মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পটল চাষে যশোরের কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

শার্শা ইউনিয়নের বেড়ি (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের কৃষক রায়হান উদ্দিন পটল খেত পরিচর্যা করছেন।

যশোরের শার্শা উপজেলার কৃষকরা পটল চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে পটল চাষ বিষয়ক পরামর্শ এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই নিজের জমিতে পটল চাষ করে অভাবের সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন।

সরেজমিনে মাঠে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শার্শা ইউনিয়নের বেড়ি গ্রামের কৃষকরা কেউ পটল তোলায় আবার কেউ খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

পটলচাষিরা জানান, জমি তৈরি থেকে শুরু করে, বীজ, সার, মাচা তৈরিসহ সব মিলিয়ে পটলের আবাদে শ্রেণিভেদে বিঘাপ্রতি খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। উৎপাদিত পটল বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে সপ্তাহে আয় হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে একজন কৃষক পটল চাষ করে প্রতি বিঘা জমি থেকে মাসে আয় করছেন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। সারা বছর চাহিদা থাকায় এবং অন্য ফসলের তুলনায় অধিক লাভ হওয়ায় পটল চাষের দিকে ঝুঁকছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।

বেড়ি (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের কৃষক রায়হান উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সবজি চাষ করে লোকসানের পর বোম্বাই জাতের পটল চাষ করে তিনি সাফল্য পেয়েছেন। একসময় তার সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকত। কিন্তু বর্তমানে পটল চাষ করে তার সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। এক বিঘা জমিতে পটল চাষ করে তার ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকা আয় করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও ১ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার পটল বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

শিবচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক আশানুর রহমান জানান, এবার তিনি দেড় বিঘা জমিতে পটল চাষ করেছেন। চার মাসের পরিচর্যায় গাছে ফল আসতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ টাকার পটল বিক্রি করেছেন। আরও দুই মাস পটল বিক্রি করতে পারবেন। প্রতি সপ্তাহে জমি থেকে ১৫ থেকে ২০ মণ পটল তুলেন। আড়তে পাইকারি দরে প্রতি কেজি পটল ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি করেন। পটলের ন্যায্যমূল্য পেলে এ অঞ্চলে পটল চাষের পরিধি বাড়বে বলে জানান তিনি।

নারায়ণপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ কাঠা জমিতে পটলের চাষ শুরু করি। চলতি মৌসুমেও নিজের ১৫ কাঠা জমির সঙ্গে আরও ১৫ কাঠা জমি বর্গা নিয়ে বর্তমানে ১ বিঘা জমিতে পটলের চাষ করছি।’

উপজেলার নাভারণ কাঁচামালের আড়তদার নজীর মিয়া জানান, শার্শায় এবার পটলের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় খুশি উপজেলার কৃষকরা। শার্শার পটল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি বছর শার্শায় ৩৪৫ হেক্টর জমিতে পটল চাষ হয়েছে। উপজেলায় প্রায় ৩০০ কৃষক পটল চাষের সঙ্গে জড়িত। চলতি মৌসুমে উপজেলায় বেশ কয়েকজন কৃষক পটলের চাষ করে বেশ সাফল্য পেয়েছেন। আগামীতে শার্শায় পটলের চাষ আরও বাড়বে। পটল চাষের উপর কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সার, ফেরোমন ফাঁদ ও আর্থিক সহায়তাসহ কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পটল চাষে যশোরের কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

প্রকাশের সময় : ১০:৪৭:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪

যশোরের শার্শা উপজেলার কৃষকরা পটল চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে পটল চাষ বিষয়ক পরামর্শ এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই নিজের জমিতে পটল চাষ করে অভাবের সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন।

সরেজমিনে মাঠে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শার্শা ইউনিয়নের বেড়ি গ্রামের কৃষকরা কেউ পটল তোলায় আবার কেউ খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

পটলচাষিরা জানান, জমি তৈরি থেকে শুরু করে, বীজ, সার, মাচা তৈরিসহ সব মিলিয়ে পটলের আবাদে শ্রেণিভেদে বিঘাপ্রতি খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। উৎপাদিত পটল বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে সপ্তাহে আয় হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে একজন কৃষক পটল চাষ করে প্রতি বিঘা জমি থেকে মাসে আয় করছেন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। সারা বছর চাহিদা থাকায় এবং অন্য ফসলের তুলনায় অধিক লাভ হওয়ায় পটল চাষের দিকে ঝুঁকছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।

বেড়ি (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের কৃষক রায়হান উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সবজি চাষ করে লোকসানের পর বোম্বাই জাতের পটল চাষ করে তিনি সাফল্য পেয়েছেন। একসময় তার সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকত। কিন্তু বর্তমানে পটল চাষ করে তার সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। এক বিঘা জমিতে পটল চাষ করে তার ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকা আয় করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও ১ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার পটল বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

শিবচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক আশানুর রহমান জানান, এবার তিনি দেড় বিঘা জমিতে পটল চাষ করেছেন। চার মাসের পরিচর্যায় গাছে ফল আসতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ টাকার পটল বিক্রি করেছেন। আরও দুই মাস পটল বিক্রি করতে পারবেন। প্রতি সপ্তাহে জমি থেকে ১৫ থেকে ২০ মণ পটল তুলেন। আড়তে পাইকারি দরে প্রতি কেজি পটল ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি করেন। পটলের ন্যায্যমূল্য পেলে এ অঞ্চলে পটল চাষের পরিধি বাড়বে বলে জানান তিনি।

নারায়ণপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ কাঠা জমিতে পটলের চাষ শুরু করি। চলতি মৌসুমেও নিজের ১৫ কাঠা জমির সঙ্গে আরও ১৫ কাঠা জমি বর্গা নিয়ে বর্তমানে ১ বিঘা জমিতে পটলের চাষ করছি।’

উপজেলার নাভারণ কাঁচামালের আড়তদার নজীর মিয়া জানান, শার্শায় এবার পটলের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় খুশি উপজেলার কৃষকরা। শার্শার পটল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি বছর শার্শায় ৩৪৫ হেক্টর জমিতে পটল চাষ হয়েছে। উপজেলায় প্রায় ৩০০ কৃষক পটল চাষের সঙ্গে জড়িত। চলতি মৌসুমে উপজেলায় বেশ কয়েকজন কৃষক পটলের চাষ করে বেশ সাফল্য পেয়েছেন। আগামীতে শার্শায় পটলের চাষ আরও বাড়বে। পটল চাষের উপর কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সার, ফেরোমন ফাঁদ ও আর্থিক সহায়তাসহ কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।