মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীর যৌতুক মামলায় পুলিশ কর্মকর্তার কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি।

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় পুলিশের এক কর্মকর্তাকে দুই বছরের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে তাকে।

সোমবার (২০ মে) বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ইয়ারব হোসেন এই দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।

দণ্ডিত পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) ঈশা খান বর্তমানে ভোলা সদর থানায় কর্মরত। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার শেহাকাঠি গ্রামের মৃত ইয়াসিন খানের ছেলে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী হুমায়ুন কবির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামি ঈশা খান। পরে তাকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথীর বরাত দিয়ে বেঞ্চ সহকারী জানান, ২০১৭ সালের ২১ অক্টোবর বরিশাল নগরীর কাশিপুর ইছাকাঠি এলাকার বাসিন্দা মৃত গোলাম মোস্তফার মেয়ে শাহানাজ আফরোজের পারিবারিক প্রস্তাবের মাধ্যমে বিয়ে হয় পুলিশের এসআই ইশা খানের সাঙ্গে। ঘটনার সময় বরগুনা জেলায় কর্মরত ছিলেন এসআই ঈশা খান।

 

 

এদিকে বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল দেয়া হয়। বিয়ের কিছু মাস না যেতেই যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল দাবি করেন ইশা খান। এজন্য আড়াই লাখ টাকা দিয়ে তার দাবি পুরণ করেন শ্বশুর বাড়ির লোকেরা। এরপর পুনরায় দুই ভাইয়ের মদদে যৌতুক হিসেবে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি।

এ টাকা না দেওয়ায় প্রায় সময় গৃহবধূকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী। এরই মধ্যে শাহানাজ আফরোজ গর্ভবতী হয়ে পড়লেও তার ওপর বন্ধ হয়নি যৌতুক দাবিতে নির্যাতন। বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিমাংশা করতে গৃহবধূর চাচার বাড়িতে বসেন উভয় পক্ষ। এসময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায় স্ত্রীর পেটে লাথি মারে এসআই ঈশা খান। আঘাতজণিত কারণে ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর গর্ভপাত ঘটে শাহানাজের।

এ ঘটনায় শেবাচিম হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন গৃহবধূ। কিন্তু পরে ক্ষমা চেয়ে কৌশলে স্ত্রীকে দিয়ে অভিযোগ তুলে দেন ঈশা খা। এরপর আবারও শুরু হয় যৌতুক দাবিতে শারীরিক নির্যাতন। সবশেষ বিষয়টি সমাধানের জন্য বরিশাল পুলিশ লাইন্সের সরকারি বাসভবনে মামলার সাক্ষীর কক্ষে গেলে সেখানেও গৃহবধূর সাথে খারাপ ব্যবহার এবং যৌতুক নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করার হুমকি দেয়।

এই ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় স্বামী ঈশা খান ও তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন গৃহবধূ শাহানাজ আফরোজ। পরে একমাত্র ঈশা খানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরবর্তীতে সাক্ষগ্রহণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এসআই ঈশা খানকে কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

স্ত্রীর যৌতুক মামলায় পুলিশ কর্মকর্তার কারাদণ্ড

প্রকাশের সময় : ০৭:৩৮:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় পুলিশের এক কর্মকর্তাকে দুই বছরের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে তাকে।

সোমবার (২০ মে) বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ইয়ারব হোসেন এই দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।

দণ্ডিত পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) ঈশা খান বর্তমানে ভোলা সদর থানায় কর্মরত। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার শেহাকাঠি গ্রামের মৃত ইয়াসিন খানের ছেলে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী হুমায়ুন কবির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামি ঈশা খান। পরে তাকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথীর বরাত দিয়ে বেঞ্চ সহকারী জানান, ২০১৭ সালের ২১ অক্টোবর বরিশাল নগরীর কাশিপুর ইছাকাঠি এলাকার বাসিন্দা মৃত গোলাম মোস্তফার মেয়ে শাহানাজ আফরোজের পারিবারিক প্রস্তাবের মাধ্যমে বিয়ে হয় পুলিশের এসআই ইশা খানের সাঙ্গে। ঘটনার সময় বরগুনা জেলায় কর্মরত ছিলেন এসআই ঈশা খান।

 

 

এদিকে বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল দেয়া হয়। বিয়ের কিছু মাস না যেতেই যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল দাবি করেন ইশা খান। এজন্য আড়াই লাখ টাকা দিয়ে তার দাবি পুরণ করেন শ্বশুর বাড়ির লোকেরা। এরপর পুনরায় দুই ভাইয়ের মদদে যৌতুক হিসেবে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি।

এ টাকা না দেওয়ায় প্রায় সময় গৃহবধূকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী। এরই মধ্যে শাহানাজ আফরোজ গর্ভবতী হয়ে পড়লেও তার ওপর বন্ধ হয়নি যৌতুক দাবিতে নির্যাতন। বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিমাংশা করতে গৃহবধূর চাচার বাড়িতে বসেন উভয় পক্ষ। এসময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায় স্ত্রীর পেটে লাথি মারে এসআই ঈশা খান। আঘাতজণিত কারণে ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর গর্ভপাত ঘটে শাহানাজের।

এ ঘটনায় শেবাচিম হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন গৃহবধূ। কিন্তু পরে ক্ষমা চেয়ে কৌশলে স্ত্রীকে দিয়ে অভিযোগ তুলে দেন ঈশা খা। এরপর আবারও শুরু হয় যৌতুক দাবিতে শারীরিক নির্যাতন। সবশেষ বিষয়টি সমাধানের জন্য বরিশাল পুলিশ লাইন্সের সরকারি বাসভবনে মামলার সাক্ষীর কক্ষে গেলে সেখানেও গৃহবধূর সাথে খারাপ ব্যবহার এবং যৌতুক নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করার হুমকি দেয়।

এই ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় স্বামী ঈশা খান ও তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন গৃহবধূ শাহানাজ আফরোজ। পরে একমাত্র ঈশা খানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরবর্তীতে সাক্ষগ্রহণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এসআই ঈশা খানকে কারাদণ্ডের আদেশ দেন।