বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এমপি আনার হত্যাকান্ড : আসামিদের লোমহর্ষক বর্ণনা

কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জিভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে খুন হন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। রহস্যে ঘেরা এ হত্যাকাণ্ডের পর ধীরে ধীরে সামনে আসছে চাঞ্চল্যকরসব লোমহর্ষক তথ্য। এরই মধ্যে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এমপি আনারকে রিসিভ করার পর হত্যাকাণ্ডের সময় কলকাতার নিউটাউনের ওই ফ্ল্যাটেই ছিলেন শিলাস্তি রহমান।

শুক্রবার (৩১ মে) শিমুল ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ, তানভীর ভূঁইয়া ও শিলাস্তি রহমানকে আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান। কিন্তু আদালত এ তিন আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এই তিন আসামির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিবি জানায়, এমপি আনারকে হত্যা করার আগে কলকাতার সেই ফ্ল্যাটে ওঠেন শিলাস্তি রহমান। হত্যা করার সময় ফ্ল্যাটে ছিলেন তিনি। তার দায়িত্ব ছিল এমপি আনার যখন ফ্ল্যাটটিতে যাবেন তাকে রিসিভ করা। সেই অনুযায়ী শিলাস্তি রহমান ওই ফ্ল্যাটটিতে এমপি আনারকে রিসিভ করেন। এরপর থেকে আর এমপি আনারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার শিমুল ভূঁইয়া (৫৬) জিজ্ঞাসাবাদে ডিবিকে জানায়, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) শীর্ষস্থানীয় নেতা। খুলনা, জিনাইদহ, যশোরসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তথা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে এমপি আনারের আদর্শের বিরোধ ছিল। এছাড়া ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান ওরফে শাহিনের সঙ্গেও সংসদ সদস্যের বিরোধ ছিল। এই দুই বিরোধকে কেন্দ্র করে শাহিন ও শিমুল ভূঁইয়া আনারকে হত্যা করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পনা করছিলেন।

গত জানুয়ারি ও মার্চ মাসে দুবার আনারকে হত্যার পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হন। পরে শাহিন ভারতের কলকাতার অভিজাত নিউটাউন এলাকায় ২৫ এপ্রিল একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। পরিকল্পনায় যুক্ত হন শিলাস্তি রহমান। পরে তাদের সঙ্গে হত্যা পরিকল্পনার মিটিং করে শাহিন গত ১০ মে বাংলাদেশে চলে আসেন।

গত জানুয়ারি ও মার্চ মাসে দুবার তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হন তারা। পরবর্তীতে শাহিন ভারতের কলকাতার নিউটাউন অভিজাত এলাকায় চলতি মাসের এপ্রিল মাসের ২৫ তারিখে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। পরিকল্পনায় শামিল করা হয় শিলাস্তি রহমানকে। পরে তাদের সঙ্গে হত্যা পরিকল্পনার মিটিং করে শাহিন গত ১০ এপ্রিল বাংলাদেশে চলে আসেন।

ডিবির রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, পরবর্তীতে শিমুল ভূঁইয়া ও শাহিনের নির্দেশে অন্যান্য আসামিরা ভুক্তভোগীকে কৌশলে ব্যবসার কথা বলে কলকাতার ওই ফ্লাটে নিয়ে যান। পরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শিমুল ভুঁইয়া অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় আনারকে হত্যা করেন। হত্যার পর তার লাশের হাড়-মাংস আলাদা করে মাংসের ছোট ছোট টুকরো করা হয়। পরে সেগুলো ফ্ল্যাটের টয়লেটের কমোডে ফেলে ফ্লাশ করা হয়। এছাড়া হাড়সহ শরীরের অন্যান্য অংশ ট্রলিব্যাগে করে কলকাতার নিউটাউন থেকে দূরে একটি খালে ফেলে দেয় হত্যাকারীরা।

ডিবিকে গ্রেপ্তার শিমুল ভুঁইয়া আরও জানান, আনারকে হত্যা করা ও লাশ থেকে হাড় মাংস আলাদা করার কাজে আসামি ফয়সাল, মোস্তাফিজ ও জিহাদ সরাসরি জড়িত ছিলেন। হাড় ও শরীরের অন্যান্য অংশ দূরে ফেলে দেওয়ার কাজে সিয়ামসহ অজ্ঞাতনামা দু-একজন সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

এমপি আনার হত্যাকান্ড : আসামিদের লোমহর্ষক বর্ণনা

প্রকাশের সময় : ০১:২০:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪

কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জিভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে খুন হন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। রহস্যে ঘেরা এ হত্যাকাণ্ডের পর ধীরে ধীরে সামনে আসছে চাঞ্চল্যকরসব লোমহর্ষক তথ্য। এরই মধ্যে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এমপি আনারকে রিসিভ করার পর হত্যাকাণ্ডের সময় কলকাতার নিউটাউনের ওই ফ্ল্যাটেই ছিলেন শিলাস্তি রহমান।

শুক্রবার (৩১ মে) শিমুল ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ, তানভীর ভূঁইয়া ও শিলাস্তি রহমানকে আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান। কিন্তু আদালত এ তিন আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এই তিন আসামির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিবি জানায়, এমপি আনারকে হত্যা করার আগে কলকাতার সেই ফ্ল্যাটে ওঠেন শিলাস্তি রহমান। হত্যা করার সময় ফ্ল্যাটে ছিলেন তিনি। তার দায়িত্ব ছিল এমপি আনার যখন ফ্ল্যাটটিতে যাবেন তাকে রিসিভ করা। সেই অনুযায়ী শিলাস্তি রহমান ওই ফ্ল্যাটটিতে এমপি আনারকে রিসিভ করেন। এরপর থেকে আর এমপি আনারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার শিমুল ভূঁইয়া (৫৬) জিজ্ঞাসাবাদে ডিবিকে জানায়, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) শীর্ষস্থানীয় নেতা। খুলনা, জিনাইদহ, যশোরসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তথা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে এমপি আনারের আদর্শের বিরোধ ছিল। এছাড়া ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান ওরফে শাহিনের সঙ্গেও সংসদ সদস্যের বিরোধ ছিল। এই দুই বিরোধকে কেন্দ্র করে শাহিন ও শিমুল ভূঁইয়া আনারকে হত্যা করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পনা করছিলেন।

গত জানুয়ারি ও মার্চ মাসে দুবার আনারকে হত্যার পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হন। পরে শাহিন ভারতের কলকাতার অভিজাত নিউটাউন এলাকায় ২৫ এপ্রিল একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। পরিকল্পনায় যুক্ত হন শিলাস্তি রহমান। পরে তাদের সঙ্গে হত্যা পরিকল্পনার মিটিং করে শাহিন গত ১০ মে বাংলাদেশে চলে আসেন।

গত জানুয়ারি ও মার্চ মাসে দুবার তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হন তারা। পরবর্তীতে শাহিন ভারতের কলকাতার নিউটাউন অভিজাত এলাকায় চলতি মাসের এপ্রিল মাসের ২৫ তারিখে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। পরিকল্পনায় শামিল করা হয় শিলাস্তি রহমানকে। পরে তাদের সঙ্গে হত্যা পরিকল্পনার মিটিং করে শাহিন গত ১০ এপ্রিল বাংলাদেশে চলে আসেন।

ডিবির রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, পরবর্তীতে শিমুল ভূঁইয়া ও শাহিনের নির্দেশে অন্যান্য আসামিরা ভুক্তভোগীকে কৌশলে ব্যবসার কথা বলে কলকাতার ওই ফ্লাটে নিয়ে যান। পরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শিমুল ভুঁইয়া অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় আনারকে হত্যা করেন। হত্যার পর তার লাশের হাড়-মাংস আলাদা করে মাংসের ছোট ছোট টুকরো করা হয়। পরে সেগুলো ফ্ল্যাটের টয়লেটের কমোডে ফেলে ফ্লাশ করা হয়। এছাড়া হাড়সহ শরীরের অন্যান্য অংশ ট্রলিব্যাগে করে কলকাতার নিউটাউন থেকে দূরে একটি খালে ফেলে দেয় হত্যাকারীরা।

ডিবিকে গ্রেপ্তার শিমুল ভুঁইয়া আরও জানান, আনারকে হত্যা করা ও লাশ থেকে হাড় মাংস আলাদা করার কাজে আসামি ফয়সাল, মোস্তাফিজ ও জিহাদ সরাসরি জড়িত ছিলেন। হাড় ও শরীরের অন্যান্য অংশ দূরে ফেলে দেওয়ার কাজে সিয়ামসহ অজ্ঞাতনামা দু-একজন সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।