সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বইয়ের যত্ন নিন খুব সহজেই

কথায় আছে বইয়ের মতো ভাল বন্ধু আর কেই বা আছে। কিন্তু যে কোনও বন্ধুর মতোই ইনিও কিন্তু আপনার একটু সময়, যত্ন-আত্তি দাবী করে। জেনে রাখুন বইয়ের খেয়াল রাখার উপায়। লিখছেন দেবলীনা অধিকারী।

দিনের সমস্ত চিন্তা-ভাবনা, কাজের ডেড লাইন, সোশ্যাল অ্যাংজ়াইটি, সমাজমাধ্যম থেকে কিছুক্ষণের জন্য ছুটি নিয়ে বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাওয়ার থেকে ভাল কিছু হতে পারে না। ২০০৯ সালের এক রিপোর্ট বলছে, ৩০ মিনিট পড়ার অভ্যেস ব্লাড প্রেসার ও হার্ট রেটকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়াও মানসিক চাপ কমাতে, স্মরণশক্তিকে বৃদ্ধি করতে, নতুন শব্দের সঙ্গে পরিচিত হতে বইয়ের কোনও বিকল্প হয় না। সামনেই পুজো। বাজারে চলে এসেছে পছন্দের পুজোবার্ষিকী। এত ক্ষণে হয়তো উলটে পালটে দেখাও শেষ। কিন্তু সমস্যা হল আমরা বই পড়া কথা নিয়ে যত কথা বলি, তার যত্ন নিয়ে বলি কি? অথচ সঠিক যত্নের অভাবে আমাদের সাধের বইদের আয়ু কমে যায়, তাই দরকার সঠিক যত্নের।

হার্ড কভারের ব্যবহার

সাধারণ কাগজের কভারের বদলে হার্ড কভারের বই ব্যবহার করুন। খুব জীর্ণ বা পুরনো বই হলে চেষ্টা করুন বই বাঁধিয়ে নিতে। তাহলে বইয়ের আয়ু বেড়ে যায়। এর ফলে ধুলো, ময়লাও বইয়ের ভিতরে সহজে প্রবেশ করতে পারে না।

পরিষ্কার হাতে বই ধরুন

অনেকেরই খেতে খেতে বই পড়ার অভ্যেস আছে। এই ধরনের অভ্যেস বইয়ের জন্য একেবারেই ভাল না। এর ফলে পাতায় দাগ লেগে গেলে তা কিন্তু কখনওই মুছবে না। এছাড়া এর ফলে বইয়ে পোকা মাকড়ের উপদ্রব বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই হাত পরিষ্কার করে তবেই বইয়ে পাতা ওলটান।

বুকমার্কের ব্যবহার

অনেকেরই বইয়ের পাতা ভাঁজ করে রাখার মতো বদভ্যেস রয়েছে। এতটা খারাপ অভ্যেস না থাকলেও বই পড়তে পড়তে কিছু ক্ষণের জন্য বিরতি নিলে অনেকেই সেটা উল্টো করে রেখে দেয় বা মাঝে পেনসিল, পেন রেখে বন্ধ করে দেয়। এতে বইয়ের বাঁধন নষ্ট হয়ে যায়, পাতা আলগা হয়ে যায়। তাই বই পড়া অভ্যেস হলে বুকমার্কের ব্যবহারকেও অভ্যেস বানিয়ে নিতে হবে।

আঠার ব্যবহারের বদল

বইয়ের পাতা ছিঁড়ে গেলে অনেকেই তা জোড়া লাগাতে আঠার ব্যবহার করে থাকেন। তা করবেন না। বই বাঁধাইয়ের কাজেও অনেকে আঠার ব্যবহার করে থাকেন। সেটাও ক্ষতিকারক। কারণ এমন অনেক পোকা আছে, যাদের খাদ্য এই আঠা। ফলে এর গন্ধ তাদের আকর্ষণ করে। তাই বই সারাইয়ের জন্য স্বচ্ছ টেপের ব্যবহার করুন।

বইয়ের তাকের যত্ন

কেবল বইয়ে যত্ন নিলেই তো হবে না। খেয়াল রাখতে হবে বইয়ের ঘরেরও। ঢাকা জায়গায় বই রাখার চেষ্টা করুন। বইয়ের তাক যদি খোলামেলা হয়, তা হলে প্রতি সপ্তাহে ধুলো ঝেড়ে নিন। বইয়ের তাকে কোনও পিঁপড়ে, মাকড়শার মতো পোকার উপদ্রব হচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখুন। আলমারি বা তাকে নিমপাতা বা কর্পুর রেখে দিন, তাহলে পোকামাকড়ের উপদ্রব এড়ানো যাবে। অনেকেই বইয়ের তাকে বিভিন্ন আকারের বই একসঙ্গে রাখেন। এতে তাক অগোছালো হয়ে যায়। তার বদলে সমান মাপের বই গুলো একসঙ্গে রাখুন। এতে বই যেমন ভাল থাকবে, বাইয়ের তাকও দৃষ্টিনন্দনও হবে

একলা নির্জন দিনের সবচেয়ে ভরসাযোগ্য বন্ধু সে। আবার বইয়ের সুসজ্জায় ঘরে আসে আভিজাত্যের ছোঁয়া। এহেন বন্ধুকে ভাল রাখতে তার এইটুকু খেয়াল তো রাখতেই হবে।

বইয়ের যত্ন নিন খুব সহজেই

প্রকাশের সময় : ১০:১৫:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪

কথায় আছে বইয়ের মতো ভাল বন্ধু আর কেই বা আছে। কিন্তু যে কোনও বন্ধুর মতোই ইনিও কিন্তু আপনার একটু সময়, যত্ন-আত্তি দাবী করে। জেনে রাখুন বইয়ের খেয়াল রাখার উপায়। লিখছেন দেবলীনা অধিকারী।

দিনের সমস্ত চিন্তা-ভাবনা, কাজের ডেড লাইন, সোশ্যাল অ্যাংজ়াইটি, সমাজমাধ্যম থেকে কিছুক্ষণের জন্য ছুটি নিয়ে বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাওয়ার থেকে ভাল কিছু হতে পারে না। ২০০৯ সালের এক রিপোর্ট বলছে, ৩০ মিনিট পড়ার অভ্যেস ব্লাড প্রেসার ও হার্ট রেটকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়াও মানসিক চাপ কমাতে, স্মরণশক্তিকে বৃদ্ধি করতে, নতুন শব্দের সঙ্গে পরিচিত হতে বইয়ের কোনও বিকল্প হয় না। সামনেই পুজো। বাজারে চলে এসেছে পছন্দের পুজোবার্ষিকী। এত ক্ষণে হয়তো উলটে পালটে দেখাও শেষ। কিন্তু সমস্যা হল আমরা বই পড়া কথা নিয়ে যত কথা বলি, তার যত্ন নিয়ে বলি কি? অথচ সঠিক যত্নের অভাবে আমাদের সাধের বইদের আয়ু কমে যায়, তাই দরকার সঠিক যত্নের।

হার্ড কভারের ব্যবহার

সাধারণ কাগজের কভারের বদলে হার্ড কভারের বই ব্যবহার করুন। খুব জীর্ণ বা পুরনো বই হলে চেষ্টা করুন বই বাঁধিয়ে নিতে। তাহলে বইয়ের আয়ু বেড়ে যায়। এর ফলে ধুলো, ময়লাও বইয়ের ভিতরে সহজে প্রবেশ করতে পারে না।

পরিষ্কার হাতে বই ধরুন

অনেকেরই খেতে খেতে বই পড়ার অভ্যেস আছে। এই ধরনের অভ্যেস বইয়ের জন্য একেবারেই ভাল না। এর ফলে পাতায় দাগ লেগে গেলে তা কিন্তু কখনওই মুছবে না। এছাড়া এর ফলে বইয়ে পোকা মাকড়ের উপদ্রব বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই হাত পরিষ্কার করে তবেই বইয়ে পাতা ওলটান।

বুকমার্কের ব্যবহার

অনেকেরই বইয়ের পাতা ভাঁজ করে রাখার মতো বদভ্যেস রয়েছে। এতটা খারাপ অভ্যেস না থাকলেও বই পড়তে পড়তে কিছু ক্ষণের জন্য বিরতি নিলে অনেকেই সেটা উল্টো করে রেখে দেয় বা মাঝে পেনসিল, পেন রেখে বন্ধ করে দেয়। এতে বইয়ের বাঁধন নষ্ট হয়ে যায়, পাতা আলগা হয়ে যায়। তাই বই পড়া অভ্যেস হলে বুকমার্কের ব্যবহারকেও অভ্যেস বানিয়ে নিতে হবে।

আঠার ব্যবহারের বদল

বইয়ের পাতা ছিঁড়ে গেলে অনেকেই তা জোড়া লাগাতে আঠার ব্যবহার করে থাকেন। তা করবেন না। বই বাঁধাইয়ের কাজেও অনেকে আঠার ব্যবহার করে থাকেন। সেটাও ক্ষতিকারক। কারণ এমন অনেক পোকা আছে, যাদের খাদ্য এই আঠা। ফলে এর গন্ধ তাদের আকর্ষণ করে। তাই বই সারাইয়ের জন্য স্বচ্ছ টেপের ব্যবহার করুন।

বইয়ের তাকের যত্ন

কেবল বইয়ে যত্ন নিলেই তো হবে না। খেয়াল রাখতে হবে বইয়ের ঘরেরও। ঢাকা জায়গায় বই রাখার চেষ্টা করুন। বইয়ের তাক যদি খোলামেলা হয়, তা হলে প্রতি সপ্তাহে ধুলো ঝেড়ে নিন। বইয়ের তাকে কোনও পিঁপড়ে, মাকড়শার মতো পোকার উপদ্রব হচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখুন। আলমারি বা তাকে নিমপাতা বা কর্পুর রেখে দিন, তাহলে পোকামাকড়ের উপদ্রব এড়ানো যাবে। অনেকেই বইয়ের তাকে বিভিন্ন আকারের বই একসঙ্গে রাখেন। এতে তাক অগোছালো হয়ে যায়। তার বদলে সমান মাপের বই গুলো একসঙ্গে রাখুন। এতে বই যেমন ভাল থাকবে, বাইয়ের তাকও দৃষ্টিনন্দনও হবে

একলা নির্জন দিনের সবচেয়ে ভরসাযোগ্য বন্ধু সে। আবার বইয়ের সুসজ্জায় ঘরে আসে আভিজাত্যের ছোঁয়া। এহেন বন্ধুকে ভাল রাখতে তার এইটুকু খেয়াল তো রাখতেই হবে।