মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য জোরদারে আগ্রহী এফবিসিসিআই

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআই।

সোমবার (২৭ মে) এফবিসিসিআই’র গুলশান কার্যালয়ে রুশ ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের সাথে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এই কথা জনান এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।

রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার ট্রেড কমিশনার ড. আলেকজান্ডার রাইবাস। এসময় এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, শমী কায়সার, বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আালেকজান্ডার ভি. ম্যান্টিটস্কি, এফবিসিসিআই’র পরিচালকবৃন্দ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত ভাষণে এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার একটি মাইলফলক।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য অনেক খাতে দুই দেশের ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য, প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং অন্যান্য পণ্যে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতি এবং সুলভ জনশক্তির সাথে রাশিয়ার আধুনিক প্রযুক্তি দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে এখন রপ্তানির জন্য প্রস্তুত। তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক। বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সবুজ পোশাক কারখানার মধ্যে শীর্ষ ৮টি কারখানাই বাংলাদেশে অবস্থিত। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এখন জনপ্রিয় হচ্ছে। এর বাইরেও ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক, হিমায়িত সামুদ্রিক খাবার, সিরামিক, পাট পণ্য, ভোগ্যপণ্য এবং গৃহস্থালী সামগ্রীর রপ্তানিকারক সুনাম কুঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

এসময় এফবিসিসিআই সভাপতি রুশ বিনিয়োগকারীদেরকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার বাণিজ্য কমিশনার ড. আলেকজান্ডার রাইবাস তার বক্তৃতায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে দারুণ সম্ভাবনা বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পারিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ভি. ম্যান্টিটস্কি বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের মতো রাশিয়াও দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে বি২বি মিটিং আয়োজনে আগ্রহী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআই সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী বাংলাদেশি ও রুশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে এফবিসিসিআই’র প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। রুশ বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এফবিসিসিআই সব ধরণের সহযোগিতা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ-রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য জোরদারে আগ্রহী এফবিসিসিআই

প্রকাশের সময় : ১১:০৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআই।

সোমবার (২৭ মে) এফবিসিসিআই’র গুলশান কার্যালয়ে রুশ ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের সাথে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এই কথা জনান এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।

রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার ট্রেড কমিশনার ড. আলেকজান্ডার রাইবাস। এসময় এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, শমী কায়সার, বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আালেকজান্ডার ভি. ম্যান্টিটস্কি, এফবিসিসিআই’র পরিচালকবৃন্দ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত ভাষণে এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার একটি মাইলফলক।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য অনেক খাতে দুই দেশের ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য, প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং অন্যান্য পণ্যে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতি এবং সুলভ জনশক্তির সাথে রাশিয়ার আধুনিক প্রযুক্তি দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে এখন রপ্তানির জন্য প্রস্তুত। তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক। বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সবুজ পোশাক কারখানার মধ্যে শীর্ষ ৮টি কারখানাই বাংলাদেশে অবস্থিত। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এখন জনপ্রিয় হচ্ছে। এর বাইরেও ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক, হিমায়িত সামুদ্রিক খাবার, সিরামিক, পাট পণ্য, ভোগ্যপণ্য এবং গৃহস্থালী সামগ্রীর রপ্তানিকারক সুনাম কুঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

এসময় এফবিসিসিআই সভাপতি রুশ বিনিয়োগকারীদেরকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার বাণিজ্য কমিশনার ড. আলেকজান্ডার রাইবাস তার বক্তৃতায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে দারুণ সম্ভাবনা বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পারিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ভি. ম্যান্টিটস্কি বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের মতো রাশিয়াও দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে বি২বি মিটিং আয়োজনে আগ্রহী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআই সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী বাংলাদেশি ও রুশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে এফবিসিসিআই’র প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। রুশ বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এফবিসিসিআই সব ধরণের সহযোগিতা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।