়েছি।

অভিভাবকরা জানিয়েছেন, সারা বছর সন্তানদের বিশেষ নজরে রেখেছেন। স্কুলের পাশাপাশি প্রাইভেট শিক্ষক দিয়েও লেখাপড়া করিয়েছেন। যার ফলাফল তারা পেয়েছেন। সন্তানদের এমন ফলাফলে তারা বেশ খুশি।

যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আমার বিদ্যালয়ের ২৫৪ জনের মধ্যে ২৫৩ জন পরীক্ষায় পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৮০ জন। বিদ্যালয়ের এমন ফলাফলে আমরা বেশ খুশি। পাশাপাশি যশোর বোর্ড দেশের সাফল্য অর্জন করায় নিজেদেরকে গর্বিত মনে করছি। বিদ্যালয় গুলোর প্রতি বোর্ডের বিশেষ নজরদারির কারণেই ফলাফল ভালো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যশোর কালেক্টর স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মোদাচ্ছের হোসেন বলেন, আমাদের ৯৬জন শিক্ষার্থীই পাস করেছে। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫৩ জন।

তিনি বলেন, বোর্ড কর্তৃপক্ষ সারা বছর স্কুলগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছে। প্রশ্ন ব্যাংকের মাধ্যমে অভিন্ন ও নিত্য নতুন প্রশ্নে প্রাক নির্বাচনীয ও নির্বাচনী পরীক্ষা গ্রহণ করায় নিজেদেরকে ভালোভাবে গড়ে তুলতে পেরেছে। এর ফলেই এবছর দেশ সেরা সাফল্য অর্জন করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড।

এদিকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. বিশ্বাস শাহিন আহমেদ বলেন, এবছর এসএসসিতে শিক্ষার্থীরা যে ফলাফল করেছে তা অভাবনীয়। আমরা মনে করছি তিনটি বিশেষ উদ্যোগের কারণে এই ফলাফল এসেছে। এরমধ্যে রয়েছে প্রশ্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার প্রক্রিয়া, শিক্ষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ওয়ার্কশপ করানো। আগামীতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

যশোর বোর্ডের অধীন খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার সর্বোচ্চ ফলাফল করেছে। এ জেলার গড় পাশের হার ৯৬.১২ শতাংশ। এছাড়া এ বছর যশোর বোর্ডে শুন্য পাশের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই।

এসএসসিতে যশোর বোর্ডের দেশসেরা সাফল্য 

প্রকাশের সময় : ০৯:০৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪

এ বছর এসএসসিতে দেশসেরা সাফল্য করেছে যশোর বোর্ড। এ বোর্ডের গড় পাশের হার ৯২.৩২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৭৬১জন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি তাদের ও শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে এ সাফল্য এসেছে। শিক্ষক ও বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বোর্ডের নিবিড় তত্ত্ববোধন, প্রশ্ন ব্যাংক প্রথার মাধ্যমে অভিন্ন প্রশ্নে প্রাক নির্বাচনী ও নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়ায় দেশসেরা সাফল্য ধরা দিয়েছে।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছর খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫৬৬টি স্কুল থেকে ১ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৭ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ছেলে ৭৯ হাজার ৪৫৭ ও মেয়ে ৮১ হাজার ৪৬৯জন। যার মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী ৪১ হাজার ৫৬৭ জন, মানবিক বিভাগের ১ লাখ ১ হাজার ৪৯১ জন ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী ১৭ হাজার ৯৬৮ জন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে পাশ করেছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৭৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৭৬১জন। আশানুরুপ ফলাফল পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

তুলনা সরকার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি ১১৫০ এর ভিতরে ১১২২ নম্বর পেয়েছি। এই ফলাফলে আমি এবং আমার অভিভাবক সন্তুষ্ট। সামনেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই। কেবলমাত্র আমার পরিশ্রমের কারণেই এই ফলাফল আসেনি। অভিভাবক শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও তাদের তত্ত্বাবধায়নের কারণেই ভালো ফলাফল করতে পেরেছি।

জয়িতা ইসলাম নামে অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, দুই বছরের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। আমি গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছি। অভিভাবক ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় ভালো ফলাফল করতে পেরে খুশি।

যশোর কালেক্টরেট স্কুলের শিক্ষার্থী মেহরাব আহমেদ সাদ বলেন, জিপিএফ ফাইভ প্রার্থীর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পরীক্ষায় বসেছিলাম। সৃষ্টিকর্তার রহমতে সেই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। এই সাফল্যের পিছনে আমার পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভূমিকা রয়েছে। সারা বছর তারা আমাদের দেখভাল করেছেন। বিশ্বাস করে করনাকালীন সময় অনলাইন ক্লাস নিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে রেখেছেন। যার ফলশ্রুতিতে এই সাফল্য পেয়েছি।

অভিভাবকরা জানিয়েছেন, সারা বছর সন্তানদের বিশেষ নজরে রেখেছেন। স্কুলের পাশাপাশি প্রাইভেট শিক্ষক দিয়েও লেখাপড়া করিয়েছেন। যার ফলাফল তারা পেয়েছেন। সন্তানদের এমন ফলাফলে তারা বেশ খুশি।

যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আমার বিদ্যালয়ের ২৫৪ জনের মধ্যে ২৫৩ জন পরীক্ষায় পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৮০ জন। বিদ্যালয়ের এমন ফলাফলে আমরা বেশ খুশি। পাশাপাশি যশোর বোর্ড দেশের সাফল্য অর্জন করায় নিজেদেরকে গর্বিত মনে করছি। বিদ্যালয় গুলোর প্রতি বোর্ডের বিশেষ নজরদারির কারণেই ফলাফল ভালো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যশোর কালেক্টর স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মোদাচ্ছের হোসেন বলেন, আমাদের ৯৬জন শিক্ষার্থীই পাস করেছে। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫৩ জন।

তিনি বলেন, বোর্ড কর্তৃপক্ষ সারা বছর স্কুলগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছে। প্রশ্ন ব্যাংকের মাধ্যমে অভিন্ন ও নিত্য নতুন প্রশ্নে প্রাক নির্বাচনীয ও নির্বাচনী পরীক্ষা গ্রহণ করায় নিজেদেরকে ভালোভাবে গড়ে তুলতে পেরেছে। এর ফলেই এবছর দেশ সেরা সাফল্য অর্জন করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড।

এদিকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. বিশ্বাস শাহিন আহমেদ বলেন, এবছর এসএসসিতে শিক্ষার্থীরা যে ফলাফল করেছে তা অভাবনীয়। আমরা মনে করছি তিনটি বিশেষ উদ্যোগের কারণে এই ফলাফল এসেছে। এরমধ্যে রয়েছে প্রশ্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার প্রক্রিয়া, শিক্ষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ওয়ার্কশপ করানো। আগামীতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

যশোর বোর্ডের অধীন খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার সর্বোচ্চ ফলাফল করেছে। এ জেলার গড় পাশের হার ৯৬.১২ শতাংশ। এছাড়া এ বছর যশোর বোর্ডে শুন্য পাশের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই।