মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে পুলিশ ও অটোচালকদের সংঘর্ষ,গাড়ি ভাঙচুর

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধের প্রতিবাদে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন চালকরা। এ সময় মিরপুর ১০ নম্বর সড়কে যানবাহন ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধরা। পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন শ্রমিকের ওপর লাঠিচার্জ করতে দেখা গেছে পুলিশকে। 

রবিবার (১৯ মে) সকাল থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন চালকরা। এতে মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। গন্তব্যে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। দুপুরে কালশী রোড অবরোধ করেন আন্দোলনরত চালকরা।

তাদের দাবি, ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে রাস্তায় এলে পুলিশ ধরপাকড় করছে। তাদের অনেকের গাড়ি আটকে রেখেছে পুলিশ। কোনো শর্ত ছাড়াই রাস্তায় তাদের অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালাতে দিতে হবে।

দাবি না মানা পর্যন্ত রাস্তায় অবস্থান করার ঘোষণা দেন চালকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমঝোতার চেষ্টা চালাতে দেখা যায় পুলিশকে।

দুপুর ২টা ১৮ মিনিটের দিকে স্থানীয় সংসদ সদস ইলিয়াছ মোল্লা ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি শ্রমিকদের সরিয়ে বেশ কিছু গাড়ি চলাচলের পথ করে দিলে অটোরিকশাচালকরা তাতে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। জলকামান নিয়ে পুলিশ ফের শ্রমিকদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেয়। এরপর থেকে যান চলাচল শুরু হয়।

এমপি ইলিয়াছ মোল্লা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ আমাদের মানতে হবে। পাশাপাশি মানবিক দিকটিও আমাদের দেখতে হবে। এ সময় তিনি অটোরিকশাচালকদের কাছে দুই দিনের সময় চান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) জসিম উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে অটোরিকশাচালকরা তাদের দাবি নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। একপর্যায়ে আমরা রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য তাদের ধাওয়া করে সরিয়ে দিয়েছি।

পুলিশের উপস্থিতিতে ৫ ঘণ্টা মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর দখল করে রেখেছে, পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করছে কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিসি বলেন, এখানে নিরব ভূমিকা নয়, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে আমরা তাদের অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করেছি। তারা তাদের কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে অবস্থান করল। আজকে আমরা ধৈর্য ধরে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে হাইকোর্টের নির্দেশনা আমাদের সবাইকে পালন করতে হবে। এ জন্য একটু সময় নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য এলেন উনিও বোঝালেন। বোঝানের পরও তারা ইটপাটকেল ছুড়ে মারে, যা আপনাদের সাংবাদিকদের গায়ে, পুলিশের গায়ে লেগেছে। তারপর সরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডিসি বলেন, এটা অটোরিকশাচালকদের আন্দোলন। এখানে কেউ ইন্ধন দিয়েছে কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। আর যারা ভাঙচুর করেছেন ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অবরোধের কারণে মিরপুর অচল

অটোরিকশাচালকরা সড়ক অবরোধ করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ। চালকরা লাঠি হাতে সড়কের বিভিন্ন অংশে অবস্থান নেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাস্তা ফাঁকা থাকলেও গাড়ি চালাতে সাহস করছেন না অনেকে। তবে ঝুঁকি নিয়ে যারা গন্তেব্য যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তাদের অনেকে হামলার শিকার হয়েছেন।  এ অবস্থায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গন্তব্যমুখী মানুষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, অটোরিকশাচালকদের বিক্ষোভের কারণে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষদের কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।

মেট্রোরেলের ২ স্টেশনের গেট বন্ধ

বিক্ষোভের কারণে মেট্রোরেল ও যাত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনের দুটি গেট বন্ধ করে রেখেছে পুলিশ। এমআরটি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রিকশাচালকরা হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। সকাল থেকে এ অবস্থার কারণে এমআরটি পুলিশও নিরাপত্তা জোরদার করেছে মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনে।

এমআরটি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, মেট্রোরেল ও যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনের উত্তরের দুটি গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। এ গেট দুটি বন্ধ থাকলেও অন্য গেট যথারীতি খোলা রয়েছে এবং যাত্রীরা পারাপার হতে পারছেন।

মিরপুরে পুলিশ ও অটোচালকদের সংঘর্ষ,গাড়ি ভাঙচুর

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধের প্রতিবাদে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন চালকরা। এ সময় মিরপুর ১০ নম্বর সড়কে যানবাহন ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধরা। পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন শ্রমিকের ওপর লাঠিচার্জ করতে দেখা গেছে পুলিশকে। 

রবিবার (১৯ মে) সকাল থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন চালকরা। এতে মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। গন্তব্যে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। দুপুরে কালশী রোড অবরোধ করেন আন্দোলনরত চালকরা।

তাদের দাবি, ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে রাস্তায় এলে পুলিশ ধরপাকড় করছে। তাদের অনেকের গাড়ি আটকে রেখেছে পুলিশ। কোনো শর্ত ছাড়াই রাস্তায় তাদের অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালাতে দিতে হবে।

দাবি না মানা পর্যন্ত রাস্তায় অবস্থান করার ঘোষণা দেন চালকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমঝোতার চেষ্টা চালাতে দেখা যায় পুলিশকে।

দুপুর ২টা ১৮ মিনিটের দিকে স্থানীয় সংসদ সদস ইলিয়াছ মোল্লা ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি শ্রমিকদের সরিয়ে বেশ কিছু গাড়ি চলাচলের পথ করে দিলে অটোরিকশাচালকরা তাতে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। জলকামান নিয়ে পুলিশ ফের শ্রমিকদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেয়। এরপর থেকে যান চলাচল শুরু হয়।

এমপি ইলিয়াছ মোল্লা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ আমাদের মানতে হবে। পাশাপাশি মানবিক দিকটিও আমাদের দেখতে হবে। এ সময় তিনি অটোরিকশাচালকদের কাছে দুই দিনের সময় চান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) জসিম উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে অটোরিকশাচালকরা তাদের দাবি নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। একপর্যায়ে আমরা রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য তাদের ধাওয়া করে সরিয়ে দিয়েছি।

পুলিশের উপস্থিতিতে ৫ ঘণ্টা মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর দখল করে রেখেছে, পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করছে কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিসি বলেন, এখানে নিরব ভূমিকা নয়, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে আমরা তাদের অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করেছি। তারা তাদের কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে অবস্থান করল। আজকে আমরা ধৈর্য ধরে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে হাইকোর্টের নির্দেশনা আমাদের সবাইকে পালন করতে হবে। এ জন্য একটু সময় নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য এলেন উনিও বোঝালেন। বোঝানের পরও তারা ইটপাটকেল ছুড়ে মারে, যা আপনাদের সাংবাদিকদের গায়ে, পুলিশের গায়ে লেগেছে। তারপর সরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডিসি বলেন, এটা অটোরিকশাচালকদের আন্দোলন। এখানে কেউ ইন্ধন দিয়েছে কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। আর যারা ভাঙচুর করেছেন ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অবরোধের কারণে মিরপুর অচল

অটোরিকশাচালকরা সড়ক অবরোধ করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ। চালকরা লাঠি হাতে সড়কের বিভিন্ন অংশে অবস্থান নেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাস্তা ফাঁকা থাকলেও গাড়ি চালাতে সাহস করছেন না অনেকে। তবে ঝুঁকি নিয়ে যারা গন্তেব্য যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তাদের অনেকে হামলার শিকার হয়েছেন।  এ অবস্থায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গন্তব্যমুখী মানুষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, অটোরিকশাচালকদের বিক্ষোভের কারণে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষদের কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।

মেট্রোরেলের ২ স্টেশনের গেট বন্ধ

বিক্ষোভের কারণে মেট্রোরেল ও যাত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনের দুটি গেট বন্ধ করে রেখেছে পুলিশ। এমআরটি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রিকশাচালকরা হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। সকাল থেকে এ অবস্থার কারণে এমআরটি পুলিশও নিরাপত্তা জোরদার করেছে মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনে।

এমআরটি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, মেট্রোরেল ও যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনের উত্তরের দুটি গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। এ গেট দুটি বন্ধ থাকলেও অন্য গেট যথারীতি খোলা রয়েছে এবং যাত্রীরা পারাপার হতে পারছেন।