মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যশোরের ইজিবাইক চালক হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

যশোরের সুলতানপুরের ইজিবাইক চালক মফিজুর হত্যা মামলায় ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ মে) অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এক রায়ে এ আদেশ দিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সদরের হমিদপুর বিশ্বাস পাড়ার মকছেদ আলী বিশ্বাসের ছেলে ইকতিয়ার বিশ্বাস, মণিরামপুরের লক্ষণপুর গ্রামের মৃত হাছিম সরদারের ছেলে খোরশেদ আলম, ধানঘাটা গ্রামের বলরাম ঘোষের ছেলে গোপাল ঘোষ, হামিদপুর দক্ষিণপাড়ার জালাল উদ্দিনের ছেলে কাজল ও চানপাড়ার মফজেল বাড়ের এনামুল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত গোপাল ঘোষ ও ইকতিয়ার পলাতক রয়েছে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, মফিজুর ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নিবাহ করতেন। আসামিরা সবাই তার বন্ধু। গোপাল ঘোষ তার স্ত্রীকে নিয়ে বকচর হুসতলা এলকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। মফিজুর বন্ধু গোপালের বাসায় মাঝে মধ্যে বেড়াতে যেতেন। ২০০৫ সালের ১৪ এপ্রিল রাতে গোপালের স্ত্রী তার বাসায় খুন হয়। এ ঘটনায় প্রথমে গোপাল থানায় অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় অভিযোগ দিলেও পরে মফিজুরকে আসামি করে আদালত ও থানায় অভিযোগ দেন। মফিজুরকে পুলিশ আটক করে কারাগারে পাঠায়। মফিজুর জামিনে মুক্তি পেলে গোপাল তার স্ত্রী হত্যার প্রতিশোধ নিতে অপর আসামিদের সাথে একলাখ টাকায় চুক্তি করেন।

২০১১ সালের ২২ জুন প্রতিদিনের মত মফিজুর ইজিবাইক চালাতে বাড়ি থেকে শহরে আসেন। রাতে সিটি কলেজ পাড়ার বৌবাজার এলাকার একটি গ্যারেজে ইজিবাইক চার্জে দিয়ে তার সহকারী নয়নকে সাথে নিয়ে বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা হন। পথিমধ্যে ইকতিয়ার পাওনা টাকা দেয়ার কথা বলে মফিজুরকে ফোন দেন। মফিজুর ময়লাখানার ফুলতনা পাম্পের সামনে নেমে নয়নকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এরপর মফিজুর আর বাড়ি ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ২৪ এপ্রিল ঝুমঝুমপুর ময়লাখানা সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে মফিজুরের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী আয়েশা বেগম অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে কোতয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকালে ইকতিয়ার ও খোরশেদকে আটক করে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আটক দুইজনের জবানবন্দি ও সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ওই ৫ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১২ সালের ২৬ মার্চ আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন। দীর্ঘ সাক্ষী গ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

যশোরের ইজিবাইক চালক হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের সময় : ০৭:৪১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

যশোরের সুলতানপুরের ইজিবাইক চালক মফিজুর হত্যা মামলায় ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ মে) অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এক রায়ে এ আদেশ দিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সদরের হমিদপুর বিশ্বাস পাড়ার মকছেদ আলী বিশ্বাসের ছেলে ইকতিয়ার বিশ্বাস, মণিরামপুরের লক্ষণপুর গ্রামের মৃত হাছিম সরদারের ছেলে খোরশেদ আলম, ধানঘাটা গ্রামের বলরাম ঘোষের ছেলে গোপাল ঘোষ, হামিদপুর দক্ষিণপাড়ার জালাল উদ্দিনের ছেলে কাজল ও চানপাড়ার মফজেল বাড়ের এনামুল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত গোপাল ঘোষ ও ইকতিয়ার পলাতক রয়েছে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, মফিজুর ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নিবাহ করতেন। আসামিরা সবাই তার বন্ধু। গোপাল ঘোষ তার স্ত্রীকে নিয়ে বকচর হুসতলা এলকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। মফিজুর বন্ধু গোপালের বাসায় মাঝে মধ্যে বেড়াতে যেতেন। ২০০৫ সালের ১৪ এপ্রিল রাতে গোপালের স্ত্রী তার বাসায় খুন হয়। এ ঘটনায় প্রথমে গোপাল থানায় অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় অভিযোগ দিলেও পরে মফিজুরকে আসামি করে আদালত ও থানায় অভিযোগ দেন। মফিজুরকে পুলিশ আটক করে কারাগারে পাঠায়। মফিজুর জামিনে মুক্তি পেলে গোপাল তার স্ত্রী হত্যার প্রতিশোধ নিতে অপর আসামিদের সাথে একলাখ টাকায় চুক্তি করেন।

২০১১ সালের ২২ জুন প্রতিদিনের মত মফিজুর ইজিবাইক চালাতে বাড়ি থেকে শহরে আসেন। রাতে সিটি কলেজ পাড়ার বৌবাজার এলাকার একটি গ্যারেজে ইজিবাইক চার্জে দিয়ে তার সহকারী নয়নকে সাথে নিয়ে বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা হন। পথিমধ্যে ইকতিয়ার পাওনা টাকা দেয়ার কথা বলে মফিজুরকে ফোন দেন। মফিজুর ময়লাখানার ফুলতনা পাম্পের সামনে নেমে নয়নকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এরপর মফিজুর আর বাড়ি ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ২৪ এপ্রিল ঝুমঝুমপুর ময়লাখানা সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে মফিজুরের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী আয়েশা বেগম অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে কোতয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকালে ইকতিয়ার ও খোরশেদকে আটক করে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আটক দুইজনের জবানবন্দি ও সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ওই ৫ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১২ সালের ২৬ মার্চ আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন। দীর্ঘ সাক্ষী গ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।