মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খরচ বাড়বে ধনীদের জমানো টাকায়

ছবি-সংগৃহীত

ব্যাংকে রাখা টাকার ওপর আবগারি শুল্কের স্তর ও হারে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এর ফলে ব্যাংকে ধনীদের জমানো টাকায় খরচ বাড়বে। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট পেশকালে তিনি এ প্রস্তাব করেন।

এদিন বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সংসদে পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। নতুন বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমানে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক হিসাবের স্থিতিতে কোনও আবগারি শুল্ক দিতে হয় না।  এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয় ১৫০ টাকা এবং পাঁচ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়। এই দুটি স্তরে কোনও পরিবর্তন আসছে না। ব্যাংক হিসাবের টাকা বছরে অন্তত একবার এসব স্তর স্পর্শ করলে আবগারি শুল্ক দিতে হয়। বর্তমানে ১০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত যে স্তরটি রয়েছে, সেটি ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে তিনি ১০ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত গচ্ছিত টাকায় আগের মতোই তিন হাজার টাকা আবগারি শুল্ক কেটে রাখার প্রস্তাব করেন। আর ৫০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ৩ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার টাকা, ১ কোটি টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা এবং ২ কোটি টাকা থেকে ৫ কোটি পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক করার প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমানে ১ কোটি টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতে ১৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক বসে।

কারও ব্যাংক হিসাবে বছরে একবার যদি স্থিতি ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে অতিক্রম করে, তাহলে সেই আমানতের ওপর আবগারি শুল্কের পরিমাণ আগের মতো ৪০ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক কেটে রাখার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

জানা গেছে, প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কোনও ব্যাংক হিসাবে আমানতের পরিমাণ যদি একবার এক লাখ টাকা বা তার ওপরের স্তরগুলোর সীমা স্পর্শ করে, তাহলে নির্দিষ্ট হারে আবগারি শুল্ক দিতে হয়। একাধিকবার স্পর্শ করলেও একবারই আবগারি শুল্ক কাটা হয়। কোনও হিসাবে এক লাখ টাকার কম থাকলে কোনও আবগারি শুল্ক কাটা হয় না।

এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বশেষবার ব্যাংকে থাকা টাকার ওপর আবগারি শুল্কের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপেক্ষাকৃত কম টাকার হিসাবধারীদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি বেশি টাকার হিসাবধারীদের কাছ থেকে বেশি আবগারি শুল্ক আদায় করতে চায় সরকার।

ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার ওপর আবগারি শুল্ক বসানো সাধারণত গ্রাহকের কাছে খুবই অজনপ্রিয় একটি বিষয়। বর্তমানে ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা ও বিমান টিকিট কেনা— এই দুই খাতের ওপর আবগারি শুল্ক বসে।

খরচ বাড়বে ধনীদের জমানো টাকায়

প্রকাশের সময় : ০৪:৫০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪

ব্যাংকে রাখা টাকার ওপর আবগারি শুল্কের স্তর ও হারে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এর ফলে ব্যাংকে ধনীদের জমানো টাকায় খরচ বাড়বে। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট পেশকালে তিনি এ প্রস্তাব করেন।

এদিন বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সংসদে পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। নতুন বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমানে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক হিসাবের স্থিতিতে কোনও আবগারি শুল্ক দিতে হয় না।  এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয় ১৫০ টাকা এবং পাঁচ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়। এই দুটি স্তরে কোনও পরিবর্তন আসছে না। ব্যাংক হিসাবের টাকা বছরে অন্তত একবার এসব স্তর স্পর্শ করলে আবগারি শুল্ক দিতে হয়। বর্তমানে ১০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত যে স্তরটি রয়েছে, সেটি ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে তিনি ১০ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত গচ্ছিত টাকায় আগের মতোই তিন হাজার টাকা আবগারি শুল্ক কেটে রাখার প্রস্তাব করেন। আর ৫০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ৩ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার টাকা, ১ কোটি টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা এবং ২ কোটি টাকা থেকে ৫ কোটি পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক করার প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমানে ১ কোটি টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতে ১৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক বসে।

কারও ব্যাংক হিসাবে বছরে একবার যদি স্থিতি ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে অতিক্রম করে, তাহলে সেই আমানতের ওপর আবগারি শুল্কের পরিমাণ আগের মতো ৪০ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক কেটে রাখার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

জানা গেছে, প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কোনও ব্যাংক হিসাবে আমানতের পরিমাণ যদি একবার এক লাখ টাকা বা তার ওপরের স্তরগুলোর সীমা স্পর্শ করে, তাহলে নির্দিষ্ট হারে আবগারি শুল্ক দিতে হয়। একাধিকবার স্পর্শ করলেও একবারই আবগারি শুল্ক কাটা হয়। কোনও হিসাবে এক লাখ টাকার কম থাকলে কোনও আবগারি শুল্ক কাটা হয় না।

এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বশেষবার ব্যাংকে থাকা টাকার ওপর আবগারি শুল্কের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপেক্ষাকৃত কম টাকার হিসাবধারীদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি বেশি টাকার হিসাবধারীদের কাছ থেকে বেশি আবগারি শুল্ক আদায় করতে চায় সরকার।

ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার ওপর আবগারি শুল্ক বসানো সাধারণত গ্রাহকের কাছে খুবই অজনপ্রিয় একটি বিষয়। বর্তমানে ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা ও বিমান টিকিট কেনা— এই দুই খাতের ওপর আবগারি শুল্ক বসে।